ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পরিত্যক্ত আফগান কূপে একের পর এক মরছে শিশুরা, যা জানা যাচ্ছে 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
৭০ মিটার গভীর পরিত্যক্ত কূপ থেকে পাঁচ বছরের জাইনুল্লাহকে উদ্ধার।  ছবি: সংগৃহীত

খেলতে গিয়ে শুকিয়ে যাওয়া গভীর কূপে পড়ে যায় পাঁচ বছরের জাইনুল্লাহ। প্রায় ৭০ মিটার নিচে আটকে থাকা শিশুটিকে উদ্ধারে শেষ পর্যন্ত দড়ি বেয়ে কূপে নামতে হয় ১১ বছরের কিশোর হযরত ওমরকে। ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে কিশোরটি সফলভাবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে ওপরে তুলে আনে।

এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

কান্দাহারের মাইওয়ান্দ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল জাইনুল্লাহ। হঠাৎ প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায় সে। কূপটি দুই বছর আগে শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা এর মুখ কাঠ ও মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে কাঠ পচে যায় এবং মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় শিশুটি সেখানে পড়ে যায়।

উদ্ধারকারীরা নিচে ক্যামেরা নামিয়ে দেখতে পান, কূপের প্রায় ৭০ মিটার নিচে ঠান্ডা ও ভেজা জায়গায় বসে আছে জাইনুল্লাহ। তার পায়ে পানি ছুঁয়ে ছিল এবং মাথার ওপর পানি পড়ছিল। কিন্তু কূপটি এতটাই সরু ছিল যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিচে নামতে পারছিলেন না।

শিশুটিকে উদ্ধারে কয়েকজন কিশোরকে নিচে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তারা ফিরে আসে। এরপর ১১ বছরের হযরত ওমরকে উদ্ধারের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর আগেও সে এমন একটি উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিল।

প্রথমবার দড়ি বেঁধে নিচে নামার সময় হাজরতের কাঁধ ও উরু আটকে যায়। ব্যথা পাওয়ায় সে চিৎকার করলে তাকে ওপরে তুলে আনা হয়। পরে আবার চেষ্টা করে সে কূপের নিচে পৌঁছায়।

সেখানে গিয়ে হযরত জাইনুল্লাহর হাতের সঙ্গে আরেকটি দড়ি বাঁধতে সক্ষম হয়। এরপর ওপর থেকে ধীরে ধীরে দড়ি টেনে দুজনকেই ওপরে তোলা হয়। প্রথমে হাজরতকে এবং কয়েক মিনিট পর জাইনুল্লাহকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। মাটিতে ওঠার পর কাদায় ঢাকা হযরতকে স্থানীয়রা ‘সাহসী’ বলে অভিনন্দন জানান।

জাইনুল্লাহকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার বাবা বলেন, হাজরত যেন তার ছেলেকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে।

আফগানিস্তানে এমন ঘটনা নতুন নয়। পানির সংকট, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কৃষকদের নির্ভরতা বাড়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক গভীর কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপের অনেকগুলো পরে শুকিয়ে গেলে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

২০২১ সাল থেকে আফগানিস্তানে পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়ার শতাধিক ঘটনা বিবিসি নিশ্চিত করেছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগই ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে। প্রায় অর্ধেক ঘটনায় শিশুরা মারা গেছে।

পানি বিশেষজ্ঞ নাজিবুল্লাহ সাদিদ জানান, ২০২০ সালের পর দেশটিতে কূপের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। উপগ্রহচিত্র অনুযায়ী বর্তমানে এমন কূপের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ হতে পারে। এসব কূপের বেশির ভাগই হেলমান্দ নদী অববাহিকায় অবস্থিত।

কূপে পড়ে যাওয়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য আফগানিস্তানে প্রশিক্ষিত লোকের সংখ্যাও খুব কম। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মাত্র কয়েকজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি এ ধরনের উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছেন।

হেলমান্দের ২৮ বছর বয়সী মোবাইল ফোন বিক্রেতা মিরাজান আবদুল্লাহ নিজ উদ্যোগে এমন উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে পাঁচ বছরের এক শিশু কূপে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা তাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে। পরে তিনি এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেন, যার মাধ্যমে কূপের ভেতরের মানুষের অবস্থান ক্যামেরায় দেখা যায় এবং নির্দিষ্ট জায়গায় দড়ি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

নিজের পাঁচ বছরের ছেলেকে ২৫ মিটার গভীর কূপে নামিয়ে তিনি যন্ত্রটির পরীক্ষাও করেন। গত চার বছরে মিরাজান ১১৩টি উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে প্রায় ৭০ জনকে বাঁচিয়েছেন।

তবে কূপের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। খরার কারণে কোথাও কোথাও ২০০ মিটার পর্যন্ত গভীর কূপ খনন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভবিষ্যতে কিছু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে মানুষকে অন্যত্র চলে যেতে হতে পারে।

আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কূপে পড়ে যাওয়া মানুষ উদ্ধারে বিশেষ সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া পানীয় জল ছাড়া অন্য কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে দেশটির পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। কূপের মুখ যথাযথভাবে ঢেকে রাখার জন্য মালিকদের সতর্কও করা হয়েছে।

জাইনুল্লাহকে উদ্ধারের আট মাস পর আবার দেখা হয় দুই কিশোরের। জাইনুল্লাহর পরিবার তখন হযরতকে ধন্যবাদ জানায় এবং উপহার দেয়। স্থানীয়দের কাছে হযরত এখন একজন সাহসী কিশোর হিসেবে পরিচিত।

হযরত বলেন, গ্রামের শিশুরা তাকে দেখলেই তার সাহসিকতার কথা বলে। আর জাইনুল্লাহর পরিবার চায়, ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে যেন এমন বিপজ্জনক পরিত্যক্ত কূপের মুখোমুখি হতে না হয়।

সূত্র: বিবিসি

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১২ বছরের অপেক্ষার পর অন্তঃসত্ত্বা, যমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু
দীর্ঘ একযুগ অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের মা হয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারওয়া আহমেদ আল আমিন বখিত। কিন্তু সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান ৩৬ বছর বয়সী এই নারী।  গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আজমানের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারওয়ার যমজ ছেলে ফাহদ ও ফাহেদের জন্ম হয়। প্রথম সন্তানকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়। পরে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হয়। মারওয়ার স্বামী ওসমান আহমেদ মোহাম্মদ আল মাক্কি জানান, সন্তান জন্মের আগে স্ত্রীকে সুস্থ মনে হয়েছিল। হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে হয়। মাকে হারানো দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে দুবাই পুলিশ। মৃত মারওয়ার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।  জন্মের পর দুই শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের খালা। আবুধাবিতে নিজের পাঁচ সন্তানের সঙ্গে এখন এই দুই নবজাতককেও লালনপালন করছেন তিনি। আজমানে থাকা বাবা কয়েক দিন পরপর সন্তানদের দেখতে যান। মারওয়ার পরিবার ও দুবাই পুলিশের সম্পর্ক প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৯ সালে তার বাবা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে ১৯৯৩ সালে তার মাকেও চাকরি দেয় পুলিশ। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।  ২০১৬ সালে মায়ের মৃত্যুর পর মারওয়া নিজেই দুবাই পুলিশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীতে পরিণত হন। এবার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে পরিবারটির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই পুলিশ।  সংস্থাটির সদস্যরা হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা, দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কাজেও সহায়তা করেছেন। মারওয়ার স্বামীর ভাষ্য, শোকের এই সময়ে দুবাই পুলিশের সহায়তা তাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। আরটিভি/এসআর  
১২ বছরের অপেক্ষার পর অন্তঃসত্ত্বা, যমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু
জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭
জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। 
জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭
রিয়াদের দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল সৌদি আরব
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। 
রিয়াদের দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল সৌদি আরব
জুমার নামাজ থেকে আল-আকসার খতিবকে তুলে নিয়ে গেল দখলদার বাহিনী
জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে।
জুমার নামাজ থেকে আল-আকসার খতিবকে তুলে নিয়ে গেল দখলদার বাহিনী
ট্রাম্পের ভয়ংকর ইঙ্গিত, আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা
ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় অচিরেই আরেকটি বড় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। 
ট্রাম্পের ভয়ংকর ইঙ্গিত, আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা
আরও পড়ুন
৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন সাদিক
আফগানিস্তানকে ১১৯ রানে থামাতে হবে বাংলাদেশের
বাংলাদেশের একাদশে তিন পরিবর্তন
বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা