ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দফায় দফায় আফটারশক, নিহত বেড়ে ১৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। আহত হয়েছেন আরও ৫৭০ জন। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে দফায় দফায় আফটারশকের খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া এই ভূমিকম্পে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়েছে বহু ভবন, বন্ধ রয়েছে কয়েকটি বিমানবন্দর এবং এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতির সংকটও দেখা দিয়েছে।

সোমবার সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে হতাহতের তথ্য সামনে এনেছে কলম্বিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিজ। ভূমিকম্পের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক বৈঠকেও অংশ নিয়েছিল সংগঠনটি। সংগঠনটি জানিয়েছে, শুধু পেরেইরা শহরেই ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির পাঁচটি রাজধানী শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ধসে পড়েছে ৮৬টি ভবন এবং সাতটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোমবারের এই ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। রাজধানী বোগোতা থেকে জায়গাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কংক্রিটের বড় টুকরো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যালিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। ক্যালির ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মোনকায়ো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলার মেঘ উঠতে দেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার কখনও হয়নি। আমরা বেঁচে আছি, এ জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।’

ক্যালিতে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে অংশ নেয়া হুয়ান কার্লোস অসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, একটি ভবন ধসে পড়ার শব্দ ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ মনে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা সব প্রতিবেশী একসঙ্গে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে কাজ করছি। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা শপথ নেয়ার মাত্র কয়েক দিন পর এই ভূমিকম্প আঘাত হানায় তার সরকারের সামনে এটিই প্রথম বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের স্মৃতিও এখনও তাজা।

স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন দে লা এসপ্রিয়েলা। তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে জাতীয় সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার’। দে লা এসপ্রিয়েলা তখন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক হিসাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়েছেন। পরে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছায়। পাশাপাশি বহু ভবন ধসে পড়া এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কফি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রিসারালদা এলাকাতেই অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলের রাজধানী পেরেইরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোতে এখনও জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলেই ক্যালি শহর অবস্থিত। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।

আরও পড়ুন

কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরা। এসব বিমানবন্দরের কাঠামো নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করছেন প্রকৌশলীরা।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ রিং অব ফায়ার-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় কলম্বিয়ায় স্থানীয়ভাবে ‘তেমব্লোরেস’ নামে পরিচিত ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই হয়। তবে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প সেখানে বিরল।

১৯৯৯ সালে আরমেনিয়া শহরের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, সোমবারের ভূমিকম্পটি একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। 
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। খবর গালফ নিউজের মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এনসিএম জানায়, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, ধূলিঝড় এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডার, হাইল ও নাজরান অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মক্কা নগরী ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আদহাম ও আল আরদিয়াত এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিগ ও খুলাইস এলাকায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। এনসিএম আরও জানিয়েছে, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও টর্নেডো ও জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া কেন্দ্রের হালনাগাদ পূর্বাভাস ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ আরটিভি/এসকে
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়বেন কাতারের আমির
কাতারে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ ‘সালাতুল ইস্তিসকা’ আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়বেন কাতারের আমির
থানার ভেতরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সব পুলিশ বরখাস্ত
ভারতের ঝাড়খণ্ডে থানার ভেতরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কর্মরত ১৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
থানার ভেতরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সব পুলিশ বরখাস্ত
আরও পড়ুন
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬