ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সরঞ্জাম পরীক্ষার নতুন ফি নির্ধারণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অনুমোদন নবায়নের ফি নির্ধারণ করে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০ সংশোধন করেছে সরকার।

নতুন নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, ৫০ মেগাওয়াট নয়, ৫০ কিলোওয়াট বা তদূর্ধ্ব ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাহকের বৈদ্যুতিক স্থাপনা পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি উপকেন্দ্রের ক্ষমতাভেদে ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে লিফট, এনার্জি মিটার, ট্রান্সফরমারের তেল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৫৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০-এর তফসিল-১ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন তফসিল অনুযায়ী, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার উপকেন্দ্রের বৈদ্যুতিক স্থাপনা পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা। ২০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ দুটি ফি যথাক্রমে ২৫ হাজার ও ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া এক মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ক্ষমতার উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি ৬০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৩০ হাজার টাকা। ৫ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ফি যথাক্রমে এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা। ১০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি এক লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ফি আরও বেশি। ২০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি দুই লাখ টাকা এবং নবায়ন ফি এক লাখ টাকা। ৫০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ দুটি ফি যথাক্রমে চার লাখ ও দুই লাখ টাকা। ১০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি সাত লাখ টাকা এবং নবায়ন ফি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ তালিকাভুক্ত ৫০০ এমভিএ ক্ষমতার উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি ৩০ লাখ টাকা এবং অনুমোদন নবায়ন ফি ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুৎ সিস্টেমে লিংকেজ পরীক্ষার ফি দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ডায়াগ্রামসহ সেফটি প্ল্যান অনুমোদনের জন্য ৫০ কিলোওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৫০ কিলোওয়াট বা তদূর্ধ্ব ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১১ হাজার ভোল্ট পর্যন্ত সরঞ্জামের জন্য পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ৫০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৩ হাজার ভোল্ট বা তদূর্ধ্ব ক্ষমতার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এ ফি যথাক্রমে ৭৫ হাজার ও ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।

ট্রান্সফরমারের তেল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়ন ফি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনার্জি মিটার পরীক্ষার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা, থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং মেইন মিটার বা এইচটি মিটারের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। বৈদ্যুতিক লিফটের আর্থিং পরীক্ষার ফি প্রতি ইলেকট্রোডে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিফট পরিদর্শন ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্যাসেঞ্জার, ক্যাপসুল ও বেড লিফটের জন্য ছয় হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়নের জন্য তিন হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে কার্গো, গুডস, কার, ফায়ার ফাইটিং ও সার্ভিস লিফটের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তফসিলে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ফি উল্লেখ না থাকলে সমজাতীয় ক্যাটাগরির অব্যবহিত আগের ও পরের ক্যাটাগরির ফি-এর আনুপাতিক হারে পরিদর্শন ফি নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন কর্মকর্তা।

নির্ধারিত ফি কর-বহির্ভূত রাজস্ব হিসেবে ট্রেজারি চালান অথবা অনলাইনে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত কোডে জমা দিতে হবে। যে ভবন বা স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রহণ বা ব্যবহার করা হয় বা হবে, সেই ভবন বা স্থানের দখলদারকে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা দেওয়ার পর চালানের মূল কপিসহ প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের ২০১৪ সালের ২১ মে জারি করা ‘বৈদ্যুতিক স্থাপনা বা সরঞ্জামাদি পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিদ্যুৎ লাইসেন্স জারি আদেশ, ২০১৪’ রহিত করা হয়েছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের এ সময়ে বহুপাক্ষিকতা শুধু একটি বিকল্প নয় বরং অপরিহার্য।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে বিরোধীদলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান‌ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে বিরোধীদলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান‌ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অনেকে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় সরকারের ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে চেয়েছিল‌। তার সাথে গণতান্ত্রিক সরকারের কমিটিকে এক করা উচিত হবে না। বিরোধী দল যদি চায় বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্ট শিথিল করুক, তাহলে তাদের সেই কথা বৈঠকে এসে বলতে হবে। অমরা চাই বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুক। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই। গণভোটকে আমরা স্বীকার করি। তবে তাতে রাখা প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক আছে। গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে আমরা সম্মান করি। যদি আবার গণভোট হয় তবে এটা হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত। সংবিধান সংশোধনে বিশিষ্ট নাগরিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করছে সংবিধান সংশোধন কমিটি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে তারা তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।  আলোচনা হয় ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে। আরটিভি/এসআর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বিরোধীদলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান বিশেষজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হবে। আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করেছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাটবে না। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-আর্টিকেল ৭০-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  এছাড়াও, আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। আরটিভি/এসআর
নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
সরকার বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬ জেলার ১২৩টি উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে ১,২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’ নামের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাব দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপন করা হবে। একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানান, প্রকল্পের আওতায় নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ৫৯ হাজার ৭৭৮টি স্বাস্থ্যসম্মত দুই গর্তবিশিষ্ট ল্যাট্রিন, ৪ হাজার ৩৯৪টি কমিউনিটিভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট, ২২ হাজার ১৭৬টি অগভীর নলকূপ এবং ৪ হাজার ৮২৯টি গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ ৫ হাজার ৩৯৯টি অগভীর নলকূপ এবং ১ হাজার ১১৩টি গভীর নলকূপ, ১২৫টি গণশৌচাগার, ১ হাজার ৬৮টি রিংওয়েল এবং ১ হাজার ৭৯৭টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পুকুর পুনঃখনন এবং ১৬টি পন্ড স্যান্ড ফিল্টার নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, বাংলাদেশ ডেল্টা প¬্যান-২১০০-এ চিহ্নিত পানিসংকটপ্রবণ ছয়টি এলাকার মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় খাবার পানি ও সেচের পানির সংকট দেখা দেয়। বর্ষাকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানির সংকট পুরোপুরি কাটে না। প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের মাত্র ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা পায়। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে পানিবাহিত রোগ ও পরিবেশদূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে, যা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বারবার খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং নিরাপদ পানির সীমিত উৎসের কারণে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব উপজেলাকে এ প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এসব সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৯২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩৫০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় নির্ধারিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলার নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের সাথেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় ২০২২ সালের জুনে জারি করা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী এর জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য একনেকের সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আরটিভি/এসআর
বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি
বর্তমানে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করছেন তিনি। গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক। তিনি বলেন, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভূমিমন্ত্রীর রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন। তিনি আরও বলেন, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকী আছে। সেগুলো আজ করা হবে। আশা করছি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। এদিকে, অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য,ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের  হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা: আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ  অন্য নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আরটিভি/এসআর
ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি
আরও পড়ুন
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মাদরাসায় বলাৎকার, কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার