
কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং এ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে আগামী ১০ বছরে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে মেটা প্ল্যাটফর্মসকে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে করা এক সমঝোতার আওতায় এ অর্থ পরিশোধ করবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার সময়সীমা থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাবে না।
এ ছাড়া স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বেশিরভাগ পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখবে মেটা। বয়সসীমা নির্ধারিত কনটেন্টে শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কয়েকটি অঙ্গরাজ্য জানিয়েছে, সমঝোতার আওতায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিশুদের জন্য ক্ষতিকর ও আসক্তিকরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরি করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে করা একটি বড় ফেডারেল মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এই সমঝোতার মাধ্যমে। তবে চুক্তির অংশ হিসেবে মেটা কোনো ধরনের অন্যায় স্বীকার করেনি।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, মেটা জেনেশুনে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তুলছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, স্কুল ও ব্যক্তির করা এ ধরনের আরও বহু মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে এই সমঝোতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। চুক্তিতে মেটাকে ব্যক্তিগত কনটেন্ট সংগ্রহ বা টার্গেটেড বিজ্ঞাপন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সমালোচকদের মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরিবর্তন প্রয়োজন।
এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের জন্য প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবক ও কিশোর-কিশোরী উভয়ের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও মেটাকে ৪৫৯ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সূত্র: সামা টিভি
আরটিভি/এসকে


