ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এবার উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ তথা শিলিগুড়ি করিডোরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সেনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তিনি সীমান্ত সিল করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার একধাপ এগিয়ে উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিলিগুড়ি করিডোরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করল তার সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় থেকে আটকে থাকা এই জমি হস্তান্তর প্রকল্প রাজ্য সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বড় ধরনের গতি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যে সমস্ত জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগই আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

তবে শুধু জমি হস্তান্তরই নয়, ভারতের জাতীয় সুরক্ষার কথা ভেবে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণে থাকা শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত–ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ, বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ এবং শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)–কার্শিয়াং–দার্জিলিং সম্পূর্ণ অংশ।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাস্তাগুলোর উন্নয়নকাজ সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত এলাকায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব গতি আসবে। এর ফলে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে রেশন সীমান্ত এলাকায় থাকা সেনাঘাঁটিগুলোতে অনেক দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর তথা ‘চিকেনস নেক’–কে দেশটির সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীনের তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করা এই করিডোরই উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’–এর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ।

উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোরের এই অংশটি মাত্র ২২ থেকে ৩৫ কিলোমিটার চওড়া। অত্যন্ত সরু বলেই একে মুরগির গলার বা ‘চিকেনস নেক’ হিসেবে তুলনা করা হয়। নিরাপত্তার দিক থেকে অঞ্চলটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় রাজ্য সরকারের একটি পরিকল্পনা থেকে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ৩১টি জায়গায় সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ মক ড্রিল আয়োজনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ১৭টি প্রক্রিয়াই রাখা হয়েছে এই চিকেনস নেক এলাকায়।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
ভারতে একসঙ্গে ১৫ মসজিদ সিলগালা করে দিলো বিজেপি সরকার 
পরীক্ষায় ৫০০-এর মধ্যে ৪৯৯ পেল ছেলে, মা বললেন আরও মন দিয়ে পড়া উচিত ছিল
বাংলাদেশিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা