ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যু, গুঞ্জন ঘিরে পাকিস্তানে তীব্র উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগারে মারা গেছেন এমন গুঞ্জন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এ খবরকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান দাবি করেন, সামরিক বাহিনীর কয়েকটি সূত্রের কাছ থেকে তিনি ইমরান খানের মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে সাংবাদিকের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ইমরান খানের মৃত্যুর খবর নাকচ করে দেয়।

ইমরান খানের দল পিটিআই অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে স্বচ্ছতা দাবি করেছে। দলটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের বোন, আইনজীবী ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন এমন দাবির দৃশ্যমান প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

পিটিআই নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্বচক্ষে যাচাইয়ের সুযোগ না দিলে বড় ধরনের আন্দোলনে নামবেন তারা। দলের নেতারা ইসলামাবাদ অভিমুখে ব্যাপকসংখ্যক সমর্থক নিয়ে লংমার্চ ও বিক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারেই বন্দি। তার বন্দিজীবন, স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার বিতর্ক ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালেও ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় তার বোন উজমা খানমের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়। কারাগার কর্তৃপক্ষও তখন ইমরান খান সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছিল।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে সাংবাদিকের নতুন দাবির কারণে। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে, ইমরান খানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সদস্য বা চিকিৎসকদের সরাসরি সাক্ষাতের বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় পিটিআই ও তার সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইমরান খান মারা গেছেন এমন দাবি নিশ্চিত নয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীও এ খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে প্রার্থনা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে বসে প্রার্থনা করার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে প্রার্থনা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের মধ্যে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিনের পরবর্তী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। 
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
মাত্র ছয় মাসের জন্য বিমানসেবিকার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্যারল ফেয়ার। পরিকল্পনা ছিল, এরপর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন।
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
আরও পড়ুন
হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন, প্রতারণার ফাঁদে প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস-বিডিএসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান
স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
এলপিজির তীব্র সংকট পাকিস্তানে