ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভয়ংকর ফাঁদ, শিকার পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

অনলাইনে বিজ্ঞাপনের বিশাল ফাঁদ পেতে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে আড়িপাতার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই ভয়ংকর ফাঁদের শিকার হয়েছে পেন্টাগন, ন্যাটো এবং জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোও।

সম্প্রতি কানাডাভিত্তিক সাইবার নজরদারি সংস্থা সিটিজেন ল্যাব এবং নিউইয়র্কের বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা সংস্থা কনফিয়েন্টের গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

পৃথক দুই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল, কমকাস্ট ও রাশিয়ার ইয়ানডেক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডিরু এবং দেশটির অন্যান্য নজরদারি সংস্থাকে প্রবেশে সহায়তা করেছে ইসরায়েলেরই এক ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা ডিসকভার-টেক। ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরুকে আগেই কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন সরকার।

প্রতিবেদনে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা অনলাইন বিজ্ঞাপনী ব্যবস্থা বর্তমানে সর্বাত্মক গোয়েন্দা নজরদারি অভিযানের মাধ্যমে রূপ নিতে পারে, সেটি পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক উলফি ক্রিস্টল রয়টার্সকে বলেন, বর্তমানে যেভাবে অনলাইন বিজ্ঞাপন পরিচালিত হয়, তা একেবারে পরিকল্পিত নিরাপত্তা হুমকি। এটি রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ; সবার জন্যই সমান বিপজ্জনক।

সিটিজেন ল্যাব বলেছে, প্রায়ই ফোন কিংবা ইয়ারপডের মতো সাধারণ পণ্যের প্রচার চালাত ডিসকভার-টেকের অনলাইন বিজ্ঞাপন। পরে বিভিন্ন ধরনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে পৌঁছাত সেসব বিজ্ঞাপন।

গবেষকরা বলেছেন, যেসব ব্যবহারকারী এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপনযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ কিংবা অ্যাপ ব্যবহার করতেন, তাদের শনাক্ত করে ট্র্যাক করতে পারত ডিসকভার-টেক। এমনকি মাঝে মাঝে কিছু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর বের করার চেষ্টা করত প্রতিষ্ঠানটি। নজরদারি চালানোর জন্য ওয়েবসাইটে স্রেফ বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত কিংবা লোড হওয়াই যথেষ্ট ছিল।

উভয় গবেষক দল বলেছে, কিছু বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ক্যান্ডিরুর তৈরি স্পাইওয়্যার বসাতে সাহায্য করত। তবে কনফিয়েন্ট বলেছে, ক্যান্ডিরুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো ডিসকভার-টেকের মোট বিজ্ঞাপনের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছিল।

কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গু বলেন, ডিসকভার-টেক বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি বিজ্ঞাপন পাঠাত। তথ্য আদান-প্রদানের বিশেষ ব্যবস্থা; যাকে কুকি ম্যাচিং বলা হয়—তা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপনের সীমানার বাইরে থাকা মানুষদেরও ট্র্যাক করতে পারত।

ড্যাঙ্গু বলেন, খুব সম্ভবত কোটি কোটি মানুষ ডিসকভার-টেকের এই নজরদারির আওতায় এসেছে।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিসকভার-টেকের ওয়েবসাইটের যোগাযোগ ফরমের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দেকেল বোনিকে পাঠানো ই-মেইল এবং লিঙ্কডইন বার্তারও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

ক্যান্ডিরুর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদদের অন্যায়ভাবে নিশানা করতে স্পাইওয়্যার সরবরাহের অভিযোগে ২০২১ সালে ক্যান্ডিরুকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ।

সিটিজেন ল্যাবের তথ্যমতে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কাতারি সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার ৪৫টি উইন্ডোজ ডিভাইসে অনুপ্রবেশের জন্য ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাঠানো ক্যান্ডিরুর একটি শক্তিশালী স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল। আল জাজিরা তাদের নেটওয়ার্ক লগ শেয়ার করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিটিজেন ল্যাব। তবে, আল জাজিরাও মন্তব্যের জন্য পাঠানো বার্তার জবাব দেয়নি তাদেরকে।

কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যাঙ্গু বলেন, এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন পেন্টাগন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ (আইসিসি) সংবেদনশীল ক্যাটাগরির শত শত নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীদের দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মতো কিছু অঞ্চলে এই ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ব্যাপকভাবে ছেয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের যেকোনও সাইটে গেলেই আপনি ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন পাবেন। এটি তাদের পুরো একটি দেশের ডিজিটাল কর্মকাণ্ডের ওপর অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারির সুযোগ করে দেয়।

সিটিজেন ল্যাব বলছে, জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় কমিশন এবং এক ডজনেরও বেশি দেশের সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল। এছাড়া যেসব নেটওয়ার্কে এসব বিজ্ঞাপন দেখা গেছে তার মধ্যে রয়েছে এনভিডিয়া, স্যানডিস্ক, ব্রডকম ও মাইক্রনের মতো চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং মেক্সিকো, ইসরায়েল ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

ক্যান্ডিরু ও অন্যান্য কয়েকটি নজরদারি প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করার পাশাপাশি ডিসকভার-টেকের ব্যবহারকারীরা কোথায় অবস্থান করছে সে সম্পর্কেও কিছু বিবরণ সংগ্রহ করেছে সিটিজেন ল্যাব। এতে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা ইসরায়েল, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আইপি ঠিকানা থেকে লগ ইন করছেন। ইসরায়েলি বিজ্ঞাপন সংস্থাটি ভুলবশত তাদের অথেন্টিকেশন লগ ইন্টারনেটে উন্মুক্ত রাখায় এই বিবরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিজেন ল্যাব।

এদিকে এই ফাঁদ পাতার ঘটনায় ডিসকভার-টেককে এখন অনলাইন বিজ্ঞাপন বাজার থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠান গুগল এক বিবৃতিতে সিটিজেন ল্যাব এবং কনফিয়েন্টের তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। একইসঙ্গে গুগলের বিজ্ঞাপনের বিধি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘনের দায়ে ডিসকভার-টেককে তাদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনবিষয়ক ইউরোপীয় সংস্থা আইএবি ইউরোপ বলছে, নীতি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিরীক্ষায় ধরা পড়ার পর গত সপ্তাহে ডিসকভার-টেককে তাদের বিশ্বব্যাপী অনুমোদিত বিক্রয়কারীদের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কমকাস্টের অধীনস্থ অ্যাড-টেক প্রতিষ্ঠান বিজওয়াক্সও সম্প্রতি ডিসকভার-টেকের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের পর তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সরিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপননির্ভর এই ডিজিটাল নজরদারিকে বর্তমানে ক্রমবর্ধমান জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পেন্টাগন বলেছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে বিজ্ঞাপনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ডেটা ব্রোকারদের সংগৃহীত লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে নিশানা করার তথ্য তারা পেয়েছে। এরপর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা বেশ কয়েকটি ডিভাইসে বিজ্ঞাপন-ট্র্যাকিং বন্ধ করে দিয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতে অসুস্থ মেয়েকে হ্রদে ফেলে পালাল মা, অতঃপর...
ভারতের হায়দরাবাদের হুসেন সাগর হ্রদে নিজের ছয় বছর বয়সী মেয়েকে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন এক মা। তবে এক অটোরিকশাচালক, এক বেসরকারি চাকরিজীবী ও এক ব্যবসায়ীর তাৎক্ষণিক সাহসিকতায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেছে।  এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ওই তিনজনকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। পুলিশ জানায়, বোয়েনপল্লির বাসিন্দা ওই নারীর আট ও ছয় বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। ছোট মেয়ের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিপুল খরচে হতাশ হয়ে তিনি এই চরম পদক্ষেপ নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি হ্রদের পাড়ে যান এবং বড় মেয়েকে আইসক্রিম আনতে পাঠিয়ে সুযোগ বুঝে ছোট মেয়েকে পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যান। পানিতে পড়ার পর শিশুটি একটি বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরে চিৎকার শুরু করে। তা শুনতে পেয়ে বালকৃষ্ণ নামে এক পথচারী অন্যদের সতর্ক করেন। এরপর ফখরুদ্দিন নামের এক অটোরিকশাচালক গাড়ি থামিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং মোহাম্মদ আফসার নামের এক ব্যবসায়ীর সহায়তায় তাকে নিরাপদে তীরে তুলে আনেন। টহলরত পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গান্ধী হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ওই মায়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে ডোমালগুদা থানা পুলিশ।  উদ্ধারকারী তিনজনের প্রশংসা করে পুলিশ কমিশনার সজ্জনার বলেন, বিপদে সাহায্য না করে মোবাইলে ভিডিও করার এই যুগে তাদের এই সাহসিকতা মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   সূত্র: এনডিটিভি আরটিভি/এসআর  
ভারতে অসুস্থ মেয়েকে হ্রদে ফেলে পালাল মা, অতঃপর...
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
আরও পড়ুন
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে জনবল নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
গাজায় ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’ এগোচ্ছে, বারবার ঘরছাড়া ফিলিস্তিনিরা
শেরপুরের ২ উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর ভয়ংকর তাণ্ডব, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাসহ একসঙ্গে ৮ জনকে হত্যা