ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবিলায় ভয়ংকর ৬ সাবমেরিন কিনছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবিলা করতে জার্মানির কাছ থেকে ভয়ংকর ৬টি সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে ভারত। প্রতীকী ছবি

বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবিলা করতে জার্মানির কাছ থেকে ভয়ংকর ৬টি সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে ভারত। অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল ক্যাটাগরির এই সাবমেরিনগুলো কেনার জন্য প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছে ৭০ হাজার কোটি রুপি।

রোববার (১৬ আগস্ট) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবমেরিন ক্রয় সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকেই পাস হওয়ার কথা আছে ‘প্রোজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া’ বা ‘পি ৭৫ ইন্ডিয়া’ নামের এই প্রস্তাবনাটি।

যদি ‘পি ৭৫ ইন্ডিয়া’ প্রস্তাবনাটি পাস হয়, তাহলে জার্মানির শীর্ষ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রস্তুতকারী সংস্থা থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমের (টিকেএমএস) সঙ্গে যৌথভাবে এসব সাবমেরিন নির্মাণ করবে মুম্বাইভিত্তিক জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থা মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অত্যাধুনিক সাবমেরিনগুলো নির্মাণ করা হবে।

বিশ্বে দুই ধরনের সামরিক সাবমেরিন রয়েছে— পারমাণবিক সাবমেরিন এবং কনভেনশনাল বা প্রচলিত সাবমেরিন। পারমাণবিক সাবমেরিন হলো পরমাণু চুল্লি থেকে প্রাপ্ত শক্তি দিয়ে চলে। এসব সাবমেরিনের আকার বেশ বড় হয় এবং বারবার পানির ওপরে আসার প্রয়োজন হয় না। পারমাণবিক সাবমেরিন মাসের পর মাস পানির নিচে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে কনভেনশনাল বা প্রচলিত সাবমেরিন পানির নিচে চলার জন্য ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক মোটর এবং ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করে। পারমাণবিক সাবমেরিনের তুলনায় এসব সাবমেরিন আকারে ছোট ও কম শব্দযুক্ত হয়। তবে, এগুলোর পানির নিচে থাকার সময় সীমিত।

তবে, নতুন যে ৬টি সাবমেরিনের জন্য ভারত জার্মানির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে, সেগুলো মূলত টাইপ-২১৪ শ্রেণির সাবমেরিন। ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন সিস্টেম’ বা এআইপিএস প্রযুক্তির উপস্থিতি থাকায় এ ধরনের সাবমেরিনগুলো অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল সাবমেরিন নামে পরিচিত। টাইপ-২০৪ ধরনের এসব সাবমেরিন প্রচলিত সাধারণ সাবমেরিনগুলোর তুলনায় বেশি সময় সাগরের তলায় থাকতে পারে।

টিকেএমএস এবং মাজাগাঁও ডক বিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ অংশীদারিত্বে যে অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল সাবমেরিনগুলো তৈরি হবে, সেগুলোর দৈর্ঘ্য হবে ২১৯ দশমিক ০৫ ফুট (৬৫ মিটার) প্রস্থ হবে ২১ দশমিক ২৩ ফুট এবং উচ্চতা হবে ২০ দশমিক ২২ ফুট।

সাবমেরিনগুলো তৈরি করা হবে এইচওয়াই-১০০ ফেরোম্যাগনেটিক ইস্পাত দিয়ে। এতে এগুলোর ‘চৌম্বকীয় স্বাক্ষর’ খুব সীমিত থাকবে। ফলে, শত্রু নৌবাহিনীর নজরদারি অনেকাংশে এড়াতে সক্ষম হবে এসব সাবমেরিন।

এগুলোর অস্ত্রসজ্জার মধ্যে থাকবে ছয়টি ৫৩৩ এমএম টর্পেডো টিউব (হেভিওয়েট ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডোযুক্ত) এসএম-২৯ এক্সোসেট জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সাবমেরিনে ব্যবহারের উপযোগী সংস্করণ।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঘটলে একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সমান্তরালভাবে পাকিস্তান ও চীনের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে ভারতের নৌবাহিনী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির সাবমেরিনের আবেদন জানায় ভারতের নৌবাহিনী। আবেদনে সাড়া দিয়ে ৬টি সাবমেরিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয় এবং বিষয়টি ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করে। সে সময় এ প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৪৩ হাজার কোটি রুপি।

এর আগে, আশির দশকের শুরুতে জার্মানির সংস্থা হাউন্ডসওয়ার্ক-ডয়শে ওয়েরফ্ট-এর কাছ থেকে ৪টি সাবমেরিন কিনেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি কোম্পানি ডিসিএনএস-এর সঙ্গে নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে ছয়টি কলভরি সিরিজের স্করপেন ডুবোজাহাজ বানানো শুরু করেছিল ভারত। সেই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট ৭৫’। ওই সিরিজের প্রথম স্টেলথ সাবমেরিন আইএনএস কলভরিকে ২০১৫ সালের অক্টোবরে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে এ সিরিজের শেষ সাবমেরিন ‘কমিশন’ পেয়েছিল। তারপর গত পাঁচ বছরে নতুন কোনও সাবমেরিন ভারতীয় নৌসেনার হাতে আসেনি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইউটিউবে সোনা ও টাকার ভিডিও প্রচার, রাতে সব নিয়ে গেল চোর
ভারতের তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলায় এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইউটিউবে সোনা ও টাকার ভিডিও প্রচারের পর রাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ইউটিউবে সোনা ও টাকার ভিডিও প্রচার, রাতে সব নিয়ে গেল চোর
মদের দোকানে ঢুকে ছিপি খুলে মদ্যপান করল বানর, অতঃপর...
ভারতের রাঁচিতে একটি মদের দোকানে ঢুকে বোতল থেকে মদ পান করে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে একটি বানর। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 
মদের দোকানে ঢুকে ছিপি খুলে মদ্যপান করল বানর, অতঃপর...
মাকে বাঁচাতে জ্বলন্ত বাসেই রয়ে গেলেন ছেলে, প্রাণ গেল দুজনেরই
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গ্রেটার নয়ডায় যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা-ছেলেসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাকে বাঁচাতে জ্বলন্ত বাসেই রয়ে গেলেন ছেলে, প্রাণ গেল দুজনেরই
পুলিশ সেজে ট্রেনে জরিমানা আদায়, টাকা না পেয়ে ট্রেন থেকে যাত্রীকে ধাক্কা
ভারতের বিহারে পুলিশ, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কর্মকর্তা সেজে ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রোহিত তিওয়ারি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সেজে ট্রেনে জরিমানা আদায়, টাকা না পেয়ে ট্রেন থেকে যাত্রীকে ধাক্কা
ফ্লাইটের আগে মদ্যপ অবস্থায় এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট আটক
জুরিখ থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট পরিচালনার আগে মদ্যপ অবস্থায় থাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বরের জুরিখ-দিল্লি ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএকে (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন) জানালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গেছে, জুরিখ বিমানবন্দরে ওই পাইলটের প্রাথমিক ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপরই তাকে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে পাঠানো হয় এবং সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। চূড়ান্ত মেডিকেল প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাইলটটি সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রুদের মদ্যপান ও মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর পাইলট ও ক্রুদের ওপর নজরদারি এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার বিমানবন্দরে ভারতগামী ফ্লাইট পরিচালনার আগে মদের গন্ধ পাওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় আরেক পাইলটকে চাকরিচ্যুত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। গত বছরের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর পাইলটদের নিরাপত্তা বিধি ও পেশাগত আচরণ নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। দায়িত্ব পালনের আগে অ্যালকোহল বা নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের বিরুদ্ধে সব পাইলটকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে সংস্থাটির ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগ। আরটিভি/এসকে
ফ্লাইটের আগে মদ্যপ অবস্থায় এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট আটক
আরও পড়ুন
পাকিস্তানে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত, আহত অন্তত ৩১
তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যে বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ঢাকায় চলছে চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান’ পণ্য প্রদর্শনী
আফগানিস্তানে আবারও হামলা চালাল পাকিস্তান