প্রচণ্ড তাপদাহ ও শুষ্ক বাতাসের কারণে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ফ্রান্স। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উভয় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ।
রোববার(২৫ জুলাই) সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া, মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চলে আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যেই দেশটিতে দাবানলে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভ্যালেন্সিয়ার মানিসেস এলাকায় ল’আইগুয়া গিরিখাত থেকে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি অঞ্চল থেকেই প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ২৮ হাজার মানুষ এখনও নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। চলতি বছরে দেশটিতে ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলের অবস্থা সবচেয়ে মারাত্মক। সেখানে রাতারাতি আরও ৫৫ হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফ্রান্সেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আড়াই লাখে গিয়ে ঠেকেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর দেশটিতে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফরাসি দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই আগুন এখন নিজেই তীব্র বাতাসের ঘূর্ণি তৈরি করছে, যার ফলে আগুনের গতিপথ ঘন ঘন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আগুন নেভানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংকট মোকাবিলায় ফরাসি সরকার দমকলকর্মীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা বনাঞ্চলে অগ্নিনিরোধক পথ (ফায়ারব্রেক) তৈরি করে আগুন ছড়ানো ঠেকানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আরটিভি/এআর




