ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

কলকাতায় মুসলিম পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ এএম

কলকাতা পুলিশের ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাদের দাড়ি কামাতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখার যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে পুলিশের প্রচলিত দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবিলম্বে জানিয়ে দেওয়া এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন হজ পালন শেষে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।

এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রযোজ্য হবে না।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের জন্য প্রণীত বিধিমালা বা ‘ম্যানুয়াল’-এ সাধারণভাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা দাড়ি রাখতে পারবেন না। তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধির ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের এ ধরনের পোশাক ও সাজসজ্জার বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা এবং বাহিনীগত সামঞ্জস্য বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেই ধারাবাহিকতায় দাড়ি রাখার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ নির্দেশিকায় সেই পুরোনো বিধিই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাহিনীর শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের মণিপুরে ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ৫
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে তীব্র বিক্ষোভের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাত।
বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের মণিপুরে ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ৫
ভারতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে থানায় গিয়ে পুলিশের লালসার শিকার নারী
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শারীরিক নির্যাতনের ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে থানায় যোগাযোগ করেন তিনি। 
ভারতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে থানায় গিয়ে পুলিশের লালসার শিকার নারী
আসামে যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় ভারত পুলিশ
ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলার একটি গ্রামে গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা বাংলাদেশের বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে আসাম পুলিশও। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত লেটেকুজান গ্রামের একটি ধানখেতে বেলুনগুলো দেখতে পান স্থানীয় এক কিশোর। স্থানীয় এক কিশোর সকালে পাশের মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বেলুনগুলো দেখতে পায়। পরে বেলুনগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে সে সেগুলো সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। ফ্লেক্সে ছাপানো ব্যানারটিতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বার্তা লেখা ছিল। এতে বিএনপির নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবিও ছিল। যুবদলের সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বেলুন ও ব্যানার ওড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই উদযাপনের কোনো বেলুন সীমান্ত পেরিয়ে আসামের আকাশে ভেসে এসে শেষ পর্যন্ত লখিমপুরের ধানখেতে গিয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঢালপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লেতেকুজান গ্রামে যায়। পরে তারা বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। বেলুনগুলো কোথা থেকে এসেছিল এবং কীভাবে গ্রামটিতে পৌঁছেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সুত্র: নর্থইস্ট নাও, গুয়াহাটি টাইমস। আরটিভি/টিআর
আসামে যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় ভারত পুলিশ
ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিরোধীদের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রা আজ
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লিতে বড় ধরনের সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।  ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের নেতৃত্বে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডাকে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন। ‘চলো দিল্লি’ নামে এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাহুল গান্ধী ইনস্টাগ্রামে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়া ব্লকের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সমাবেশে অংশ নিতে পারেন। তবে পুলিশ রামলীলা ময়দানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ এলে তাদের আশপাশের সড়কে আটকে রাখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও পথ পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্ট ও নেতাজি সুভাষ মার্গের টি-পয়েন্টসহ মোট ১০টি স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এদিকে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের দিনই বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে পাল্টা কর্মসূচি নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন হরিয়ানার রোহতকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও’ নামে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান ফরিদাবাদে একই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিজেপির ভাষ্য, বিরোধীরা ভোট চুরি, এসআইআর ও নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদেই তাদের এ পদযাত্রা। বিজেপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং বিরোধীদের অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক উদ্যোগ। আরটিভি/টিআর
ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিরোধীদের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রা আজ
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
ভারতের আসামে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তাকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোরও চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা।
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা