ইরানে কতদিন চলবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা, জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৩০ এএম


ইরানে কতদিন চলবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা, জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

বহু জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর। গতকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) সারাদিন ধরে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও এবার আর তা ধামাচাপা দিয়ে রাখেনি ইরান সরকার। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে খামেনির মৃত্যু হলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন শেষ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইরানে আরও কতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালাবে, সে ব্যাপারেও একটি বার্তা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১ মার্চ) মধ্যরাতে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে করা এক পোস্টে এ বার্তা দেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

ওই পোস্টে তিনি লিখেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।”

ট্রাম্প তার পুরো পোস্টে লিখেন, ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার—যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল। তিনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরায়েলের সাথে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি লিখেন, ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’

এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেন, আশা করি, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হবে এবং এই দেশটাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ, শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিখুঁত এবং ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যখন হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই হামলাতেই প্রাণ হারান তিনি। প্রাসাদের কমাউন্ড থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ইরানি উদ্ধারকারীরা।

স্যাটেলাইটে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission