ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে পাচারের অর্থ পুনরুদ্ধারে সফল কাজাখস্তান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৫, ০১:১২ পিএম
ফাইল ছবি

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটার পরপরই হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সেসব অর্থ পুনরুদ্ধারে আশ্বাস দিয়ে আসছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অর্থ পুনরুদ্ধারে চেষ্টা-তদবিরও চলছে; যদিও অগ্রগতি তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান।

মাত্র দুই বছরের চেষ্টায় ১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে দেশটি, যার মধ্যে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ এবং বাকিটা ভৌত সম্পদ।

কাজাখস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য আস্তানা টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থ দেশটির রাষ্ট্রীয় তহবিলে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা স্কুল, হাসপাতাল, ক্রীড়া এবং মৌলিক অবকাঠামোর মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করছে কাজাখস্তান সরকার।

দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনার জন্য দুই বছর আগে যুগান্তকারী এক আইনে স্বাক্ষর করেন কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ। মূলত ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাজাখস্তানের ইতিহাসের বৃহত্তম বিক্ষোভের এক বছরেরও বেশি সময় পরে এই বৃহৎ আকারের সংস্কারের ফলে আইনের জন্ম হয়।

এই আইনের আওতায় ফেরত আসা সম্পদ গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিক্রির তত্ত্বাবধানে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রিটার্নড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নামে বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করে কাজাখস্তান সরকার। এর এক মাস পর প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিসের অধীনে গঠিত হয় সম্পদ পুনরুদ্ধার কমিটি।

আইন অনুসারে, অবৈধ সম্পদ উত্তোলন প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি সম্পদের আইনি উৎস সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তাহলে তারা সেই সম্পদের মালিক ও তার সহযোগীদের একটি বিশেষ সম্পদ পুনরুদ্ধার রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেবেন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এবং সংসদ সদস্য, জনসাধারণ, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সরকারি কমিশনের মাধ্যমে।

তবে, প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেরকে বিজ্ঞপ্তি বা চিঠির মাধ্যমে তাদের সম্পত্তি বৈধভাবে অর্জিত হয়েছে—তা প্রমাণ করার জন্য এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। যদি ব্যক্তি তার সম্পদের বৈধতা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে সম্পদগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়।

সেইসঙ্গে, অবৈধ সম্পদের মালিককে স্বেচ্ছায় সম্পদ ফেরত দেওয়ারও সুযোগ দেয় কাজাখস্তান সরকার এবং সেক্ষেত্রে তাদের নাম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখা হয়। এই গোপনীয়তার বিষয়টিকে নতুন আইনে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যেন অবৈধ সম্পদ সরকারের কাছে হস্তান্তরে কেউ ভীত না হন।

এ ব্যাপারে গত ১৫ জুলাই সরকারি বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ বলেন, ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ স্বেচ্ছায় ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে সরকারি কমিশন। আইন অনুসারে, কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করা হবে না। আমি মনে করি, এটা ঠিকই আছে। কারণ এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের নাম প্রকাশ্যে আনাটা তাদের নেতৃত্বাধীন বা মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

এই আইনের সুফল ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছে কাজাখস্তান সরকার। ফেরত আসা সম্পদের তালিকা নিয়মিতভাবে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিলামের জন্য পোস্ট করছে দেশটির রিটার্নড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। আর নিলাম থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ যুক্ত হচ্ছে বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিলে।

এখানেই শেষ নয়, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাজাখস্তানের বাজেট কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে ট্রেজারির ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করে বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিলে অর্থের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে। মন্ত্রণালয়ের মতে, যদি কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো নির্মাণ দরপত্রের সময় বা কোনো প্রকল্প সম্পন্ন করার পরে অর্থ সঞ্চয় করে, অথবা চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের কারণে ছয় মাসের মধ্যে তহবিল ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের এক মাসের মধ্যে অব্যবহৃত অর্থ তহবিলে ফেরত দিতে হবে।

২০২৫ সালের মে মাসে মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তহবিল থেকে কত টাকা গৃহীত এবং ব্যয় করা হয়েছে তার বিশদ বিবরণসহ ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এদিকে, যদিও অবৈধভাবে অর্জিত ও পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে কাজাখস্তান সরকার, কিন্তু এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্পদ পুনরুদ্ধারের মূলে রয়েছে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ অফিসের (ইউএনওডিসি) আঞ্চলিক দুর্নীতিবিরোধী উপদেষ্টা ভ্লাদিমির কোজিন বলেন, দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের প্রেক্ষাপটে আমরা যখন সম্পদ পুনরুদ্ধারের কথা বলি, তখন অপরাধীরা সাধারণত সরকারি কর্মকর্তা বা সরকারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে অর্থ পাচারের মতো অপরাধ করেন। পুনরুদ্ধারকৃত সম্পদ রাষ্ট্রীয় বাজেটে ফেরত পাঠানো যেতে পারে, তবে এই তহবিলগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তাতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি ইতিবাচক অনুশীলনের প্রয়োজন রয়েছে। কোন কোন জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এগুলো বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্কারগুলো অপরিহার্য এবং সময়োপযোগী—কেবল কাজাখস্তানের জন্য নয়, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্যও।

এ বিষয়ে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেকতেনভ বলেন, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নেই। কার্যকর কমিশনের মাধ্যমে আমরা যে তহবিল পুনরুদ্ধার করি, তা সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণে বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসাধারণের জন্য উপযোগী অসংখ্য প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমরা নিয়মিত সব তথ্য শেয়ার করি।

আরটিভি/এসএইচএম/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতকে টেক্কা দিতে ৪০টি অত্যাধুনিক ‘জে-৩৫’ যুদ্ধবিমান পাচ্ছে পাকিস্তান
দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য বদলে দিতে এবার বড় চাল চালল চীন। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী করতে দেশটিকে ৪০টি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক জে-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেইজিং। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই এই খবর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর আনন্দবাজারের।  পেন্টাগনের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সামরিক ও নিরাপত্তা উন্নয়ন-২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বেইজিং ইসলামাবাদের হাতে এই ঘাতক যুদ্ধবিমান তুলে দিচ্ছে। চীনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা ‘কৌশলগত’ এবং ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে ভারতীয় বিমান বাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই পাকিস্তান তড়িঘড়ি করে চীনের এই পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে থাকা ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানগুলো সাড়ে চার প্রজন্মের। অন্যদিকে চীনের জে-৩৫ হলো পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম। পেন্টাগনের দাবি, ভারত যখন রাফাল মোতায়েন শুরু করে, তখনই পাকিস্তান এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনের সাথে যোগাযোগ বাড়ায়। চীনের তৈরি এফসি-৩১ এর উন্নত সংস্করণ হলো এই জে-৩৫, যা সক্ষমতার দিক থেকে মার্কিন এফ-৩৫ এর কাছাকাছি বলে দাবি করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়া সত্ত্বেও চীন তাদের এই বিশাল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ঝুঁকি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন মূলত পাকিস্তানের বাজারকে ব্যবহার করে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চায়। জে-৩৫ ছাড়াও চীন পাকিস্তানকে জে-১০সি এবং যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার সরবরাহ করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে পুরোপুরি ‘চীনা নির্ভর’ করে তুলছে। ভারতের জন্য এই খবরটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ এই যে, ভারতীয় বিমান বাহিনী বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ করছে, যা হাতে পেতে এখনো বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। এদিকে পাকিস্তান যদি দ্রুত এই ৪০টি স্টেলথ জেট হাতে পায়, তবে আকাশযুদ্ধের শক্তিতে তারা সাময়িকভাবে ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, পাকিস্তানের পাইলটরা ইতোমধ্যে চীনে গিয়ে এই বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন, যা থেকে স্পষ্ট যে সরবরাহ প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। আরটিভি/এআর 
ভারতকে টেক্কা দিতে ৪০টি অত্যাধুনিক ‘জে-৩৫’  যুদ্ধবিমান পাচ্ছে পাকিস্তান
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের শোক
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে মহান আল্লাহ তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি এক মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন ‘আপসহীন’ এই নেত্রী। আরও পড়ুন শাসনামলের শেষ সময়ও স্বাস্থ্য-শিক্ষায় অবদান রেখেছিলেন খালেদা জিয়া খালেদা জিয়া কেবল রাজনীতির মাঠেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও চরম প্রতিকূলতা ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। স্বামী ও সন্তান হারানোর গভীর শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ বছর রোগযন্ত্রণা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। মামলা-হামলা আর কারাবরণ সত্ত্বেও তিনি গণতন্ত্রের লড়াই থেকে পিছু হটেননি। রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতনের প্রতিটি ধাপে তিনি নিজের আদর্শে অটল থেকেছেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের শোক
জান্তাশাসিত মিয়ানমারে ৫ বছর পর ভোটগ্রহণ চলছে
দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রতীক্ষা আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ভোট শুরু হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছে জান্তা সরকার।  রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ জান্তানিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে কড়া পাহারায় ভোটগ্রহণ চলছে। এএফপি জানিয়েছে, জান্তা শাসিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে তিন ধাপে মোট এক মাস ধরে। তবে সংঘাতবিক্ষুব্ধ মিয়ানমারের বড় একটি অংশ এখন বিদ্রোহীদের দখলে থাকায় সেসব অঞ্চলে কোনো ভোট হচ্ছে না। গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি-র দল এনএলডি-কে নিষিদ্ধ রেখে এই নির্বাচন আয়োজন করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আরও পড়ুন এবার অং সান সু চি’র মৃত্যুর খবর, যা বলছে মিয়ানমার জান্তা ২০২০ সালের শেষ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। কিন্তু কারচুপির অজুহাতে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর সু চিসহ হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে বন্দি করা হয়। ২০২৩ সালে এনএলডি-কে বিলুপ্ত ঘোষণা করে জান্তা সরকার, যার ফলে এবারের নির্বাচনে জনগণের প্রিয় দলের কোনো অংশগ্রহণ নেই। বর্তমানে কারাগারে বন্দি অং সান সু চির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দিয়েছে জান্তা। সব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার প্রায় ১৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন মূলত সামরিক জান্তার ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। যেখানে বড় শহরগুলোতে ভোটের আমেজ থাকলেও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত প্রদেশগুলোতে জান্তার কোনো কর্তৃত্ব নেই। মিয়ানমারের এই নির্বাচন লোহিত সাগর বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির মতোই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের চলমান লড়াইয়ের মধ্যে এই একপাক্ষিক ভোট মিয়ানমারকে কতটা স্থিতিশীল করতে পারবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন। আরটিভি/এআর 
জান্তাশাসিত মিয়ানমারে ৫ বছর পর ভোটগ্রহণ চলছে
পাহাড়ি রাস্তায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নিহত ৭
ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় ইয়েন বাই প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাতজন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) একটি পাহাড়ি খাড়া ঢাল দিয়ে নামার সময় ১৯ জন আরোহী নিয়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে একটি দাতব্য সংস্থার সদস্যরা ছিলেন, যারা আর্তমানবতার সেবায় ওই দুর্গম এলাকায় যাচ্ছিলেন। খবর নিউজ ইন্টারন্যাশনালের।  ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, পাহাড়ি রাস্তা থেকে বাসটি ছিটকে পড়ার পর সেটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাসের ধ্বংসাবশেষ কেটে অন্তত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরও পড়ুন ভয়াবহ তুষারপাতে জাপানে অর্ধ-শতাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে। ফিন হো কমিউনের চেয়ারম্যান হোয়াং আন তুয়ান জানিয়েছেন, বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তবে ওই এলাকার অত্যন্ত খাড়া এবং পিচ্ছিল পাহাড়ি সড়কটিও এই দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি নামার সময় হঠাৎ গতি বেড়ে যায় এবং চোখের পলকেই সেটি উল্টে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতকারী যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভিয়েতনাম সরকার। পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, খাড়া ও বিপজ্জনক সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা রোধে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করা হবে। বিশেষ করে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।  আরটিভি/এআর 
পাহাড়ি রাস্তায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নিহত ৭
ভয়াবহ তুষারপাতে জাপানে অর্ধ-শতাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১
জাপানে বর্ষবরণের ছুটির আমেজ বিষাদে রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। শুক্রবার(২৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে জাপানের গুনমা প্রিফেকচারের কান-এৎসু এক্সপ্রেসওয়েতে তুষারপাতের মাঝে অন্তত ৫০টি গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় টোকিওর এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৬ জন। খবর এনডিটিভির। রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মিনাকামি শহরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তুষারপাতের কারণে পিচ্ছিল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে দুটি ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর পেছন থেকে আসা অন্যান্য গাড়িগুলো তুষারে ঢাকা সড়কে ব্রেক করতে না পেরে একের পর এক আছড়ে পড়তে থাকে। দুর্ঘটনাস্থলের এক প্রান্তে হঠাৎ আগুন ধরে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর লাগা আগুনে কান-এৎসু এক্সপ্রেসওয়ের প্রায় এক ডজনেরও বেশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দমকল বাহিনীর প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো মহাসড়ক। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। জাপানের আবহাওয়া বিভাগ আগেই ভারী তুষারপাতের বিষয়ে সর্তকতা জারি করেছিল। নববর্ষের ছুটিতে অসংখ্য মানুষ যখন বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় নেমে আসে। পুলিশ বর্তমানে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিতে মহাসড়কের একাংশ বন্ধ রাখা হয়েছে।  স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তুষারে ঢাকা রাস্তায় যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন না করায় এই চেইন রিঅ্যাকশন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আরটিভি/এআর 
ভয়াবহ তুষারপাতে জাপানে অর্ধ-শতাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১
আরও পড়ুন
ডা. তাহেরের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ ৫ গুণ বেশি
বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
মালয়েশিয়ায় ঝটিকা অভিযান, ২৭ বাংলাদেশিসহ আটক ১৩৩
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা