
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স/ইপসোসের চার দিনব্যাপী সর্বশেষ যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমে তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া ওই জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে প্রায় ৬৪ শতাংশ নাগরিক তার বিষয়ে স্পষ্ট অসন্তোষ জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকেও তার সমর্থনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। বর্তমান মেয়াদের এই সর্বনিম্ন রেটিং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্নের সমান।
জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার এই যুদ্ধ বা সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনায় বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় এক সরবরাহ রুট স্তব্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে পেট্রোলের দাম হু হু করে বেড়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, একটি বিপজ্জনক দেশকে পারমাণবিক শক্তি অর্জন থেকে বিরত রাখতে পেট্রোলের দাম কিছুটা বেশি দেওয়া যুক্তিসংগত। তবে জরিপ বলছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন যে এই সংঘাত বা যুদ্ধের মূল্য চুকানো যৌক্তিক।
চলতি মাসে অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারেও ভোটারদের কাছে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে গেছে ডেমোক্র্যাটরা। জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রয়েছে ৩৫ শতাংশের। এমনকি ট্রাম্পের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র ‘কঠোর অভিবাসন নীতিতেও’ রিপাবলিকানদের জনসমর্থন আগের চেয়ে নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।
অনলাইনে দেশজুড়ে পরিচালনা করা এই রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মতামত দেন। জরিপটির ফলাফলে ৩ শতাংশ পয়েন্টের সম্ভাব্য ভুল (মার্জিন অব এরর) থাকতে পারেও জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এআর


