
হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন সৌভিক দত্ত নামে এক যুবক। কিন্তু পরদিন স্ত্রীর মোবাইলে আসে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের এসএমএস। অভিযোগ—মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। চালানের ছবি দেখেই অবাক সৌভিক। কারণ, পেছনে কোনো যাত্রীই ছিলেন না; ছিল একটি গিটার।
ঘটনাটি ভারতের বেঙ্গালুরুর। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সৌভিক তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। মাথায় হেলমেট থাকলেও পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর মোবাইলে আসা ই-চালানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’ অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো ব্যক্তি নেই। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থা পিঠে থাকা গিটারটিকেই পেছনের যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করেছে।
বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন সৌভিক। বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং পিঠে ছিল গিটার। একই সঙ্গে চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টটি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর ও নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি এআই-নির্ভর ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা সহায়ক হলেও, এ ধরনের ভুল ঠেকাতে মানবিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরটিভি/এমএইচজে


