ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

মোসাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিলো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের উদ্দেশে যাওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক অস্ত্র আটক করেছে ইরান। এতে প্রায় ৬০ হাজার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে মোসাদের প্রশিক্ষিত একটি সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে তেহরানভিত্তিক ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই চক্র প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বিদেশি মদদপুষ্ট সহিংসতায় রূপ নেয়।

ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমান্ড (ফারাজা) এক বিবৃতিতে জানায়, বুশেহর প্রদেশে দাঙ্গাকারীদের কাছ থেকে ৬০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র তেহরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। অভিযানের সময় দুইজন সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী একটি ‘বিপজ্জনক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ শনাক্ত করে এর সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষ হত্যা করা এবং বিক্ষোভকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ দেয়া।

তেহরানভিত্তিক ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সন্ত্রাসী চক্রটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মাধ্যমে উন্নত নগর যুদ্ধ কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল। সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বহু সন্ত্রাসী অপরাধে জড়িত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত মূল হোতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও নগর যুদ্ধের সরঞ্জাম পাওয়ার পর চক্রটির সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়।

সন্ত্রাসী চক্রটির তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব ছবি পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় একে-৪৭ রাইফেল, শটগানসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও স্যাটেলাইট ফোনের মতো যোগাযোগ সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

এ ছাড়া, চক্রটির সদস্যরা সামরিক ও পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা চালায়, অস্ত্র লুট করে এবং নগর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে সেগুলো বিতরণ করে, যাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সরাসরি মাঠপর্যায়ে জড়িত ছিল, যা সংস্থাটি শিকারও করেছে।

এ বিষয়ে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি টুইটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সেখানে লিখেছিলেন, রাস্তায় থাকা প্রতিটি ইরানিকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আর তাদের পাশে হাঁটা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকেও।

এ ছাড়া, ফারসি ভাষায় দেয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মোসাদ দাঙ্গাকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, এখনই সময়। একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে আসুন। মোসাদ এজেন্টরা দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে শুধু দূর থেকে বা কথার মাধ্যমে নয়, মাঠপর্যায়ে রয়েছে।

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সিরিয়ায় আসাদ আমলের আধাসামরিক বাহিনীর নেতা কায়ালি গ্রেপ্তার 
সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থক এবং আধাসামরিক বাহিনীর নেতা আলী কায়ালিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ২৫০ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যার ঘটনায় কায়ালি প্রধান সন্দেহভাজন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আলী কায়ালিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি মিহরাজ উরাল নামেও পরিচিত। ২০১৩ সালে বানিয়াসে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় তিনি প্রধান সন্দেহভাজন। সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ তবে তিনি কোন দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মে মাসে সিরিয়ার উপকূলীয় তারতুস প্রদেশের সুন্নি মুসলিম-অধ্যুষিত বায়দা ও বানিয়াস শহরে সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্ররা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে অন্তত ২৪৮ জন নিহত হন। তাদের অনেককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডগুলোকে সিরিয়ার ক্রমেই রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠা সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কায়ালির গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়ার বিচারমন্ত্রী মাজহার আলওয়াইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এই গ্রেপ্তার একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—সিরিয়ায় অপরাধীদের দায়মুক্তির কোনো সুযোগ নেই। যত সময়ই পেরিয়ে যাক, ভুক্তভোগীদের অধিকার হারিয়ে যাবে না।’ ২০১১ সালে সিরিয়ায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। সরকার কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। এতে আধাসামরিক বাহিনী, জিহাদিবাদী গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের দেশ সিরিয়ায় যুদ্ধ ক্রমে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়। বানিয়াস ও বায়দায় হত্যাকাণ্ডকে প্রায়ই সংঘাতের এই সাম্প্রদায়িক মোড় নেওয়ার শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালে ইসলামপন্থী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে দ্রুত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আসাদ সরকারের পতন ঘটে। পরে ওই গোষ্ঠীই দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, বায়দা ও বানিয়াসে নিহত মানুষের মোট সংখ্যা প্রায় ৪০০। কায়ালি তুরস্কের নাগরিক। ১৯৮২ সালে নিজ দেশে কারাগার থেকে পালিয়ে তিনি সিরিয়ায় চলে যান। পরে সেখানে আসাদ সরকারের মিত্র একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করেন। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কয়েক ডজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিচার শুরু হয়েছে গত এপ্রিল মাসে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা আহমেদ জেইদান কায়ালির গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি কায়ালিকে একজন অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সিরিয়ার যুদ্ধের সময় বায়দা ও বানিয়াসের হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন গণহত্যায় তিনি জড়িত ছিলেন। জেইদান আরও বলেন, ‘প্রত্যেক খুনি অপরাধীকে খুঁজে বের করা হবে।’ আরটিভি/এসকে
সিরিয়ায় আসাদ আমলের আধাসামরিক বাহিনীর নেতা কায়ালি গ্রেপ্তার 
ইয়েমেনে এবার প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ঢুকে পড়ল ৫ ক্ষেপণাস্ত্র, বেঁচে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আঘাত হেনেছে হুতি বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনে এবার প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ঢুকে পড়ল ৫ ক্ষেপণাস্ত্র, বেঁচে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভয়ংকর ফাঁদ, শিকার পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও
অনলাইনে বিজ্ঞাপনের বিশাল ফাঁদ পেতে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে আড়িপাতার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই ভয়ংকর ফাঁদের শিকার হয়েছে পেন্টাগন, ন্যাটো এবং জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোও। 
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভয়ংকর ফাঁদ, শিকার পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ, বাড়ছে তেলের দাম
হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে।
হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ, বাড়ছে তেলের দাম
আরও পড়ুন
ইরানে পরমাণু বোমা ব্যবহার করবেন না ট্রাম্প
বিটিআরসির নতুন পরিকল্পনায় ঝুঁকিতে বাটনফোন
‘খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ’, তেলের দাম কমার পূর্বাভাস ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ, বাড়ছে তেলের দাম