ভারতের সিকিমে নির্মাণাধীন একটি টানেলে ভূমিধস ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অন্তত আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৮ জনের বেশি শ্রমিক টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী। খবর এনডিটিভির।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং এলাকার একটি নির্মাণাধীন টানেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। টানেলের ভেতরে ১৮ জনের বেশি শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হলেও সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টানেলের ভেতরে ভূমিধসের কারণে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেখানে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারী দল প্রথম দিকে টানেলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
উদ্ধারকাজে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ, দমকল ও জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
নামচি জেলার জেলা প্রশাসক অনুপা তামলিং জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রথমদিকে পুলিশ ও দমকলের সদস্যরা কোনো বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই দুবার টানেলে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা টানেলে প্রবেশ করে প্রথম দফায় ভেতরে থাকা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। এরপর নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে এখনো মিথেন গ্যাসের মাত্রা অনেক বেশি থাকায় আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কী কারণে ভূমিধস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে টানেল থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে তারা ভেতরে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনেছিলেন। এরপর দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এলেও অনেক শ্রমিক তখনও টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে যান।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সবাইকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/জেএমএ



