ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভয়ংকর ফাঁদ, শিকার পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

অনলাইনে বিজ্ঞাপনের বিশাল ফাঁদ পেতে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে আড়িপাতার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই ভয়ংকর ফাঁদের শিকার হয়েছে পেন্টাগন, ন্যাটো এবং জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোও।

সম্প্রতি কানাডাভিত্তিক সাইবার নজরদারি সংস্থা সিটিজেন ল্যাব এবং নিউইয়র্কের বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা সংস্থা কনফিয়েন্টের গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

পৃথক দুই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল, কমকাস্ট ও রাশিয়ার ইয়ানডেক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডিরু এবং দেশটির অন্যান্য নজরদারি সংস্থাকে প্রবেশে সহায়তা করেছে ইসরায়েলেরই এক ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা ডিসকভার-টেক। ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরুকে আগেই কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন সরকার।

প্রতিবেদনে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা অনলাইন বিজ্ঞাপনী ব্যবস্থা বর্তমানে সর্বাত্মক গোয়েন্দা নজরদারি অভিযানের মাধ্যমে রূপ নিতে পারে, সেটি পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক উলফি ক্রিস্টল রয়টার্সকে বলেন, বর্তমানে যেভাবে অনলাইন বিজ্ঞাপন পরিচালিত হয়, তা একেবারে পরিকল্পিত নিরাপত্তা হুমকি। এটি রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ; সবার জন্যই সমান বিপজ্জনক।

সিটিজেন ল্যাব বলেছে, প্রায়ই ফোন কিংবা ইয়ারপডের মতো সাধারণ পণ্যের প্রচার চালাত ডিসকভার-টেকের অনলাইন বিজ্ঞাপন। পরে বিভিন্ন ধরনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে পৌঁছাত সেসব বিজ্ঞাপন।

গবেষকরা বলেছেন, যেসব ব্যবহারকারী এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপনযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ কিংবা অ্যাপ ব্যবহার করতেন, তাদের শনাক্ত করে ট্র্যাক করতে পারত ডিসকভার-টেক। এমনকি মাঝে মাঝে কিছু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর বের করার চেষ্টা করত প্রতিষ্ঠানটি। নজরদারি চালানোর জন্য ওয়েবসাইটে স্রেফ বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত কিংবা লোড হওয়াই যথেষ্ট ছিল।

উভয় গবেষক দল বলেছে, কিছু বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ক্যান্ডিরুর তৈরি স্পাইওয়্যার বসাতে সাহায্য করত। তবে কনফিয়েন্ট বলেছে, ক্যান্ডিরুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো ডিসকভার-টেকের মোট বিজ্ঞাপনের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছিল।

কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গু বলেন, ডিসকভার-টেক বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি বিজ্ঞাপন পাঠাত। তথ্য আদান-প্রদানের বিশেষ ব্যবস্থা; যাকে কুকি ম্যাচিং বলা হয়—তা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপনের সীমানার বাইরে থাকা মানুষদেরও ট্র্যাক করতে পারত।

ড্যাঙ্গু বলেন, খুব সম্ভবত কোটি কোটি মানুষ ডিসকভার-টেকের এই নজরদারির আওতায় এসেছে।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিসকভার-টেকের ওয়েবসাইটের যোগাযোগ ফরমের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দেকেল বোনিকে পাঠানো ই-মেইল এবং লিঙ্কডইন বার্তারও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

ক্যান্ডিরুর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদদের অন্যায়ভাবে নিশানা করতে স্পাইওয়্যার সরবরাহের অভিযোগে ২০২১ সালে ক্যান্ডিরুকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ।

সিটিজেন ল্যাবের তথ্যমতে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কাতারি সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার ৪৫টি উইন্ডোজ ডিভাইসে অনুপ্রবেশের জন্য ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাঠানো ক্যান্ডিরুর একটি শক্তিশালী স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল। আল জাজিরা তাদের নেটওয়ার্ক লগ শেয়ার করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিটিজেন ল্যাব। তবে, আল জাজিরাও মন্তব্যের জন্য পাঠানো বার্তার জবাব দেয়নি তাদেরকে।

কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যাঙ্গু বলেন, এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন পেন্টাগন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ (আইসিসি) সংবেদনশীল ক্যাটাগরির শত শত নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীদের দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মতো কিছু অঞ্চলে এই ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ব্যাপকভাবে ছেয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের যেকোনও সাইটে গেলেই আপনি ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন পাবেন। এটি তাদের পুরো একটি দেশের ডিজিটাল কর্মকাণ্ডের ওপর অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারির সুযোগ করে দেয়।

সিটিজেন ল্যাব বলছে, জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় কমিশন এবং এক ডজনেরও বেশি দেশের সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল। এছাড়া যেসব নেটওয়ার্কে এসব বিজ্ঞাপন দেখা গেছে তার মধ্যে রয়েছে এনভিডিয়া, স্যানডিস্ক, ব্রডকম ও মাইক্রনের মতো চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং মেক্সিকো, ইসরায়েল ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

ক্যান্ডিরু ও অন্যান্য কয়েকটি নজরদারি প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করার পাশাপাশি ডিসকভার-টেকের ব্যবহারকারীরা কোথায় অবস্থান করছে সে সম্পর্কেও কিছু বিবরণ সংগ্রহ করেছে সিটিজেন ল্যাব। এতে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা ইসরায়েল, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আইপি ঠিকানা থেকে লগ ইন করছেন। ইসরায়েলি বিজ্ঞাপন সংস্থাটি ভুলবশত তাদের অথেন্টিকেশন লগ ইন্টারনেটে উন্মুক্ত রাখায় এই বিবরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিজেন ল্যাব।

এদিকে এই ফাঁদ পাতার ঘটনায় ডিসকভার-টেককে এখন অনলাইন বিজ্ঞাপন বাজার থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠান গুগল এক বিবৃতিতে সিটিজেন ল্যাব এবং কনফিয়েন্টের তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। একইসঙ্গে গুগলের বিজ্ঞাপনের বিধি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘনের দায়ে ডিসকভার-টেককে তাদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনবিষয়ক ইউরোপীয় সংস্থা আইএবি ইউরোপ বলছে, নীতি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিরীক্ষায় ধরা পড়ার পর গত সপ্তাহে ডিসকভার-টেককে তাদের বিশ্বব্যাপী অনুমোদিত বিক্রয়কারীদের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কমকাস্টের অধীনস্থ অ্যাড-টেক প্রতিষ্ঠান বিজওয়াক্সও সম্প্রতি ডিসকভার-টেকের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের পর তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সরিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপননির্ভর এই ডিজিটাল নজরদারিকে বর্তমানে ক্রমবর্ধমান জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পেন্টাগন বলেছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে বিজ্ঞাপনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ডেটা ব্রোকারদের সংগৃহীত লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে নিশানা করার তথ্য তারা পেয়েছে। এরপর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা বেশ কয়েকটি ডিভাইসে বিজ্ঞাপন-ট্র্যাকিং বন্ধ করে দিয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনির আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার সৃজনশীল উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ তুলে দেওয়ার সুযোগ পান ফরিদ আহাম্মদ রনি। প্যারিসের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা এই গ্রন্থ রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছে দেওয়া তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল যাত্রার একটি স্মরণীয় ঘটনা। এর আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এবং প্যারিসের মেয়র দপ্তর থেকেও গ্রন্থটির জন্য প্রশংসাপত্র ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা জানান লেখক। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি তার এই উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রাপ্ত চিঠিতে গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে লেখকের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে। ‘প্যারিসের ছবি’ কেবল একটি আলোকচিত্রের বই নয়, বরং ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস, স্থাপত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের এক নান্দনিক উপস্থাপনা। গ্রন্থটিতে আইফেল টাওয়ার, লুভর জাদুঘর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাস্কর্য, নগরজীবন এবং প্যারিসের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটি বাংলাদেশের প্রকাশনা ও আলোকচিত্রচর্চার আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বহুভাষিক উপস্থাপনার মাধ্যমে বইটি বাংলাদেশ, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পাঠক ও শিল্পানুরাগীদের কাছে প্যারিসের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও গ্রন্থটির বহুভাষিক প্রকাশনা এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ফরিদ আহাম্মদ রনির এই গ্রন্থ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের কাছে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর হাতেও বইটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ChangeNOW Summit-এ মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতেও গ্রন্থটি পৌঁছে দেন তিনি। ২০২৬ সালের জুনে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারের কাছেও গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। একই বছরের আগস্টে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের হাতেও বইটি তুলে দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। ফরিদ আহাম্মদ রনির ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর দৃষ্টিতে ফ্রান্সের রাজধানীকে আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার ব্যক্তিগত সৃজনশীল অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনা জগতের জন্যও অনুপ্রেরণার বিষয়। সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। শিল্প ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, দেশ থেকে দেশে তৈরি হয় বন্ধুত্বের সেতু। ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সেতুবন্ধনেরই একটি নান্দনিক প্রয়াস, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন লেটিশিয়া জেমস। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী সারিতা কোমাতিরেডিকে পরাজিত করেছেন বলে ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে জেমস ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সাল থেকে জেমস নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কর্মজীবী ​​পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো, অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করেছেন। দায়িত্বকালে গত সাত বছরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৫০ বারেরও বেশি মামলা করেছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প কোমাতিরেডিকে নিউ ইয়র্কের পূর্বাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানসিক অসুস্থতার মোকাবিলা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরটিভি/টিআর
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। 
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
আরও পড়ুন
শেরপুর সদরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান
১০ বছর বয়সে যৌন হয়রানির শিকার অভিনেত্রী, শোনালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
‘পোশাকশ্রমিক-হকারদের মাঠে নামিয়ে ভয়ংকর ছক কষছে নিষিদ্ধ আ.লীগ’
‘ভারতীয়রা গোমূত্র চেটে খায়’ বলে কঠিন উপহাস ইসরায়েলির!