ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শি’র দিল্লি সফরের মাঝেই ভারতের সীমান্তে অগ্রসর হচ্ছে চীন, ধরা পড়ল স্যাটেলাইটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
২০২২ সালের ২ নভেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে, বিতর্কিত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চীনা বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অভিমুখে বেশ দ্রুততার সঙ্গে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উজান সুবানসিরি জেলার গেলিমো ও তাকসিংয়ের মতো দুর্গম সীমান্ত এলাকার কাছে স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন ভবন, রাস্তা এবং হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চীনের এই অবকাঠামোগত প্রসারের ফলে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী ইয়াক চারণভূমি ও শিকারের স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার হারাচ্ছে।

স্থানীয় তাগিন ও নাহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, গত জুন মাস থেকে চীন তাদের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেছে। স্থানীয় ছাত্র সংগঠন ‘অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এটিএসইউ)’ এবং একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের পৃথক অনুসন্ধানকারী দল সীমান্ত এলাকা সফর করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতীয় বাহিনী তাদের টহল অবস্থান থেকে পিছু হটছে এবং চীনা সেনারা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে নঙ্গা পাহাড়সহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় স্থান স্থানীয়দের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেনেভা ভিত্তিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা সংস্থা 'জেনস'-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিব্বতের লুনজে কাউন্টির ঝারি শহরের কাছে সাম্প্রতিক নির্মাণকাজগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এসবের কিছু অংশ উভয় দেশের বিতর্কিত বা দাবি করা সীমানার অভ্যন্তরে পড়েছে, যা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে ভারতের সেনাবাহিনী এ ধরনের চীনা অনুপ্রবেশের খবরকে 'ভিত্তিহীন ও অসত্য' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার ওপরই দুই দেশের সার্বিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। অন্যদিকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখে গোপনে ভূখণ্ড দখলের চীন সরকারের কৌশল বা ‘সালামি স্লাইসিং’-এর অংশ হিসেবেই এই সীমান্তবর্তী অবকাঠামোগত চক্রান্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
  ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান মুরুগান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তামিলনাড়ুতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে দলের ভিত আরও মজবুত করতে পুরো সময় দিতে চান এই বিজেপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুরুগান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতমাতা ও তামিলনাড়ুর সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি আরও বলেন, দিনমজুর পরিবারের সন্তান হিসেবে জীবন শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। মুরুগান জানিয়েছেন, এবার তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে ফিরে যেতে চান। তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। এর আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এল মুরুগান। পরে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০৩০ সালে রাজ্যসভায় তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পদত্যাগপত্রে তিনি অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরটিভি/ এসকেডি
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
একইসঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করে নিয়ে গেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এক বিট কনস্টেবলকেও।
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন 
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে ব্যাতিক্রমী আরেক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে— বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লিতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে তিনটি জায়গা।  
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক ‘বাবা সামলে নেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শিক্ষার্থী। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার ভাষ্য, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে আরটিভি/এসকে
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
আরও পড়ুন
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প