ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ নৌকাডুবি, নিহত ৪১ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
পুরনো ছবি

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) আবারও ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় টাঙ্গানিকা হ্রদে শতাধিক যাত্রী ও মালামাল নিয়ে একটি নৌযান ডুবে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। খবর আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কঙ্গোর ম্যাপেরা গ্রামের কাছে টাঙ্গানিকা হ্রদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নৌকাটি তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে কঙ্গোর কালেমি শহরের দিকে যাচ্ছিল।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী আনি ময়োনি জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় যাত্রীরা দেখতে পান নৌকাটি একদিকে প্রচণ্ডভাবে কাত হয়ে পড়েছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়।

নৌকাডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ডিআরসির তানগানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মূলঙ্গোয়ী বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে হ্রদে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিআরসিতে নৌযানগুলোতে প্রায়ই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন করা হয়। এ ছাড়া অধিকাংশ নৌযানে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকায় প্রায়ই এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় ১০ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে নৌপথই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।

এর আগে গত জুলাইয়ে কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
নিষেধাজ্ঞা, চাপ কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মুখে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না এবং দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১১
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের কাছে একটি আবাসিক ভবনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। 
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১১
সোনার খনি ধসে সুদানে ৮২ জন নিহত
আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোনার খনি ধসে সুদানে ৮২ জন নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের মহাসড়কে একাধিক যানবাহনের (দু’টি মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি এসইউভি) মধ্যে সংঘর্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে অন্তত ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকার ‘উজামা প্রাথমিক স্কুলে’ ক্লাস চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়ে, ক্লাস চলাকালীন হুট করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো স্কুলটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাসরুমে ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রাণ বাঁচাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবনের ওপর তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে। স্কুলটির এক শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসারত অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাই। কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ মূল দরজা দিয়ে বাইরে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজে ছুটে আসেন। দেখতে দেখতে পুরো কাঠের ভবনটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর পর তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের ভয়াবহতায় শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে যায়। এতে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় শুধু স্কুলই নয়, আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক হিসাবে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।  পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ (M23) এক বিবৃতিতে জানাই, এ ঘটনায় ১৯ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলেসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্তমানে ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিকটস্থ একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, আমাদের এখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আনার পর ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ১৪ জন শিশুর সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ২৭ জনকে শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কঙ্গোর এই পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভু পাহাড়ঘেরা এবং এখানকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এখানে প্রায়ই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।  এর আগে গত অক্টোবরেও এক অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। শহরটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি থাকায় সহজেই এসব আগুন মারাত্মক আকার ধারণ করে। আরটিভি/এসআর
কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪
আরও পড়ুন
পানিতে তলিয়ে গিয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২০ দিনের তানিশা
তিউনিসিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিহত ১১
নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ নৌকাডুবি, শিশুসহ নিহত ৪৬
পাটাতন ভেঙে মুহূর্তেই ডুবে গেল যাত্রীবাহী নৌকা, ভিডিও ভাইরাল