
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ফের অনুপস্থিত থাকলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) নয়াদিল্লির লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই অনুপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের এই দুই শীর্ষ নেতা।
এর আগে ২০২৪ সালেও রাহুল গান্ধী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা ছিলেন। এই পদমর্যাদা একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমান। রাহুল গান্ধীকে অনুষ্ঠানে পিছনের দিকের দ্বিতীয় সারিতে বসানো হয়েছিল। এ নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়ে বিষয়টিকে দলের পাশাপাশি জনগণের জন্যও অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছিল।
বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে এমন জায়গায় বসানো অসম্মানজনক। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই আসন বিন্যাসকে শুধু রাহুল গান্ধীর প্রতি নয়, দেশের বিরোধী দল এবং তাদের সমর্থকদের প্রতিও অসম্মান বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগ মানতে চায়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আসন বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তবে অনুষ্ঠানটির আয়োজক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অলিম্পিয়ানদের বসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে আসন বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রচলিত প্রটোকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতার সামনের সারিতে থাকার কথা।
এদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। অধিবেশনে আইন পাস ও সংসদীয় কার্যক্রমের গতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরকে দায়ী করেছে।
অধিবেশনে মোট ১২টি বিল পাস হলেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে মাত্র একটি বিল নিয়ে। অধিবেশনের শেষ দিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দেওয়া প্রচলিত চা-চক্রও বর্জন করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি।
ফলে স্বাধীনতা দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।
আরটিভি/টিআর


