ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ বছরেও বদলায়নি তালেবান, হতাশ আফগান নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
আফগানিস্তানের বাঘলান প্রদেশের একটি গ্রামের মধ্য দিয়ে দুই মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে । ছবি: সংগৃহীত

কাবুলের দক্ষিণের একটি গ্রামের সাদামাটা ভবনের নিচতলায় কয়েকজন তরুণী ব্যস্ত চেরি ও বরইয়ের জ্যাম তৈরিতে। কেউ বড় পাত্রে ফল নাড়ছেন, কেউ কাচের বোতলে লেবেল লাগাচ্ছেন। তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে নারীদের দক্ষতা অর্জন ও কাজের সুযোগ এখন খুবই সীমিত। তাই এই ছোট উদ্যোগটিই অনেক নারীর জন্য আশার জায়গা।

এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সী আফগান নারী উদ্যোক্তা নাজিয়া। ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া নাজিয়া নয় সন্তানের মা। তার মেয়েসহ এই কর্মশালার অনেক তরুণীরই আজ স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার কথা ছিল। কিন্তু তালেবান সরকার মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তাদের সেই পথ বন্ধ।

এখন কর্মক্ষেত্রেও বাড়ছে নতুন বাধা। সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, নারীরা নিজেরা বাজারে পণ্য নিতে পারবেন না; তাদের পণ্য বিক্রির জন্য পুরুষের সহায়তা নিতে হবে। বাণিজ্য মেলাতেও নারীদের বদলে পুরুষদের পণ্য প্রদর্শনের নিয়ম করা হয়েছে।

নাজিয়া বলেন, তালেবানের সঙ্গে বিশ্বের অন্যভাবে কথা বলা প্রয়োজন। কারণ এখন পর্যন্ত যে পদ্ধতিতে চাপ দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আফগান নারীদের জীবন বদলানো জরুরি, কারণ তারা ধীরে ধীরে আশা হারিয়ে ফেলছেন।

পাঁচ বছরেও বদলায়নি পরিস্থিতি

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে নারীদের জনজীবনের বড় অংশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ আফগান কোনো না কোনো ধরনের বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সংঘাত এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আফগানদের ফেরত পাঠানোর ঘটনায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তালেবান সরকার নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। তারা কর আদায় করছে এবং খনিজ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে।

আরও পড়ুন

রাশিয়া এখন পর্যন্ত তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগান দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে তালেবানের হাতে যাচ্ছে। বর্তমানে ৪০টির বেশি আফগান দূতাবাস তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, সম্পর্কের উন্নতি করতে হলে দূর থেকে কথা না বলে কূটনৈতিকভাবে আরও কাছাকাছি আসতে হবে।

চাপ নয়, আলোচনার পথ?

জাতিসংঘ মনে করছে, তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, অগ্রগতি ধীর, সীমিত এবং অনেক সময় আবার পিছিয়েও যায়। তারপরও কোনো আলোচনা না থাকার চেয়ে আলোচনা চলমান থাকা ভালো।

তবে আফগান নারী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলছে, শুধু আলোচনা করে লাভ হচ্ছে না। তাদের মতে, তালেবানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট শর্ত দিতে হবে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাস্তব পরিবর্তন ছাড়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।

আফগান অধিকারকর্মী মাহবুবা সেরাজ বলেন, গত পাঁচ বছরে নারীদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন খুবই কম। তার পরিচালিত নির্যাতিত নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রও গত ডিসেম্বরে বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে হতাশা থাকলেও তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবানের সঙ্গে কথা চালিয়ে যেতে হবে। তবে সেই আলোচনা যেন শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ বছর পর এসে পরিষ্কার হয়েছে যে, শুধু আন্তর্জাতিক চাপ দিয়ে তালেবানের নীতি পরিবর্তন করানো সহজ নয়। আবার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ আফগান জনগণ।

নাজিয়ার জ্যাম তৈরির ছোট কর্মশালার মতো সীমিত কিছু উদ্যোগ এখনো আফগান নারীদের সামনে টিকে থাকার সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু নতুন নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

পাঁচ বছর পরও তাই আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিশ্বের সঙ্গে আলোচনায় কি বদলাবে তালেবান, নাকি পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আফগান সমাজের ভেতর থেকেই?

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই খালি জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পরপরই চরম এক নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হয়। তার বক্তব্য শুরু হওয়ার সাথে সাথেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে দলবেধে বাইরে চলে যান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই খালি জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট / মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবা বা মিডওয়াইফারির কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে।
মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের নতুন করে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন।
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
আরও পড়ুন
নারীদের শরীরে অতিরিক্ত লোম কেন হয় 
নারী রেফারিকে হেনস্তার অভিযোগে বরখাস্ত হিগুয়েইন
এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়
দুই গ্রামে শিয়ালের তাণ্ডব, নারী-শিশুসহ আহত ৯