নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের বিহার ও আসাম সরকার। নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার (২৭ জুলাই) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার আগে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকার আর কোনো শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক আইনি ব্যবস্থা নেবে না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর ডাকা ‘বিহার বনধ’ কর্মসূচির সময় মোট ৬৯৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৩৩৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ৩৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল।
এর আগে, ২২ জুলাই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর একটি মিছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে পৌঁছানোর পর সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের বিধায়ক সন্দীপ সৌরভ এবং বিহারের সাবেক মন্ত্রী তেজ প্রতাপ যাদব। সন্দীপ সৌরভকে বিহার বনধের এক দিন আগে এবং তেজ প্রতাপ যাদবকে বনধ কর্মসূচির সময় আটক করা হয়েছিল।
বিহার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর, ফৌজদারি মামলা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার বা আটক সবাইকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
একই দিনে আসাম সরকারও অনুরূপ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। রাজ্যটির স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগ জানায়, নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে হওয়া আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার আগে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনো বিরূপ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। মামলাগুলো যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, আইন অনুযায়ী দ্রুত সেগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তিও নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে আসাম সরকার।
আরটিভি/এসকে



