ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তৃণমূলের ৪৪০ কোটি রুপির ব্যাংক হিসাব জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান মমতা ব্যানার্জী। ফাইল ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার মমতা ব্যানার্জীর দলটির প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডেবিট কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ থেকে তহবিলের উৎস অনুসন্ধানের দাবির মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

রোববার (২১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা বাইরে লেনদেন করা যাবে না, তবে নতুন অর্থ জমা হতে পারবে।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের এবং অ্যাকাউন্টগুলোর বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তারা। অভিযোগে বিধায়কেরা হিসাবগুলোতে জমা হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এসব হিসাবের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের তদন্ত চান।

আরও পড়ুন

অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি অনুযায়ী, তারা জানতে চেয়েছেন অর্থগুলো বৈধ উৎস থেকে এসেছে নাকি অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে। এর মধ্যে কথিত ‘কাট-মানি’ আদায়, সরকারি অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন কেলেঙ্কারির অর্থের বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহভাজন অবৈধ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক জ্যেষ্ঠ বিধায়ক জানিয়েছেন, তারা পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে জেনেছেন, তবে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় আছেন।

এর কয়েকদিন আগে তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা অরূপ বিশ্বাস ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে হিসাবগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানান। তার দাবি ছিল, নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৫০০ কোটির বেশি রুপির দলীয় আমানত পরিচালনা করা উচিত হবে না।

উল্লেখ্য, আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরসংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাও একই সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।

মমতার অনুগত বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস এখন আর কোষাধ্যক্ষ পদে নেই এবং আর্থিক বিষয়ে দলের পক্ষে কথা বলার কোনও এখতিয়ার তার নেই।

তিনি বলেন, যেকোনও বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্টভাবে বলা দরকার যে, অরূপ বিশ্বাস একসময় দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে, গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন থেকে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করছেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
  ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান মুরুগান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তামিলনাড়ুতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে দলের ভিত আরও মজবুত করতে পুরো সময় দিতে চান এই বিজেপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুরুগান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতমাতা ও তামিলনাড়ুর সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি আরও বলেন, দিনমজুর পরিবারের সন্তান হিসেবে জীবন শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। মুরুগান জানিয়েছেন, এবার তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে ফিরে যেতে চান। তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। এর আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এল মুরুগান। পরে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০৩০ সালে রাজ্যসভায় তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পদত্যাগপত্রে তিনি অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরটিভি/ এসকেডি
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
একইসঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করে নিয়ে গেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এক বিট কনস্টেবলকেও।
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন 
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে ব্যাতিক্রমী আরেক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে— বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লিতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে তিনটি জায়গা।  
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক ‘বাবা সামলে নেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শিক্ষার্থী। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার ভাষ্য, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে আরটিভি/এসকে
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
আরও পড়ুন
মীরসরাইয়ে ৩৯৫ কেজি ইলিশ জব্দ, একজনের ৭ দিনের কারাদণ্ড
গভীর রাতে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ
ভারতে পাচারের সময় বাংলাদেশি মুদ্রা জব্দ
দিনে তালা, রাতে ব্যবসা: আবাসিক ভবন থেকে ৩ লাখ সিগারেট জব্দ