ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রকেট বানিয়ে নাসায় অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
ছবি প্রতীকী

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম।

নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত ৯ মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ।

পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন।

আরও পড়ুন

নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে।

চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন

রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা।

২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।

নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।

আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ অনুদান, নতুন নিয়মে আবেদন নিচ্ছে সরকার
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, জানালো যুক্তরাষ্ট্র 
মেরিন শিক্ষানবিশ কোর্সে ভর্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন
একাদশে ভর্তির চূড়ান্ত ফল রাত ৮টায়, জানা যাবে যেভাবে