
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার(৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯২ দশমিক ৯২ ডলার।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণাপ্রধান সুব্রো সরকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার লেবার ডে ছুটির কারণে ডব্লিউটিআইয়ের বাজার বন্ধ ছিল। ফলে মঙ্গলবার আগের দিনের ব্রেন্টের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে এটির দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা চলতি বছর এবং ২০২৭ সালজুড়েই তেলের দামের ঝুঁকি সম্পর্কে বাজারের ধারণায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করেছে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছিল।
এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের শেষ ভাগ বা দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুর দিক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও কমেছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইরানের হুমকির পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এমন ধারণার ভিত্তিতে গোল্ডম্যান স্যাকস ডিসেম্বর ২০২৬-এর জন্য ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের পূর্বাভাস ৫ ডলার করে বাড়িয়েছে। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর নাগাদ ব্রেন্টের দাম ৮৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮০ ডলারে উঠতে পারে। ২০২৭ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ৮০ ও ৭৫ ডলারের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক এড মেয়ারও মনে করেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে বছরের শেষ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/এসকে




