
সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন বাকি। এর মধ্যেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার ইসরায়েলি। নতুন করে ফুঁসে ওঠা বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতারও।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে তুমুল বিক্ষোভ হয় নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে। স্লোগানে স্লোগানে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা ও সামরিক অভিযানে সরকারের ভূমিকার জবাবদিহি চান তারা। খবর আল জাজিরার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবে এ বিক্ষোভের ডাক দেয় ‘অক্টোবর কাউন্সিল’। এটি তিন বছর আগে গাজায় ধরে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারগুলোর প্রতিষ্ঠিত একটি গোষ্ঠী। গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধের আগে হামাসের হামলা প্রতিরোধ করতে ‘সরকারের ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতা দাবি করতে’ সমাবেশের আয়োজন করে তারা।
সমাবেশের আগে অক্টোবর কাউন্সিল এক্স-এ লিখেছে, নির্বাচনের তিন দিন আগে সত্য উদঘাটন, জবাবদিহিতা দাবি এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের লক্ষ্যে তিন বছর ধরে যে সংগ্রাম চলছে, তার চূড়ান্ত কর্মসূচীটির আয়োজন করব আমরা।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, সমাবেশে এক লাখেরও বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। এর মাত্র তিনদিন বাকি থাকতে হোস্টেজেস স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। তাদের মধ্যে ছিলেন আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থি ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের নেতা ইয়াইর গোলানও উপস্থিত ছিলেন।
আইজেনকোট যখন সমাবেশস্থলে পা রেখেন, তখন তাকে ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’— এই বলে স্বাগত জানান বিক্ষোভকারীরা।
জনমত জরিপে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অভাস পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য, ইসরায়েলের পার্লামেন্টে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েল আবার ইরানের ওপর হামলা চালাবে কি না, তার নির্ধারক হতে পারে এই নির্বাচন। ধারণা করা হচ্ছে, আইজেনকোট যদি ইসরায়লের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন, তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ফের শুরু করার বিষয়ে তুলনামূলক কম আগ্রহী হবেন।
কিন্তু একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতাসহ পররাষ্ট্রনীতির অন্যান্য অধিকাংশ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধান দলগুলো ও রাজনীতিকরা ঐক্যবদ্ধ আছেন।
আক্টোবর কাউন্সিলের লক্ষ্য আসলে হলো, ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তার পরিবর্তে তারা একটি ‘রাজনৈতিক কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই কমিশনের অর্ধেক সদস্যকে সরকার নিয়োগ করবে আর বাকিদের নিয়োগ করবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা।
বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, এ ধরনের কোনো কমিশন গঠনের চেষ্টা করা হলে তারা তা বয়কট করবেন।
আরটিভি/এসএইচএম


