ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী ৪ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ১১:৩২ এএম


ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী ৪ দেশ
ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সংঘাত থেকে সরে শান্তিচুক্তিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বহুল প্রতীক্ষিত এ চুক্তিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি ‘বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্বনেতারা।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবার ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ চার শক্তি—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। 

রোববার (১৪ জুন) এই চার দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলে, ‘ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিলে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারে আমরা প্রস্তুত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে, আলোচনার গতি ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করব।’

বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ চুক্তির পেছনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে কাতার ও পাকিস্তান। চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করি, সব পক্ষই আগামী দিনের আলোচনাগুলোতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে অংশ নেবে, যা এই অগ্রগতিকে আরও সুসংহত করতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন

আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের নেতারাও। একে বিশ্বশান্তি, নৌ নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই শান্তিচুক্তিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত কার্যকর হবে, যা হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং দ্রুততম সময়ে ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মার্কিন ও ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি একটি পুনরুজ্জীবিত বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আরও নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্যের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স আশা প্রকাশ করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাসহ চুক্তির অন্যান্য শর্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে, পরিস্থিতি এখনও নাজুক উল্লেখ করে সব পক্ষকে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পুরো বিশ্ব দীর্ঘ সময় ধরে এই সুসংবাদের অপেক্ষায় ছিল। চুক্তিটি এই অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।’ 

একইসঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া পর্যন্ত সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মহাসচিব আশা প্রকাশ করছেন যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই নতুন ইতিবাচক গতিধারাকে কাজে লাগাবে এবং চলমান সংকটের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission