ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

এক শর্তে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ইতি টানতে পারেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি না হলেও আপাতত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়, তাহলে পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি সংঘাত শেষ করার ঘোষণা দিতে পারেন।

তবে এ পথও খুব সহজ নয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত মানতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা রাজি হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। সংঘাতের মধ্যে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

এর পাশাপাশি বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

ইরান আরও চায়, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযান বন্ধ করতে হবে বলে দাবি করেছে দেশটি।

তেহরানের এসব শর্তের কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ট্রাম্পের ওপর ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর মধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দামও বেড়েছে।

ফলে সংঘাত থেকে দ্রুত কোনো অর্জন দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন ট্রাম্প— এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তবে মিত্রদের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত সেই হামলা থেকে সরে আসেন।

এর আগে কয়েকবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।

গত ৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এমন একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন, যার শিরোনাম ছিল— ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন’।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অন্যতম কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান দাবিও ছিল, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে।

কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। এ কারণে এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানের পক্ষে দ্রুত সেই কর্মসূচি পুনর্গঠন করা কঠিন হবে।

তার ধারণা, ইরান আবার পারমাণবিক স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করলে মার্কিন গোয়েন্দারা তা শনাক্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

এই হিসাব থেকেই পারমাণবিক চুক্তির বদলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন ট্রাম্প।

তবে সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে ইরানের আর্থিক দাবি।

আরও পড়ুন

তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অর্থ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত চাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইরানকে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে ইরানের কিছু জব্দ সম্পদ ছাড়তে হতে পারে। অবশ্য এর সঙ্গে শর্তও থাকতে পারে।

এ ছাড়া ইরানকে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এর আগে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার সময় ইরানের তেল রপ্তানিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা ভেঙে যায় এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ— এসব দাবির সমাধানই এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ। নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্বি হিলসকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী। 
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী
‘ট্রাম্পকে তুলে ডাস্টবিনে ফেলার’ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এই ভিডিওটি নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
‘ট্রাম্পকে তুলে ডাস্টবিনে ফেলার’ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে প্রার্থনা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে বসে প্রার্থনা করার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে প্রার্থনা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের মধ্যে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিনের পরবর্তী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। 
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
আরও পড়ুন
‘ট্রাম্পকে তুলে ডাস্টবিনে ফেলার’ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি
নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প