
নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহযোগী অধ্যাপক, দুই সহকারী অধ্যাপক, একজন মেডিকেল অফিসার ও সাবেক রেজিস্ট্রার রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক ও মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, একটি মামলায় আসামি করা হবে যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, মেডিকেল অফিসার (আবাসিক) ডা. নুসরত জামান ও সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবকে। অপর মামলায় আসামি করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান ও তানভীর আহমেদকে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (আবাসিক) পদে ডা. নুসরত জামানের নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি রয়েছে। নিয়োগপত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর নির্ধারিত থাকলেও তাকে ৩৫ বছর বয়সে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়োগের সঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
অপর মামলায় পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান কৃষি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও তাকে পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের সময় বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সদস্য ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, দুদক আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে—এমন কিছুটা শুনেছি। বিভাগে গিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জানতে হবে।
একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান চাকরি ছেড়ে অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরত জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে মামলা দায়েরের পর অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
আরটিভি/জেএমএ



