
হাঙ্গেরিতে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক মদ্যপ অবস্থায় একটি ছোট বিমান চুরি করে দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢুকে পড়েন। পরে বিমানটি একটি সূর্যমুখী ক্ষেতে জরুরি অবতরণ করে। তবে এ ঘটনায় ওই যুবক আহত হননি।
ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ হাঙ্গেরির পাক্স পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে। সামরিক রাডারে বিমানটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত দুটি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। যুদ্ধবিমান দুটি বিমানটিকে শনাক্ত করে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয়। একই সময়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেসামরিক বিমানগুলো পাক্স পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় দুই মাইলের মধ্যে ২০ হাজার ফুটের নিচে উড়তে পারে না। কিন্তু চুরি করা সেসনা ১৭২ বিমানটি সেই নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় চার মাইল দূরে একটি সূর্যমুখী ক্ষেতে জরুরি অবতরণ করে। এতে বিমানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অবতরণের পর ওই যুবক ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যান। পরে একটি গাড়িচালক কাছের সড়কে তাকে দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, তখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওই গাড়িচালকের কাছ থেকে গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে গাড়ি নিয়ে পালানোর আগেই তাকে থামানো হয়।
পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার মদ্যপ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি অন্য কোনো মাদক বা মাদকজাতীয় পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, কাছের কালোচা বিমানবন্দর থেকে অনুমতি ছাড়াই বিমানটি নিয়ে যান ওই যুবক। কীভাবে তিনি বিমানটির কাছে পৌঁছালেন এবং কেন সেটি নিয়ে উড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হাঙ্গেরির অন্যান্য বিমানবন্দরেও নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
তবে ঘটনায় পাক্স পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি। দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই কেন্দ্র থেকে হাঙ্গেরির মোট বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেক উৎপাদিত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/এমএইচজে




