
দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে ফিরেছিলেন স্বামী। কিন্তু, ঘরের দরজা খুলতেই পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম হয় তার। পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্ত্রীকে দেখে ফেলেন তিনি। আর এর ফলে যা ঘটতে থাকে তার সঙ্গে, তা যেন থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়!
স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ভয়ংকর এক ছক কষেন স্ত্রী। আর সেই ভয়ংকর পরিকল্পনা থেকে বাঁচতে এখনও লড়াই করে যেতে হচ্ছে তাকে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ভারতের তেলেঙ্গানার। রাজ্যের মহাবুবাবাদ জেলার চিলকোডু গ্রামের বাসিন্দা গাড়ে রাজেশ্বর রাও। খাম্মামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন তিনি। ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয় ভবানীর সঙ্গে। সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে তাদের।
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে রাজেশ্বর জানান, গত ২৭ জুলাই দুপুরে হঠাৎ বাড়ি ফেরেন তিনি। ঘরে দরজা খুলে ঢুকতেই স্ত্রী ভবানীকে অন্য এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন তিনি। ওই যুবকের নাম সাইদুল, পেশায় একজন কুরিয়ার ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ।
পরদিন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিশি সভা বসেছিল। সালিশি সভার পরদিন থেকেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়ংকর। দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে স্বামী রাজেশ্বরকে হত্যার ছক কষেন ভবানী।
রাজেশ্বর যখন অন্য একটি গ্রামে তার বড় ভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন, তখন তার পিছু নেয় ভবানীর পরকীয়া প্রেমিক সাইদুল। কোনোমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান রাজেশ্বর।
পরে স্ত্রীর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম চ্যাট পরীক্ষা করেন তিনি। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চ্যাট রেকর্ডে দেখা যায়, প্রেমিক সাইদুলকে ভবানী স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, ‘আমার স্বামীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা করো, নাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’
ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে রাজেশ্বরকে খুন করে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন ভবানী।
স্ত্রীর এই ভয়ংকর পরিকল্পনা জেনে ফেলার পর দ্রুত পুরো চ্যাট বক্সের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করেন রাজেশ্বর। এরপর গত ১ আগস্ট ডোরনাকাল থানায় গিয়ে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে জিরো এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পরবর্তীতে তা খাম্মাম গ্রামীণ থানায় স্থানান্তরিত করে। তবে, তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে রাজেশ্বর খাম্মাম গ্রামীণ থানায় আবারও যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বর্তমানে পুলিশ ভবানীর হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের ওই চ্যাট রেকর্ডগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলেই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরটিভি/এসএইচএম




