চীনে ভ্রমণের সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে বহু বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক আত্মীয়ের সন্ধান পেলেন এক ব্যক্তি। শুধু একজন অচেনা পর্যটকের ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ থেকেই শুরু হয় কথোপকথন।
পরে সেই আলাপেই জানা যায়, তারা একই পরিবারের সদস্য। কয়েক দশক পর আবারও এক হতে যাচ্ছে দুই পরিবার। এ তথ্য জানিয়েছে 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'।
সাংহাইয়ের বাসিন্দা চেন জিয়ে চলতি জুলাইয়ের শুরুতে কাজের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে যান।
কাজের ফাঁকে তিনি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লুগু হ্রদ ঘুরতে যান। ৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে তিনি হ্রদের পাশে সূর্যোদয় উপভোগ করছিলেন। এ সময় এক বয়স্ক পর্যটক তাকে নিজের একটি ছবি তুলে দিতে বলেন। ছবি তোলার পর দুজনের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তা শুরু হয়।
কথা বলতে বলতে তারা জানতে পারেন, তাদের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আলাপের এক পর্যায়ে চেন জানতে পারেন, ওই পর্যটকের পদবি ফেই। তিনি তাইওয়ানের কাওশিউং শহরের বাসিন্দা।
তবে তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল চীনের চেচিয়াং প্রদেশের থুংশিয়াং এলাকার ছোট শহর পুইউয়ানে। এ কথা শুনে চেন বিস্মিত হন।কারণ তার নিজের বাড়িও একই শহর পুইউয়ানে। এরপর তারা একসঙ্গে একটি ছবি তোলেন এবং একে অপরের যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরে ওই পর্যটক সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে গিয়ে চেনের মনে সন্দেহ হয়, তারা হয়তো আত্মীয়।
চেন বিষয়টি তার বাবাকে জানান। তখন তার বাবা জানতে চান, ওই ব্যক্তির বাবার নাম ফেই ইউনফেং কি না। চেন বিষয়টি ফেইকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সেটি নিশ্চিত করেন। এরপর পরিবারের পুরোনো তথ্য মিলিয়ে চেন নিশ্চিত হন, ফেই আসলে তাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই পরিবারের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
চেন জানান, ফেইয়ের বাবা এবং তার নিজের দাদা ছিলেন আপন ভাই। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার আগে ফেইয়ের বাবা কুওমিনতাং বাহিনীর সঙ্গে তাইওয়ানে চলে যান। এরপর দুই পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে চেনের দাদাকে পরে চেন পদবির এক দম্পতি দত্তক নেন। এর ফলে তার পদবিও বদলে যায়। এই কারণেই এত বছর ধরে দুই পরিবারের সদস্যরা একে অপরের খোঁজ পাননি। চেন বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী ফেই তার চাচা হন।
চেন বলেন, প্রায় ২০ সদস্যের তাদের বড় পরিবারকে তিনি পুরো ঘটনাটি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, পরিবারের সবাই মনে করছেন, এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক কাকতালীয় ঘটনা, যেন জাদুর মতো। অন্যদিকে ফেইও এই ঘটনার কথা ভেবে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে তখন অনেক মানুষ ছিলেন। কিন্তু ছবি তুলে দেওয়ার জন্য তিনি শুধু চেন জিয়েকেই বেছে নিয়েছিলেন। ফেইর বিশ্বাস, তাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল বলেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, আগামী মাসে তিনি পুইউয়ান সফরে যাবেন। সেখানে চেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা করবেন। চেন বলেন, এত বছর পর দুই পরিবারের সম্পর্ক আবার তৈরি হয়েছে। এখন সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতে ধরে রাখার দায়িত্ব হয়তো তাদের প্রজন্মের ওপরই থাকবে।
আরটিভি/এসএস



