ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর একদিন পর অভিনেতা সালমান খান আন্দোলনকারী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ওয়াংচুককে বাড়ির তৈরি খাবার পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে সালমান খান বলেন, সোনম, হয়ে গেছে ভাই। এটা আর বাড়িও না। যদি ভবিষ্যতে প্রয়োজন হয়, সেই লড়াইয়ের জন্য শক্তি জমিয়ে রাখো— যদিও আমার মনে হয় না তার প্রয়োজন হবে। কিছু খেয়ে নাও। চাইলে আমি তোমার জন্য বাড়ি থেকে খাবার পাঠাতে পারি।
লাদাখে শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার জন্য পরিচিত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে অনশন করছেন। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।
সালমান খান আরও বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি লেখেন, শিক্ষা ও নিরাপত্তার দিক থেকে শিক্ষার্থীরাই দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই তাদের চিন্তা করার বা তাদের বাবা-মাকে দুশ্চিন্তায় রাখার প্রয়োজন নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টুইট করেছেন এবং আমি নিশ্চিত, তিনি এই প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাই শিক্ষার্থীরা, দয়া করে তোমরা বাবা-মাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাও।
এর আগে বলিউড তারকা সালমান খান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং তাদের আন্দোলনকে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার সতর্কতা দিয়েছিলেন।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রশংসা করেন এবং তাদের "সাহসী ও দৃঢ়" বলে উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, এই বিষয়টি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এটিকে রাজনৈতিকভাবে নেওয়া উচিত নয়। এর কৃতিত্ব শুধু আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য। আমি নিশ্চিত, সরকারও তাদের সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি সবার জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি হবে। একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা ও প্রার্থনা করছি। যারা শিক্ষিত হতে চান, তাদের সবাইকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন।
সালমান খান ছাড়াও অভিনেতা ওমি বৈদ্য, জিনাত আমান, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল, সোনাক্ষী সিনহা এবং রিতেশ দেশমুখসহ আরও কয়েকজন তারকা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
সালমান খানের পাশাপাশি এই বিষয়ে সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী কারিনা কাপুর।
ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম, কিন্তু আর চুপ থাকতে পারছি না। এত তরুণের কণ্ঠস্বর, যারা নিজেদের কথা শোনাতে চাইছে, তা উপেক্ষা করা অসম্ভব এবং করা উচিতও নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষা শিশুদের আশা দেয়, কিন্তু তা তখনই কার্যকর হয় যখন শিশুরা সেই ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে।
কারিনা বলেন, শিশুরা তখনই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, যখন তারা মনে করে সততা, পরিশ্রম ও যোগ্যতার আসলে কোনো মূল্য নেই। কোনো শিশুরই এমন ভাবা উচিত নয় যে তার পরিশ্রম যথেষ্ট হবে কি না। তারা এমন একটি ব্যবস্থার যোগ্য, যেখানে তারা বিশ্বাস রাখতে পারে, যেখানে যোগ্যতার মূল্য থাকবে, পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়া যাবে এবং প্রতিটি শিশু সমান সুযোগ নিয়ে শুরু করবে। এটি খুব বেশি কিছু দাবি নয়— এটি ন্যূনতম প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যখন একটি পুরো প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই কণ্ঠে কথা বলে, তখন তাদের কথা শোনা কোনো দয়া নয়— এটি আমাদের দায়িত্ব।
আরটিভি/ এসকেডি



