ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক, শনিবার একই দিনে দুটি কর্মসূচি

বদরুল বিন আফরোজ (ফ্রান্স), আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ছবি: আরটিভি

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি, শিক্ষা ও সরকারি সেবার সংকট ঘিরে চলমান আন্দোলন নতুন করে জোরালো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশজুড়ে বড় ধরনের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের পর আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠনের সদস্যরা।

রাজধানী প্যারিসে শনিবার বেলা দুইটায় দুটি পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিক ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর যৌথ মিছিলের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। মিছিলটি প্লাস দ্য লা রিপুবলিক থেকে শুরু হয়ে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত যাওয়ার কথা। অন্যদিকে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা একই সময়ে প্লাস দ্য লা কনকর্দে এলাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। তবে শুক্রবার পর্যন্ত ওই সমাবেশের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিশ্চিত হয়নি।

আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুধু প্যারিস নয়, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ও সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে শনিবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ধর্মঘট ও বিক্ষোভে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। বেতন বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা, সরকারি সেবায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ওই দিনের বিক্ষোভে সারা দেশে ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ৬৫ হাজার। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, দেশজুড়ে তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। সংগঠনটির হিসাবে প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লাখ।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব ও শ্রমিক সংগঠনের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তবে উভয় হিসাবেই বৃহস্পতিবারের আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলমান আন্দোলনে উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউ আগামী শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা রক্ষার দাবি তুলেছে।

বৃহস্পতিবারের আন্দোলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব পড়ে। ফরাসি সরকারের হিসাবে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলনের প্রভাব আরও বিস্তৃত ছিল।

বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভের বেশির ভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই দিন ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, রেন, বোর্দো ও নঁত শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

চলমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু আগামী ৯ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সামাজিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। বেতন বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আলোচনার আশ্বাস যথেষ্ট নয়। বেতন, পেনশন, সরকারি সেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রধান শ্রমিক ও শিক্ষক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে কার্যকর জবাব চেয়েছে। তারা আন্দোলন দমনে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

শনিবারের কর্মসূচি ফ্রান্সের চলমান আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্যারিসে শ্রমিক-শিক্ষকদের অনুমোদিত মিছিল এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের পৃথক সমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে সবার। তবে বৃহস্পতিবারের মতো বড় জনসমাগম শনিবারও হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ চালিয়ে ব্রিটেনে আটক ভারতীয় নাবিক
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে একটি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য।
রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ চালিয়ে ব্রিটেনে আটক ভারতীয় নাবিক
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, বাধাগ্রস্ত ৩০ ফ্লাইট
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমানে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, বাধাগ্রস্ত ৩০ ফ্লাইট
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি।
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
ফ্রান্সে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ: গ্রেপ্তার ৪৪৮, আহত ৫৩ পুলিশ
বেতন বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট হয়েছে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ: গ্রেপ্তার ৪৪৮, আহত ৫৩ পুলিশ
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
আরও পড়ুন
ফ্রান্সে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ: গ্রেপ্তার ৪৪৮, আহত ৫৩ পুলিশ
পোশাক খাতে অস্থিরতা: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, নজরদারিতে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
পরিকল্পিত নাশকতা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি