
বিপজ্জনক কোলেস্টেরল কমানোর পরীক্ষামূলক ওষুধ নিয়েও মিলল না প্রত্যাশিত সুফল। রক্তে ক্ষতিকর এক ধরনের কোলেস্টেরল ৭৮ শতাংশ কমাতে সক্ষম হলেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারেনি ওষুধটি। এতে হৃদরোগ প্রতিরোধে নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের আশা বড় ধাক্কা খেল।
নোভার্টিসের তৈরি পেলারসেন নামের ইনজেকশনটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ হাজার ৩২২ জনকে নিয়ে পাঁচ বছর ধরে গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের রক্তে লিপোপ্রোটিন (এ) নামের এক ধরনের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি ছিল। তাদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের অন্য সমস্যা হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, ওষুধটি রক্তে ওই কোলেস্টেরলের মাত্রা ৭৮ শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে, যাদের সাধারণ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে কমেছিল ১৩ শতাংশ। তবে এত বড় পার্থক্য সত্ত্বেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হৃদ্রোগে মৃত্যু কিংবা বন্ধ ধমনি সচল করার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা কমেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিপোপ্রোটিন (এ) ধমনিতে চর্বির আস্তর জমিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়ায়। এটি মূলত বংশগত কারণে তৈরি হয়। ফলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা ব্যায়ামের মাধ্যমে এর মাত্রা কমানো সম্ভব নয়।
গবেষকদের ধারণা, রোগীদের জীবনের তুলনামূলক শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে ওষুধটির প্রকৃত প্রভাব বোঝা কঠিন হয়েছে। তবে গবেষণার ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণে এই কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, একই ধরনের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আরও কয়েকটি ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে এলি লিলি, অ্যামজেন ও সাইলেন্স থেরাপিউটিকসের তৈরি পরীক্ষামূলক ওষুধ। এসব ওষুধ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


