ফ্রান্সের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০১:১৩ পিএম


ফ্রান্সের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদল । ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন কূটনীতিকরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

এই কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর ভোটকে কেন্দ্র করে। ওই ভোটে যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে একযোগে টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ভোট দেয়।

এরপর জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে। সেখানে বলা হয়, একসময় যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা ছিল, কিন্তু এখন আর সেই অবস্থানে নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

আরও পড়ুন

এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফ্রান্সের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স এমন একজন ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে, যিনি গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে উপদেশ দেন, অথচ বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক শাসকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

উল্লেখ্য, ভলকার টুর্ক অতীতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া বলেছেন, ফ্রান্স তাদের 'অহংকারী ও অসম্মানজনক' মন্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

ভলকার টুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদ ১৪৪টি দেশের সমর্থনে অনুমোদিত হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

এই ভোটকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের মধ্যকার টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং একাধিক সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস টুর্কের পুনর্নিয়োগের সমালোচনা করে বলেন, যারা অনিয়ম, গোপন সমঝোতা এবং জাতিসংঘের পদের অপব্যবহার মেনে নেয়, তাদের এই সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পৃক্ততা ও অর্থায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

অন্যদিকে, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট ভলকার টুর্ককে 'বিবেকের কণ্ঠস্বর' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, প্রথম মেয়াদে টুর্ক দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

এদিকে পুরো ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেছেন, জাতিসংঘ আশা করে, সব সদস্য রাষ্ট্র সংস্থাটির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে।

 

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission