ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধের নামে প্রকৃতি ধ্বংস, অপরাধীদের বিচারের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।  ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের কারণে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার মতে, পরিবেশ ধ্বংস শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, এটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বদলে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘পরিবেশ ধ্বংস: নীরব যুদ্ধাপরাধ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, পরিবেশ সমগ্র মানবজাতির অভিন্ন সম্পদ। রাজনৈতিক বিরোধ, সামরিক সংঘাত কিংবা স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থে একে ধ্বংস করা উচিত নয়।

পরিবেশ ধ্বংসকে বোঝাতে ‘ইকোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করে আরাঘচি বলেন, ধারণাটি গণহত্যার মতোই গুরুতর। পরিবেশের ওপর যুদ্ধের প্রভাব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে পানি, মাটি, বায়ু, বন, কৃষিজমি, জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে মানুষ ও প্রকৃতিকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

উদাহরণ হিসেবে গাজার পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে জলপাইবাগান ধ্বংস হওয়া এবং পানি ও মাটি দূষিত হওয়ার মতো নজিরবিহীন ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে আগুনে বনভূমি ও হাজার হাজার জলপাইগাছ ধ্বংস হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে আরাঘচি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এসব হামলায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ফলে তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’ দেখা দেওয়ার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।

পরিবেশ ধ্বংস মোকাবিলায় তিনটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন আরাঘচি। এগুলো হলো—পরিবেশ ধ্বংস শনাক্ত ও মোকাবিলায় স্পষ্ট আইন ও মানদণ্ড তৈরি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নথিবদ্ধ করতে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

আরাঘচি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকে স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ইরান। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক, আইনি ও কূটনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতেও দেশটি প্রস্তুত। সামরিক হামলায় পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা বাড়াতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-কে উপযুক্ত সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

সূত্র: মেহের নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের সবাইকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সৌদির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১২১ দিন বাকি। এর মধ্যেই রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুসারে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রমজান মাস শুরু হতে পারে। এবার রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে, যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। শনিবার (১০ অক্টোবর) আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদের নতুন কলা দৃশ্যমান হতে পারে। এর ফলে ১২ অক্টোবর সোমবার থেকে ১৪৪৮ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই হিজরি মাস শুরুর অর্থ হলো, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র চার চন্দ্রমাস বাকি রইল। সরকারিভাবে চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলামিক চন্দ্রবর্ষের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি বা জটিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ ছাড়াই এর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। চাঁদের অবয়বের পরিবর্তন লক্ষ্য করে মানুষ চাঁদের প্রথম কোলা, প্রথম চতুর্থাংশ এবং পূর্ণিমাসহ চন্দ্র মাসের বিভিন্ন পর্যায়গুলো চিহ্নিত করতে পারে। পরবর্তীতে চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান হয়ে একপর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। দৃশ্যমান এই পর্যায়গুলো চন্দ্র মাসগুলোর হিসাব রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায় সরবরাহ করে, যা ইসলামী ক্যালেন্ডারের ভিত্তি তৈরি করে। আরটিভি/এসআর
২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত
সৌদিতে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫ বাংলাদেশি
সৌদি আরবের জেদ্দায় সাড়ে ৮ কেজি মেথামফেটামিন বা শাবু মাদক বিক্রি ও প্রচারের অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সৌদিতে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫ বাংলাদেশি
রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩
নতুন করে হুতিদের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতেই সৌদি আরব সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩
ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প বুহরিংয়ে ইরানের হামলার তীব্রতায় একপর্যায়ে ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা। এমনি এক ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। ভিডিওতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুহূর্ত এবং বিস্ফোরণের পর ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগে ঘাঁটিতে থাকা প্রায় ৭ হাজার মার্কিন সেনার বেশিরভাগকেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে শতাধিক সেনা ক্যাম্প বুহরিংয়ে থেকে যান। যুদ্ধ শুরুর পর ঘাঁটিটি বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। তিন মার্কিন সেনা সিবিএসকে জানান, হামলায় ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমানও অংশ নেয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তারা এত কাছ দিয়ে উড়েছিল যে পাইলটদের হেলমেট দেখতে পাচ্ছিলাম। হামলা চালিয়েই তারা চলে যায়। হামলার সময় ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের দশমিক ৫০ ক্যালিবারের গোলাবারুদের তীব্র সংকট দেখা দেয়। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্বেগ ছিল। এক সেনাসদস্য বলেন, তারা আমাদের ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনেছিল। ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। হামলায় ক্যাম্প বুহরিংয়ে কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলেও কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন মরুভূমিতে বজ্রপাতে আহত হন। একজনের শরীরে দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অন্যজনের কানের পর্দা ফেটে যায়। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। আরটিভি/টিআর
ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা
আরও পড়ুন
জেলেনস্কিকে সরাতে চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে তোলপাড় 
খামেনিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ ছিল: ইসরায়েলি নেতা
ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা
ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র