চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শতাধিক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ভারতীয় নার্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৫২ পিএম


চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শতাধিক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ভারতীয় নার্সের
চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার নার্স। ছবি: সংগৃহীত

৬৫ বছর বয়সী ডাক্তারের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ভারতের রাজস্থানের এক নার্স, উল্টো ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। 

কমলা ওরফে কমলেশ নামের ওই নার্স শুক্রবার বারমের আদালতে পেশ করার আগে একটি ভিডিও বার্তায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জানান। ডাক্তারকে একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ হিসেবে দাবি করে নার্স অভিযোগ করেন, ওই ডাক্তার তার হাসপাতালে যাওয়া বেশ কয়েকজন নারী রোগীকেও নির্যাতন করেছেন।

ডাক্তারের ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার, তাকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নার্সটিকে গ্রেপ্তার করার পর এই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের পর পুলিশ তাকে আদালতে পেশ করলে আদালত তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। শুনানিতে হাজির হওয়ার আগেই নার্সটি ভিডিও বার্তাটি রেকর্ড করেন এবং ডাক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

ডাক্তারকে ‘এক নম্বর ধর্ষক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওই নার্স দাবি করেন, ডাক্তার বছরের পর বছর ধরে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতন করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালে যাওয়া বেশ কয়েকজন নারী রোগীকেও তিনি নির্যাতন করেছেন এবং অতীতে কিছু নারী পুলিশের কাছেও গিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযুক্ত নার্সের মতে, অতীতে করা সেই অভিযোগগুলো বেশি দূর এগোয়নি কারণ ডাক্তার টাকা দিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার তোলা অভিযোগগুলোকে ধামাচাপা দিতেই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির এই সাজানো মামলা করা হয়েছে।

হাসপাতালের অন্য কর্মীদের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলে এই নার্স দাবি করেন, হাসপাতালের দুই কর্মী ওই ডাক্তারকে নারী সংগ্রহ করে দিতে সাহায্য করতেন।

তবে পুলিশ এই অভিযোগগুলোর কোনোটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং এগুলো যে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনও অফিসিয়াল ইঙ্গিতও এখনও পাওয়া যায়নি।

মামলাটি শুরু হয় ওই ডাক্তারের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত নার্স ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ডাক্তারের ব্যক্তিগত হাসপাতালে প্রধানত রাতের শিফটে কাজ করছিলেন।

অভিযোগ অনুসারে, নার্সটি চা বানানোর অজুহাতে হাসপাতালের চার তলায় ডাক্তারের ব্যক্তিগত ঘরে ঢুকতেন। তেমনই একটি সফরের সময়, তিনি নাকি ডাক্তারের অজান্তেই তার মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি নিজের ফোনে ট্রান্সফার করে নেন।

আরও পড়ুন

ডাক্তার অভিযোগ করেন, নার্সটি পরে টাকা না দিলে সেই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার, তাকে ধর্ষণের, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং এমনকি তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

নিজের ব্যক্তিগত সুনাম ও হাসপাতালের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয়ে ডাক্তার জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে তাকে টাকা দিয়ে আসছিলেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission