
পেটে যন্ত্রণা নিয়ে মাঝরাতে নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিল এক কিশোরী। সকালে বাথরুমে ঢুকে নিজেই সন্তান প্রসব করে সে। এর পরে বাথরুমের জানলা দিয়ে সদ্যোজাতকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরীর উপর।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক নার্সিংহোমে এই ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেটে ব্যথা নিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে নার্সিংহোমে ভর্তি হয় হাওড়ার বাসিন্দা ওই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মেয়ে যে সন্তানসম্ভবা ছিল তা তারা একেবারেই জানতেন না। কেবল সাধারণ পেটে ব্যথার কারণেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক জানিয়েছেন, সকালে তিনি নার্সংহোম থেকে কিছু পড়ার আওয়াজ পান। কাছে গিয়ে তিনি রক্তমাখা এক নবজাতক শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই নার্সিংহোমের এক নার্স ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ভিতরে নিয়ে যান।
নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে ভর্তি করানোর পরে শনিবার সকালে কিশোরীর রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছিল। নার্সিংহোমে ভর্তির সময় পরিবারের লোকজনের কাছে বারবার এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা কিছু জানেন না বলেই দাবি করেছিলেন।
এমন কাণ্ডে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া আইনি পদক্ষেপ করা উচিত।
এ বিষয়ে উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, আমি থানায় গিয়েছিলাম। কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করব। অনেক নার্সিংহোম রয়েছে, যারা কোনও নিয়ম-কানুন মানছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। যে মেয়েটি ভর্তি হয়েছে সে কিশোরী। আমি নিশ্চিত করছি এই ঘটনা কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা হবে।
আরটিভি/এসআর


