
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া একটি ব্যাংকের লকারকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লকারটি ভেঙে ভেতরের অর্থ লুটের অভিযোগে ইতোমধ্যে ২৯ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এতে বলা হয়, রসুয়া জেলার ভোতেকোশি এলাকা থেকে বন্যায় লকারটি ভেসে যায়। পরে ধাদিংয়ের গলছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলা এলাকায় ত্রিশুলি নদীর কাছে সেটি পাওয়া যায়। ধাদিং পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ওই লকার ভেঙে ভেতরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে গেছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠানো হয় এবং শুরু হয় তদন্ত।
প্রাথমিক তল্লাশির সময় ২৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই গালছি-৪-এর মাস্টার এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া কয়েকজন গালছি-৬-এর আদমঘাট ও সিদ্ধালেক-৭-এর আদমতার এলাকার বাসিন্দা। অন্যরা মূলত চিতওয়ান ও পারসার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ধাদিংয়ে বসবাস করছেন। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। উদ্ধার করা অর্থের উৎস এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। নারায়ণী নদীতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণের কানের দুল চুরির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিওতে ওই দুই ব্যক্তিকে বন্যার পানিতে ভেসে আসা এক নারীর মরদেহ থেকে কানের দুল খুলে নিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে দেশটিতে। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ শনিবার তাদের হিসাব বড়ভাবে সংশোধন করে জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন এবং নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৬ জনে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, শুক্রবার রাতে নিখোঁজ নেপালিদের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২৪। নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫১৭ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা আঘাত হানার তিন দিন পরও চলছে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান।
আরটিভি/এমএ




