
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে, বিতর্কিত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চীনা বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অভিমুখে বেশ দ্রুততার সঙ্গে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উজান সুবানসিরি জেলার গেলিমো ও তাকসিংয়ের মতো দুর্গম সীমান্ত এলাকার কাছে স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন ভবন, রাস্তা এবং হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চীনের এই অবকাঠামোগত প্রসারের ফলে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী ইয়াক চারণভূমি ও শিকারের স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার হারাচ্ছে।
স্থানীয় তাগিন ও নাহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, গত জুন মাস থেকে চীন তাদের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেছে। স্থানীয় ছাত্র সংগঠন ‘অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এটিএসইউ)’ এবং একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের পৃথক অনুসন্ধানকারী দল সীমান্ত এলাকা সফর করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতীয় বাহিনী তাদের টহল অবস্থান থেকে পিছু হটছে এবং চীনা সেনারা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে নঙ্গা পাহাড়সহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় স্থান স্থানীয়দের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেনেভা ভিত্তিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা সংস্থা 'জেনস'-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিব্বতের লুনজে কাউন্টির ঝারি শহরের কাছে সাম্প্রতিক নির্মাণকাজগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এসবের কিছু অংশ উভয় দেশের বিতর্কিত বা দাবি করা সীমানার অভ্যন্তরে পড়েছে, যা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে ভারতের সেনাবাহিনী এ ধরনের চীনা অনুপ্রবেশের খবরকে 'ভিত্তিহীন ও অসত্য' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার ওপরই দুই দেশের সার্বিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। অন্যদিকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখে গোপনে ভূখণ্ড দখলের চীন সরকারের কৌশল বা ‘সালামি স্লাইসিং’-এর অংশ হিসেবেই এই সীমান্তবর্তী অবকাঠামোগত চক্রান্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আরটিভি/এআর




