
ঢাকার ধামরাইয়ে একটি চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানার শয়নকক্ষে ঢুকে ইনচার্জ ও ক্যাশিয়ার লি পেংগুইকে (চীনা নাগরিক) রশি দিয়ে বেঁধে লকার থেকে নগদ ৭০ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ধামরাই থানায় দায়ের করা এই মামলার (নম্বর ২৬)। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর থেকেই অপরাধীদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সময় কারখানার পেছনের অংশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বেলিশ্বর এলাকায় ‘জিয়াংশু স্টোরেজ ব্যাটারি বিডি কোং লি.’ নামে ওই কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ধামরাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
কারখানার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে কারখানার ইনচার্জ লি পেংগুই দোতলায় তার শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে অন্তত তিনজনের একটি মুখোশধারী দল কারখানার পেছনের টয়লেটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ওই চীনা কর্মকর্তার গলায় ছুরি ধরে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে তার কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নিয়ে লকারে রাখা নগদ ৭০ লাখ টাকা লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের এই দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ভবনের যে অংশ দিয়ে অপরাধীরা ভেতরে ঢুকেছিল, সেখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। ফলে ঘটনার কোনো ফুটেজ পায়নি পুলিশ। এর আগেও এই কারখানায় ৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে। আগের ঘটনার সঙ্গে এবারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, কারখানার অভ্যন্তরীণ কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে এই চক্রের যোগসাজেশ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি বা চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী চীনা নাগরিকের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



