ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আমেরিকায় যে ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি থাকা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল শুধু ট্রাফিক জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়তে পারে গাড়ির বীমা, টোল, মেরামত ও জ্বালানি খরচেও। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, টোল বা পার্কিংয়ের জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করা এবং বীমার মূল্য তুলনা না করার কারণে বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

সাম্প্রতিক লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ১১ থেকে ১৫ মাইল বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা হলে গাড়ির বীমার খরচ গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বছরে গড়ে ৫২৪ ডলার ৭৪ সেন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত বীমা খরচ হতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধি আরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই ধরনের ট্রাফিক টিকিটের পর বীমার গড় খরচ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। অর্থাৎ একটি ট্রাফিক টিকিটের আর্থিক প্রভাব শুধু জরিমানা দেওয়ার মধ্যেই শেষ হয় না, পরবর্তী কয়েক বছরও বাড়তি বীমা খরচ বহন করতে হতে পারে।

আরেকটি সাধারণ ভুল হলো লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থেমে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া। লাল বাতির ক্যামেরায় ধরা পড়ার নিয়ম এবং জরিমানার পরিমাণ শহর ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। তাই পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করা যায় না। তবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিষয়টি নথিভুক্ত করলে তা চালকের ড্রাইভিং রেকর্ডে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বীমার খরচ বাড়ার কারণ হতে পারে। নিরাপদ অভ্যাস হলো লাল বাতি ও স্টপ সাইনে সম্পূর্ণভাবে গাড়ি থামানো।

গাড়ির বীমার ক্ষেত্রেও শুধু কম মাসিক খরচ দেখেই পলিসি নেওয়া ঠিক নয়। শুধু দায়বদ্ধতার বীমা থাকলে দুর্ঘটনায় অন্য ব্যক্তি বা তার সম্পত্তির ক্ষতির দায় মেটানো যায়, কিন্তু নিজের গাড়ির সব ধরনের ক্ষতির সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বীমাবিহীন বা অপর্যাপ্ত বীমা থাকা চালকের কারণে দুর্ঘটনা হলে বীমাবিহীন চালকের সুরক্ষা কাজে আসতে পারে। চুরি, আগুন, ভাঙচুর, শিলাবৃষ্টি বা সংঘর্ষ ছাড়া অন্যান্য কারণে গাড়ির ক্ষতি হলে ব্যাপক বীমা সুরক্ষা কাজে লাগতে পারে। কোন ধরনের বীমা বাধ্যতামূলক এবং কোনটি অতিরিক্ত, তা অঙ্গরাজ্য ও পলিসিভেদে ভিন্ন।

গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পিছিয়ে দেওয়াও পরে বড় খরচের কারণ হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিনের তেল পরিবর্তন, টায়ারের বাতাসের চাপ পরীক্ষা, ব্রেক, ব্যাটারি এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সার্ভিস করানো গুরুত্বপূর্ণ। ছোট সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত হলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। একইভাবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ইঞ্জিন সংক্রান্ত সতর্কতার বাতি জ্বলে উঠলে সেটি দীর্ঘদিন উপেক্ষা না করে কারণ পরীক্ষা করা উচিত। তবে শুধু সতর্কতার বাতি জ্বলেছে বলেই নির্দিষ্ট কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরীক্ষা করে প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করার পর মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

টোল ও পার্কিংয়ের জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং বা ক্যামেরার জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, পার্কিং টিকিট পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ১০ ডলার বিলম্ব জরিমানা যোগ হতে পারে এবং সময় গড়ালে অতিরিক্ত পেনাল্টিও যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে গাড়িতে চাকা আটকানো বা গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও হতে পারে।

টোলের ক্ষেত্রেও একইভাবে সময়মতো বিল পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট থ্রুওয়ের বিভিন্ন রুটে ই-জেডপাস ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে টোল বাই মেইলের তুলনায় কম হারে টোল দিতে পারেন। টোল বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ফি যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। নিয়মিত গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের তাই ই-জেডপাস অ্যাকাউন্ট সচল রাখা এবং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও পেমেন্টের তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে। গাড়ির মালিকের নির্দেশিকায় যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, সেটিই ব্যবহার করা উচিত। যেসব গাড়িতে সাধারণ মানের পেট্রোল ব্যবহার করা যায়, সেখানে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বেশি দামের প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করলে সাধারণত বাড়তি পারফরম্যান্স বা জ্বালানি সাশ্রয়ের উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে গাড়ি প্রস্তুতকারক যদি প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার বাধ্যতামূলক বা সুপারিশ করে, সে ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

সবশেষে, একই ড্রাইভিং রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বীমা কোম্পানি একই চালকের জন্য ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। তাই পলিসি নবায়নের সময় শুধু বর্তমান কোম্পানির প্রস্তাবিত মূল্য গ্রহণ না করে কয়েকটি কোম্পানির বীমা কোট তুলনা করা যেতে পারে। ক্রেডিট স্কোরও কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়ির বীমার মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এর নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন এবং সব জায়গায় ক্রেডিট স্কোরের প্রভাব একই নয়।

গাড়ির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় কোনো পদক্ষেপের চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট বিষয় নজরে রাখাই বেশি কার্যকর হতে পারে। গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে টায়ারের বাতাসের চাপ, ড্যাশবোর্ডের সতর্কতার বাতি, ই-জেডপাস বা টোল অ্যাকাউন্ট এবং বীমা পলিসির তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো ট্রাফিক টিকিট, পার্কিং জরিমানা বা টোল বিল পেলে সেটি ফেলে না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে আপত্তি জানানো উচিত। অঙ্গরাজ্য, শহর, গাড়ির মডেল, চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড এবং বীমা পলিসির ধরন অনুযায়ী প্রকৃত খরচ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট জরিমানা বা বীমার খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষ, টোল কর্তৃপক্ষ এবং বীমা কোম্পানির সর্বশেষ তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ৯ জন ছিলেন।
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ শহরে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোর দূরত্ব মাত্র ৯ মাইল (১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার)।
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ জন রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের। এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।  নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী। এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউ জার্সিতে বাড়ি কেনার কথা ভাবলেই অনেকের কাছে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। তবে অঙ্গরাজ্যটির কিছু শহর ও আবাসিক এলাকায় এখনো দেড় লাখ ডলার বা তার কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।  কোথাও ছোট আকারের বাড়ি, কোথাও পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট বয়সীদের জন্য গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি এলাকার কথা তুলে ধরেছে আবাসন ও ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস। তালিকার প্রথমে রয়েছে ওশান কাউন্টির ম্যানচেস্টার টাউনশিপের হোয়াইটিং এলাকা। এখানে ক্রেস্টউড ভিলেজের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে এক ও দুই শয়নকক্ষের ছোট বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিছু বাড়ির দাম ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের নিচেও থাকতে পারে। এলাকাটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শান্ত পরিবেশে থাকতে আগ্রহীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ক্রেস্টউড ভিলেজের কয়েকটি প্রকল্প ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাড়ি কেনার আগে বয়সসংক্রান্ত শর্ত, সমবায় মালিকানার নিয়ম এবং মাসিক ফি যাচাই করা জরুরি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলাডেলফিয়ার কাছের ক্যামডেন শহর। এখানে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি বা রো-হোম পাওয়া যেতে পারে। কিছু বাড়ি বসবাসের উপযোগী অবস্থায় থাকলেও অন্যগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে।  ডেলাওয়্যার নদীর অপর পাশে ফিলাডেলফিয়া হওয়ায় কর্মসূত্রে শহরটিতে যাতায়াতকারীদের জন্য ক্যামডেন ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক। তবে শহরের সব এলাকায় আবাসন পরিস্থিতি এক নয়। তাই বাড়ি কেনার আগে পাড়া, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে অবস্থিত ফিলিপসবার্গও কম দামের বাড়ির সম্ভাব্য ঠিকানা হিসেবে প্রতিবেদনে রয়েছে। নিউ জার্সির পশ্চিম প্রান্তের এই শহরে পুরোনো ছোট বাড়ি ও টাউনহোম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  নদীর অপর পাশে পেনসিলভানিয়ার ইস্টন শহর থাকায় বাসিন্দারা দুই এলাকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কম দামের অনেক বাড়িতে সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেনার আগে কাঠামোগত অবস্থা ও সংস্কারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত আটলান্টিক সিটিও তালিকায় রয়েছে। শহরটির পর্যটন এলাকা থেকে কিছুটা দূরের আবাসিক পাড়ায় ছোট বাংলো ও কন্ডো দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। সমুদ্রসৈকত, বোর্ডওয়াক এবং পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার সুযোগ এ এলাকার আকর্ষণ।  তবে কন্ডো কেনার ক্ষেত্রে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ফি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়ম জানা জরুরি। সম্পত্তির অবস্থান ও মূল্যায়নের ওপর করের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। ফলে শুধু কেনার দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসিক ও বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত সালেম শহরও সাশ্রয়ী আবাসনের সম্ভাব্য জায়গা। সালেম কাউন্টির এই শহরে পুরোনো একক পরিবারের বড় বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়িতে চার বা তার বেশি শয়নকক্ষ এবং প্রশস্ত বসার জায়গা রয়েছে।  শহরটির ইতিহাস ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামীণ পরিবেশ, স্থানীয় দোকানপাট ও কৃষিপণ্যের বাজার এখানকার জীবনযাত্রার অংশ। তবে পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাদ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন ও ভিত্তির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি গ্লুচেস্টার সিটিও তালিকায় রয়েছে। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে ক্যামডেনের দক্ষিণে অবস্থিত এ শহরে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি ও ছোট কটেজ ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। বেন ফ্র্যাঙ্কলিন ও ওয়াল্ট হুইটম্যান সেতু দিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।  সাম্প্রতিক বাজারের তালিকাতেও গ্লুচেস্টার সিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে বাড়ির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। তবে প্রতিটি বাড়ির অবস্থা ও অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ওশান কাউন্টির লিটল এগ হারবার টাউনশিপে রয়েছে মিস্টিক শোরস নামের আবাসন প্রকল্প। এখানে ছোট আকারের সংযুক্ত বাড়ির দাম প্রায় দেড় লাখ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন হওয়ায় সব ক্রেতা এখানে বাড়ি কেনার যোগ্য নন।  প্রকল্পটিতে সাধারণ সুবিধা, পরিচর্যা করা উন্মুক্ত জায়গা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। বারনেগেট বে এবং লং বিচ আইল্যান্ডের সৈকত কাছাকাছি হওয়ায় মাছ ধরা, নৌভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির বৃহত্তম শহর ভিনল্যান্ডও কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য একটি সম্ভাব্য এলাকা। এখানে একতলা র‌্যাঞ্চ ধরনের বাড়ি ও সংস্কার প্রয়োজন এমন পুরোনো বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। শহরটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, খোলা জায়গা এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার জীবনযাত্রায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।  তবে সাম্প্রতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ভিনল্যান্ড অঞ্চলে বাড়ির মধ্যম বিজ্ঞাপিত মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার। ফলে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি খুঁজতে হলে নির্দিষ্ট কিছু কম দামের বা সংস্কার প্রয়োজন এমন সম্পত্তির দিকে নজর দিতে হবে। নিউ ইয়র্কের কাছাকাছি থাকতে চান, এমন ক্রেতাদের জন্য তালিকায় রয়েছে এসেক্স কাউন্টির ইস্ট অরেঞ্জ। এখানে ছোট স্টুডিও ও এক শয়নকক্ষের কন্ডো ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনজে ট্রানজিটের রেলসেবা ব্যবহার করে ইস্ট অরেঞ্জ থেকে নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে যাওয়া যায়।  ভবনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে বাইরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ জায়গার দেখভাল করে। তবে কন্ডো কেনার আগে মাসিক সমিতি ফি, ভবনের আর্থিক অবস্থা এবং মেরামতের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। তালিকার শেষের দিকে রয়েছে বার্লিংটন কাউন্টির পেমবার্টন টাউনশিপের ব্রাউনস মিলস এলাকা। পাইনল্যান্ডস অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই এলাকায় দুই শয়নকক্ষের ছোট কটেজ দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। কাছাকাছি রয়েছে জয়েন্ট বেস ম্যাকগুইয়ার-ডিক্স-লেকহার্স্ট সামরিক ঘাঁটি।  এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং ঘাঁটিতে কর্মরত বেসামরিক ব্যক্তিদের একটি অংশ এলাকায় বসবাস করেন। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হাঁটার পথ, কায়াকিং এবং বনাঞ্চলে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল। তবে তালিকায় থাকা সব এলাকায় দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি সব সময় পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়ির দাম, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির সংখ্যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।  নিউ জার্সির আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপিত দামের সঙ্গে তালিকার কিছু এলাকার দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। তাই সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান দাম, সম্পত্তি কর, সংস্কার ব্যয়, কন্ডো বা সমবায় ফি এবং বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, রিয়েলটর ডটকম ও জিলো।   আরটিভি/এসআর
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে শোভা পাচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সুপরিচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের পোশাকে যুক্ত হয়েছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল। এনওয়াইপিডির ইউনিফর্মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, আবেগ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।  বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি পুলিশ বাহিনীর পোশাক সরবরাহের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে যাওয়া দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বৈশ্বিক সুনামের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিএসবিনিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাকে বাংলাদেশের নাম থাকার বিষয়টি প্রথম গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্ক সিটির রাজপথে নিয়মিত টহল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ দমনে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন এনওয়াইপিডি সদস্যরা। অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড ও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এই বাহিনীর সদস্যদের বিশেষায়িত পোশাক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়।  ফলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল থাকা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের পেশাদারি সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার অনন্য প্রমাণ। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সাধারণত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শার্ট, প্যান্ট কিংবা জ্যাকেটের মতো সাধারণ বাণিজ্যিক পোশাক সেখানে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে সাধারণ পোশাকের তুলনায় রাষ্ট্রীয় কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে বাড়তি গুণগত মান ও সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করছেন, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খোদ এনওয়াইপিডিতে কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। যে শহরের সুরক্ষায় প্রবাসীরা অবদান রাখছেন, সেই শহরের মূল পুলিশ সদস্যদের পোশাকে নিজ দেশের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সাধারণ প্রবাসীরা। এনওয়াইপিডির সুনির্দিষ্ট কোন ধরনের পোশাকে এই লেবেল রয়েছে বা ঠিক কত পরিমাণ পোশাকের চালান বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। তবে বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্রের এই সরবরাহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।   আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে শোভা পাচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
আরও পড়ুন
জন্ম কারাগারে, সংগ্রাম ও মেধায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই হার্ভার্ড জয় তরুণীর
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিউইয়র্ক ম্যারাথনে নামছেন প্রুইট
ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
ডালাসের ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরের টার্মিনালে চার গেট চালু