
হরমুজ প্রাণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান দ্বন্দ্ব ঘিরে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে। এরই ধারাবাহিকতা ইরানের বিরুদ্ধে এবার কঠোর এক পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাণিজ্য বন্ধ করার পেছনে কারণ হিসেবে পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচলের পথ লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকে দায়ী করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জানিয়েছে, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শনাক্ত করা ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আঞ্চলিক পানিসীমার বাইরে এবং অন্যটি পানিসীমার অভ্যন্তরে গিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে পরিচালিত এক মূল্যায়নে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মূলত সমুদ্র নৌ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেগুলো সাগরে গিয়ে আছড়ে পড়ে।
ঘটনার প্রাথমিক ঘোষণার কিছু আগে আমিরাত কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্কবার্তা দেয়। তবে, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দ্রুতই সেই সতর্কবার্তা তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা দ্বার্থহীনভাবে অস্বীকার করেছেন।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মূলনীতির পরিপন্থী। এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস সুদৃঢ় করা এবং অস্থিতিশীলতা রোধে চলমান প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করবে। একইসঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে এই ধরনের ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ আনা থেকে বিরত থাকতে আঞ্চলিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আরটিভি/এসএইচএম


