ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তাল ছিল ভারত। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে, যার মধ্যে আছে পশ্চিমবঙ্গও। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ নিজেদের তিন দাবি আদায় করে নিয়েছে ভারতীয় তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দাবি আদায় শেষে ইতোমধ্যে আন্দোলন প্রত্যাহারও করে নিয়েছে তারা।
তবে, বিষয়টিকে এখানেই শেষ হতে দিচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে মামলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মূলত, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ধর্মতলায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে বিশাল এক মিছিল হয়। সেই মিছিল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও জুতো ছোড়া এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মিছিল থেকেই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। আমি নিজে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছি। ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ নামে এই আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির দেবদত্ত গঙ্গোপাধ্যায় এবং বামপন্থিদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, সমবেত মিছিলকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে একে ছাত্র সংগঠন বলা হলেও তাদের কোনো বৈধ ছাত্র সংগঠন আছে বলে আমার জানা নেই।
এরপর পুলিশের সংযমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুলিশকে শুরুতেই নজরদারি চালাতে বলা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে কঠোরভাবে বারণ করা হয়েছিল। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। বারবার প্ররোচনা থাকা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগ এড়িয়ে গেছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় এরই মধ্যে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর গুন্ডা দমন আইন যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য বিধানসভায় তাদের নামও প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ছয়জন সাংবাদিক বন্ধু বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত সাংবাদিকদের থেকে লিখিত অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। মোট ছয়টি মামলা হয়েছে এবং বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইন এই মামলাগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এরই মধ্যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনো সাধারণ ছাত্র বা নিট আন্দোলনের অংশ নন।
আরটিভি/এসএইচএম



