ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প, পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি কাঁপাছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একটি ক্ষয়ক্ষতির পুরনো দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গত এক মাসে ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার তিনটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগে গত জুনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উত্তর ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকা। একটির পর একটি এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আবারও সেই পুরোনো প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে—আমাদের পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি কাঁপছে?

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ২০ হাজার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫টি। তবে এসব কম্পনের অধিকাংশের তীব্রতা এতই কম থাকে যে মানুষ তা অনুভবই করতে পারে না। সাধারণত ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ বা তার ওপর পৌঁছালে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়।

চলতি ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি রেকর্ড করা হয়েছে ফিলিপাইনে। জুনে দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের মিনদানাও উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এক শর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি দেখেছে ভেনেজুয়েলা।

আরও পড়ুন

জুনে দেশটিতে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি কম্পনে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক জুলাইয়ে মেক্সিকো এবং আগস্টে কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ বা তারচেয়েও বেশি।

১০ বছরের ভূমিকম্প ও ২০২৬ সালের পরিস্থিতি

২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বছরে গড়ে ১৩৩টি ৬ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এই দশকে ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন ৯৯টি এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ১৫৭টি বড় মাপের ভূমিকম্প নিবন্ধিত হয়।

চলতি ২০২৬ সালের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বে ৬ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার অন্তত ৯১টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি ছিল ৭ বা তার বেশি মাত্রার। এই সংখ্যাটি গত এক দশকের গড় গতির চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও ভূতাত্ত্বিকদের মতে এটি একদমই স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮ বা ৯ মাত্রার কোনো মহাবিপর্যয়কারী ভূমিকম্প ঘটেনি।

ভূকম্পনবিদদের মতে, কোনো ভূমিকম্প কতটা প্রাণঘাতী হবে, তা এর মাত্রার চেয়ে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর বেশি নির্ভর করে। রিখটার স্কেলের সংখ্যার চেয়ে ভূমিকম্পের গভীরতা, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নৈকট্য এবং স্থানীয় অবকাঠামোর স্থায়িত্ব সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। গত এক দশকের ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলো কিন্তু মাত্রার দিক থেকে সবচেয়ে বড় ছিল না; বরং সেগুলো ছিল ঘনবসতিপূর্ণ জনপদের ঠিক নিচে আঘাত হানা কম্পন।

‘ভূমিকম্পের মৌসুম’ বলে কি কিছু আছে?

না, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ‘ভূমিকম্পের মৌসুম’ বলে কিছু নেই। দীর্ঘমেয়াদি রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বছরজুড়ে ভূমিকম্প ঘটলেও এর নির্দিষ্ট কোনো ঋতুভিত্তিক প্যাটার্ন বা ধারা থাকে না। ইউএসজিএস-এর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশাল টেকটোনিক প্লেটের সীমান্ত বরাবর দশক বা শতক ধরে তৈরি হওয়া ভূগর্ভস্থ চাপ কখনো ১২ মাসের কোনো নির্দিষ্ট চক্র মেনে মুক্তি পায় না। সে কারণে বিজ্ঞানীরা কখনোই নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না যে ঠিক কখন একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানবে।

তবে একটি বড় ভূমিকম্পের পর তার অণুকম্পন (আফটারশক) কয়েক মাস বা ক্ষেত্রবিশেষে কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

একক ভূমিকম্পের নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়ার বদলে ভূকম্পনবিদেরা মূলত নির্দিষ্ট অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে একটি বড় ভূমিকম্প ঘটার সম্ভাব্য হার বা ঝুঁকি হিসাব করেন। এই হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই এলাকাভিত্তিক সুরক্ষিত জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধি (বিল্ডিং কোড) তৈরি করা হয়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করে। এ ছাড়া বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পন শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জরুরি সতর্কবার্তা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম পরিচালনা করা হয়।

ভূমিকম্প কোথায় বেশি ঘটে?

বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' বা অগ্নিবলয়। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পই এই এলাকায় ঘটে থাকে। এটি মহাদেশীয় উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকা থেকে শুরু করে দূরপ্রাচ্যের রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চলে জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো অবস্থিত।

তবে শুধু রিং অব ফায়ারেই ভূমিকম্প হয় না। জাভা থেকে হিমালয়, এরপর তুরস্ক ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আল্পাইড বলয়েও বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় ১৭ শতাংশ এই অঞ্চলে আঘাত হানে। এ ছাড়া কোনো প্লেটের সীমানা থেকে অনেক দূরেও ভূমিকম্প হতে পারে। এসব এলাকায় মাটির নিচে থাকা বহু পুরনো চ্যুতি বা ফাটল বরাবর মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের পরিমাপের সমীকরণ

ভূমিকম্পের আকার বা শক্তির মাত্রা মূলত ‘মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল’-এ পরিমাপ করা হয়, যা ভূগর্ভস্থ ফাটল স্থানে মুক্ত হওয়া মোট শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে।

এটি একটি লগারিদমীয় স্কেল। অর্থাৎ এই স্কেলে মাত্রার প্রতিটি পূর্ণসংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ হলো ভূকম্পনের তীব্রতা ১০ গুণ বেড়ে যাওয়া এবং নির্গত শক্তির পরিমাণ প্রায় ৩২ গুণ বৃদ্ধি পাওয়া।

বিষয়টি পরিষ্কার করতে গেলে—৪ থেকে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে হালকা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সামান্য ঝাঁকুনি ও কিছু ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ৪ মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ বেশি তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি করে এবং ৩২ গুণ বেশি শক্তি মুক্ত করে, যা মাঝারি মাত্রার ক্ষতি সাধন করতে পারে।

একইভাবে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পকে শক্তিশালী ধরা হয়, যা ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি কাঁপন এবং ১ হাজার গুণ বেশি শক্তি ছড়ায়। আর ৭ মাত্রার ভূমিকম্পকে ধরা হয় অতি বড় দুর্যোগ হিসেবে, যা বিস্তৃত জনপদে ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংস ও প্রাণহানি ঘটাতে পারে। রিখটার স্কেলে ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পকে মহাবিপর্যয়কর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যা মাইলের পর মাইল এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে সক্ষম।

সার্বিকভাবে, ভূমিকম্প কত বড় বিপর্যয় আনবে তা কেবল তার মাত্রার ওপর নির্ভর করে না; ভূগর্ভস্থ গভীরতা, লোকালয়ের দূরত্ব, মাটির গঠন এবং সুনামি ও ধসের মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগ সৃষ্টির আশঙ্কাই চূড়ান্ত ধ্বংসলীলার ব্যাপ্তি নির্ধারণ করে।

ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

রেকর্ডকৃত ইতিহাসে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ১৯৬০ সালের ২২ মে চিলির ভালদিভিয়াতে। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার সেই ভয়াবহ ভূকম্পন সমগ্র প্রশান্ত মহাসাগরে ধ্বংসাত্মক সুনামি সৃষ্টি করেছিল।

এর চার বছর পর ১৯৬৪ সালে অ্যালিস্কার প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ড অঞ্চলে ৯ দশমিক ২ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে ৯ দশমিক ১ থেকে ৯ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হওয়া সুনামিতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
ভারতের আসামে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তাকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোরও চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা।
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
মন্দিরে আটকে রেখে দুই নারীকে ধর্ষণ, পুরোহিতসহ গ্রেপ্তার ২
ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে মন্দিরে আটকে রেখে তফশিলি সম্প্রদায়ের দুই নারীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পালিয়ে গেছেন মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত।
মন্দিরে আটকে রেখে দুই নারীকে ধর্ষণ, পুরোহিতসহ গ্রেপ্তার ২
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আলোচনায় এসেছে ১৩ হাজার ডলারেরও কম দামে কেনা একটি পুরোনো টেসলা মডেল এস। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চালানোর পরও গাড়িটি একবার চার্জে ২২১ মাইল চলতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি গাড়ি বিষয়ক গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান এডমন্ডসের পরিচালিত এক পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।  নতুন অবস্থায় প্রায় ৭০ হাজার ডলার বা তার বেশি দামের এই বিলাসবহুল গাড়ি এখন মূল দামের তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন পারফরম্যান্স পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এডমন্ডস জানিয়েছে, তারা ১৩ হাজার ডলারের কম দামে গাড়িটি কেনার পর নিজেদের প্রচলিত ইভি রেঞ্জ টেস্টের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করে। পরীক্ষায় বাস্তব পরিস্থিতিতে এক চার্জে গাড়িটি ২২১ মাইল চলেছে। গাড়ি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইডইভিএস এই ফলাফলকে গাড়িটির ক্রয়মূল্য বিবেচনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে।  বিশেষ করে ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চলার পরও গাড়িটি যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছে, তা পুরোনো টেসলা কেনার সম্ভাব্যতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। গাড়িটির সুনির্দিষ্ট ট্রিম বা সংস্করণ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এর চলার দূরত্ব ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি টেসলা মডেল এস ৮৫ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংস্করণের নতুন অবস্থায় ঘোষিত রেঞ্জ ছিল প্রায় ২৬৫ মাইল।  সেই হিসাবে পরীক্ষায় পাওয়া ২২১ মাইল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তবে এটি গাড়িটির ব্যাটারির অবশিষ্ট সক্ষমতার চূড়ান্ত পরিমাপ নয়, বরং নির্দিষ্ট পরীক্ষায় পাওয়া বাস্তব রেঞ্জ। শুধু ব্যাটারির পারফরম্যান্স নয়, গাড়িটির গতিও পরীক্ষকদের নজর কেড়েছে। পুরোনো ও একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন টায়ার ব্যবহার করা সত্ত্বেও গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫ সেকেন্ড।  এক-চতুর্থাংশ মাইলের দৌড় শেষ করতেও সময় লেগেছে ১৩ দশমিক ৩ সেকেন্ড। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন গতিশীলতা এর মোটর ও ড্রাইভিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছে। এডমন্ডসের পরীক্ষায় গাড়িটির ভেতরের পরিবেশও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। পরীক্ষকদের মতে, গাড়িটি এখনো বেশ নীরব, আরামদায়ক এবং রাস্তায় স্থিতিশীল। পুরোনো হলেও এর বিলাসবহুল অনুভূতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে সবকিছুই যে ভালো অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। গাড়িটির পেছনের মোটর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে, চালকের সামনের ডিসপ্লেতে ক্ষতি রয়েছে এবং পাওয়ার টেইলগেটের কার্যক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এসব অংশে মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর কোনো ওয়ারেন্টি নেই। ফলে ব্যাটারি, মোটর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের পুরো খরচ নতুন মালিককেই বহন করতে হবে। কম দামে বিলাসবহুল টেসলা কেনার সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নতুন মালিকের জন্য বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আরটিভি/এসআর
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স
নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় বিকল্প আবাসনের খোঁজ করছেন অনেক ক্রেতা। তাদের পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কুইন্স।  তুলনামূলক কম দামে বড় বাসা পাওয়ার পাশাপাশি শহুরে জীবনযাপনের সুবিধা ধরে রাখতে পারায় ম্যানহাটন থেকে কুইন্সের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বাড়ির ক্রেতাদের। Realtor.com-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র। নিউ ইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো, ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বাড়ির বিজ্ঞাপনে অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।  এতে দেখা গেছে, বরোগুলোর মধ্যে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে কুইন্স পেয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান। কুইন্সের বাড়ির বিজ্ঞাপনে বাইরের বরো থেকে আসা আগ্রহের মধ্যে ম্যানহাটনের বাসিন্দাদের অংশই ৪৫ শতাংশের বেশি। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ম্যানহাটনে বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ অনুসন্ধানকারী। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ অনুসন্ধান অন্য বরোগুলোর বাড়ির বিজ্ঞাপনের দিকে যাচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যান অনলাইন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি। এর অর্থ এই নয় যে ম্যানহাটনের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা ইতোমধ্যে অন্য এলাকায় চলে গেছেন বা বাড়ি কিনেছেন। নিজ নিজ বরোর বাড়ির বিজ্ঞাপনে আগ্রহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড। সেখানে প্রায় ৮৭ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।  কুইন্সে এ হার ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ব্রঙ্কসে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ব্রুকলিনে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানহাটনের কম অনুসন্ধান ধরে রাখতে পারার পেছনে বাড়ির উচ্চমূল্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।শহর খুঁজুন বাড়ির দামের ব্যবধানেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ম্যানহাটনে বাড়ির বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার।  একই সময়ে কুইন্সে এই দাম ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা ম্যানহাটনের অর্ধেকেরও কম। ব্রুকলিনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার ডলার, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার। কুইন্সের আবাসন বাজারে আগ্রহ বাড়ার আরেকটি কারণ সেখানে বাড়ির তুলনামূলক বেশি সরবরাহ। ২০২৬ সালের আগস্টে বরোটিতে বিক্রির জন্য সক্রিয় বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৪০টি। বিপরীতে ব্রঙ্কসে ছিল মাত্র ১ হাজার ৪২টি।  Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই জুয়ের মতে, ব্রঙ্কসে দাম তুলনামূলক কম হলেও কুইন্সে বাড়ির বিকল্প বেশি থাকায় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বাসা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ম্যানহাটন থেকে কুইন্সে আসা ক্রেতাদের বড় অংশই তুলনামূলক বড় জায়গা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান। কুইন্স হোম টিমের আবাসন প্রতিনিধি জেরালডিনে গিরালদো Realtor.com-কে জানান, তার অভিজ্ঞতায় তরুণ দম্পতি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াবাসায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কুইন্সে বাড়ি কেনার আগ্রহ বেশি। তাঁদের অনেকেই অন্তত ৮৫০ বর্গফুটের বাসা খুঁজছেন। বিশেষ করে দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট তাঁদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটি, অ্যাস্টোরিয়া ও বেসাইড ম্যানহাটন থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। এসব এলাকায় গণপরিবহনের যোগাযোগ, খাবারের বৈচিত্র্য এবং শহুরে পরিবেশের কারণে আগ্রহ বাড়ছে।  এ ছাড়া সানিসাইড ও উডসাইড এলাকাতেও বাড়ির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতাদের নজর পড়ছে। আবাসন প্রতিনিধি আন্দ্রেস পুলি মনে করেন, এসব এলাকায় ম্যানহাটনের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়, আবার তুলনামূলক বেশি ব্যক্তিগত পরিসরও মেলে। কুইন্সে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নতুন নির্মিত কনডোমিনিয়াম বা ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্ট। তবে কেউ কেউ বড় পরিবারের জন্য একক বাড়ি কিনছেন।  আবার কয়েকটি পরিবারের একসঙ্গে বসবাস কিংবা বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়ে ঋণের খরচ সামলানোর উদ্দেশ্যে বহুতল আবাসনও কিনছেন অনেকে। তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের মধ্যে তুলনামূলক কম দামের কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে।শহর খুঁজুন এদিকে কুইন্সের সানিসাইড এলাকায় আবাসন উন্নয়নের একটি বড় পরিকল্পনাও রয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় উঠে এসেছে সানিসাইড ইয়ার্ডের ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরির প্রস্তাব।  প্রকল্পটির জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল চেয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন আবাসনের পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে। তবে অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সব মিলিয়ে বাড়ির উচ্চমূল্য, তুলনামূলক বেশি আবাসন সরবরাহ এবং ম্যানহাটনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগের কারণে কুইন্স নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়ির ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ বলছে, শহরের ভেতরেই তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের কাছে আপাতত সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য কুইন্স। আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণকারী মানুষের জন্য নতুন বছরের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। ২০২৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩.৬ শতাংশ বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ঘোষিত হার কার্যকর হলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ ডলার বেশি পেতে পারেন।মানচিত্র দেখুন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ঘোষণার ভিত্তিতে এই বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী সমান অঙ্কের বাড়তি অর্থ পাবেন না। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ বেশি হলে বাড়তি অর্থও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। আবার স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা অন্যান্য কর্তন থাকলে হাতে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।  অবসরভাতা ও প্রতিবন্ধিতাজনিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার নতুন অঙ্ক ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থপ্রদানে কার্যকর হবে। অন্যদিকে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা জানুয়ারির অর্থ আগাম ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পেতে পারেন। তাই ডিসেম্বরের শেষ দিকে অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হলে সেটি কোন মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একক ব্যক্তি ও দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ সহায়তাঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচিতে যোগ্য একক ব্যক্তির সর্বোচ্চ মাসিক ফেডারেল সহায়তা ১ হাজার ২৯ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৫৪৪ ডলার হতে পারে। এগুলো সর্বোচ্চ নির্ধারিত অঙ্ক; প্রত্যেকের প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ নয়। আয়, সম্পদ, পারিবারিক অবস্থা এবং অন্যান্য নিয়মের ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থ কম হতে পারে। সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে নতুন ভাতার বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারবেন। অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি না পেলে ডাকযোগে পাঠানো চিঠিও যাচাই করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ভাতার পরিমাণ এবং প্রযোজ্য কর্তনের তথ্য উল্লেখ থাকবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর পড়া চাপ কিছুটা কমানো। তবে ভাতা বাড়লেও বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে গেলে পরিবারের আর্থিক চাপ পুরোপুরি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য নতুন ভাতার বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য অর্থ জানতে সরকারি হিসাব ও ব্যক্তিগত বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করা উচিত। আরটিভি/এসআর
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার
আরও পড়ুন
৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো চিলি