
নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে পুনঘোষণা ও জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কয়েক দিনের মাথায় আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পূর্ব উপকূলে সমুদ্রকে লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর তিনটার দিকে ওনসান শহর থেকে প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব সাগরে (জাপান সাগর) ছোড়া হয়, যা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়।
প্রথম উৎক্ষেপণের পরপরই সিউলের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ যৌথভাবে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রযুক্তিগত ধরণ বিশ্লেষণে নামে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংকে এসব উসকানিমূলক পরীক্ষা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। টোকিও এই পরীক্ষাকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার মাত্র আট দিন আগে এক যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে বেশ কিছু স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। চলতি সপ্তাহে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাব উঠলে পিয়ংইয়ং তা সরাসরি নাকচ করে দেয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং অতি সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশের পারমাণবিক শক্তির অবস্থান চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়। সিউলের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার হাতে প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
আরটিভি/এআর




