ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকে গত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সমরাস্ত্রের মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টোর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের তদন্ত ও অনুসন্ধান বিষয়ক পার্লামেন্টারি সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এসব সামরিক এয়াক্রাফটের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ অ্যাটাক এয়রক্রাফট বা আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান।

২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। এপ্রিলে ইরানের আকাশে যুদ্ধ অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়।

সিআরএস প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ-টি ১৯ মার্চ ইরানের হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিমানটি পুনরায় পরিষেবায় ফিরিয়ে আনা হয়। মোট ক্ষতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে ড্রোন।

কংগ্রেসের প্রতিবেদনে দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিআরএস-এর তালিকায় অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিপার ড্রোনটি নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতির কারণে মে মাস নাগাদ মার্কিন বিমান বাহিনীর এমকিউ-৯ ড্রোন বহরের সংখ্যা কমে ১৩৫টিতে নেমে আসে; অথচ অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন সে সময় প্রয়োজন ছিল মার্কিন বাহিনীর।

২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয় এবং এপ্রিলে ইরানের আকাশে যুদ্ধ অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সিআরএস এর তালিকায় ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান ও সামরিক এয়ারক্র্যাফটের মধ্যে আরও রয়েছে সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার (আকাশপথে জ্বালানি ভরার বিমান) একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো ২ বিশেষ অভিযানের বিমান এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন ২ যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

এছাড়া রয়েছে একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক বা আক্রমনকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী (লাইট অ্যাটাক) হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার।

ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটির ক্ষতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি আকাশপথে নজরদারি এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনার সক্ষমতা প্রদান করে। বোয়িং ৭০৭ (Boeing 707) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীতে আগে থেকেই খুব কম সংখ্যায় ব্যবহৃত হতো।

সিআরএস-এর হালনাগাদ করা এই সংখ্যাটি মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে উল্লিখিত ৪২টি বিমানের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির অর্থ অবশ্য এই নয় যে মে মাসের পর আরও ৩৯টি বিমান হারিয়ে গেছে। সিআরএস জানিয়েছে, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এবং আগে রিপোর্ট করা হয়নি এমন ক্ষতির বিষয়টি শনাক্ত হলে তাদের এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অপারেশন এপিক ফিউরির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে রুবিও সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নিয়মিতই পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করে গেছে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার পর সামরিক হামলায় একপ্রকার বিরতি চলছে, তবে তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো যথেষ্ট মাত্রায় উত্তেজনা রয়েছে এবং যে কোনো সময় ফের পরস্পরকে লক্ষ্য করে দু’পক্ষ সামরিক হামলা শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। আগামী নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেইল ইন ব্যালট জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভ্যাটিকান।  শিকাগোতে জন্ম নেওয়া এই পোপের মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়টি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পরিচয়ের কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোপ লিও নির্বাচনের আগেই ডাকযোগে নিজের ভোট জমা দিয়েছেন। তবে তিনি কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গোপনীয়তার অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ায় তার রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। পোপ চতুর্দশ লিওর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে। তার জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট। ২০২৫ সালের মে মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন।  এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি পোপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি পোপ লিও দীর্ঘদিন পেরুতে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পেরুর নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন।  পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভ্যাটিকান সিটিতে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর নাগরিকত্বের সম্পর্ক বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।  পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় যোগ্য ভোটাররা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ডাকযোগে ভোট দিতে পারেন। দেশের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী আইন এবং ভোটার নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে বিদেশ থেকে ব্যালট পাঠাতে পারেন। পোপ লিওর ভোট দেওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তার ধর্মীয় অবস্থানের কারণে। ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারীর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন নাগরিক, যাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। তবে পোপের ভোট দেওয়ার ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভ্যাটিকান তাঁর ভোট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেয়নি। পোপের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চতুর্দশ লিওর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।  তার জন্মস্থান শিকাগো এবং মার্কিন নাগরিক পরিচয় তাকে আগের পোপদের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রেখেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার বিষয়টি সেই পরিচয়ের আরেকটি দিক সামনে এনেছে। আরটিভি/এসআর  
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮১
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সাত দিনের বিশেষ অভিযানে ২৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।  গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ডিজনি ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী, একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন।  শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।নতুন ভাষা শিখুন পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পোল্ক অ্যারাউন্ড অ্যান্ড ফাইন্ড আউট টু’। সাত দিন ধরে গোপনে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং শিশুদের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। তদন্তকারীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সন্দেহভাজনদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ২৮১ জনের মধ্যে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা চাওয়া, যৌনসেবা দেওয়া কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা ও পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  অন্য ১১ জনকেও পৃথক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।  অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন থিম পার্কে কর্মরত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ডিজনির এবং চারজন ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী।  এ ছাড়া অরেঞ্জ কাউন্টির একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত একজন সদস্যও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, অভিযানের সময় ১১৭ জন অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার বিষয়ে আলোচনা করতে গোপন তদন্তকারীদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। অন্যদিকে ১২২ জন যৌনসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।  তাদের মধ্যে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও কাজ করেন। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মানবপাচারের শিকার ১১ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অভিযানের এই অংশে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের পরিস্থিতি যাচাই এবং সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাঁরা কত দিন ধরে শোষণের শিকার ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়া অবস্থানকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা নয়টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাঁদের জাতীয়তা এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ জন সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। তাঁদের সম্মিলিত মাসিক সহায়তার পরিমাণ আট হাজার ৩৭৩ ডলার, যা বছরে এক লাখ ৪৭৬ ডলারের সমপরিমাণ। তবে সরকারি সহায়তা গ্রহণের সঙ্গে অভিযানে ওঠা অপরাধের অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরতে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় ফ্লোরিডার উইন্টার হেভেনে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের অপারেশনস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।  এতে শেরিফ গ্রেডি জাডের পাশাপাশি ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার, অঙ্গরাজ্যের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্লেইজ ইনগোলিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।সংবাদ পড়ুন সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, আদালতে হাজিরার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।  ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস। এসব অভিযানে অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোপন তদন্তকারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। আরটিভি/এসআর  
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮১
ইরানের শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: গালিবাফ
ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত মেনে না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে হলে ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে। এক্স পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে বারবার এবং স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাপ প্রয়োগ ও প্রলোভন দেখানোর কৌশলে ইরান প্রভাবিত হবে না। আলোচনায় অগ্রগতি কেবল তখনই সম্ভব, যখন ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নেওয়া হবে। সূত্র: মেহের আরটিভি/এসআর
ইরানের শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: গালিবাফ
বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
নিউইয়র্ক নগরীতে বাস দুর্ঘটনা কমাতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মহানগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ। বাসের আশপাশে পথচারী, সাইকেল চালক কিংবা অন্য কোনো বাধা বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে এলে চালককে সতর্ক করবে এই প্রযুক্তি। পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি বাসে ব্যবহারের পর আগামী বছর আরও ১০০ থেকে ১৫০টি বাসে এই ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 
বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
আবারও বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম, সংসার চালাতে বাড়তি খরচের চাপ
আবার নিত্যপণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের সংসার চালানোর খরচ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পণ্য ও সেবার দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। নতুন এই তথ্য বলছে, আগের বছরের তুলনায় একই ধরনের পণ্য ও সেবা কিনতে এখন মানুষের বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।
আবারও বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম, সংসার চালাতে বাড়তি খরচের চাপ
আরও পড়ুন
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮১
ইরানের শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: গালিবাফ
ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিতে মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র