ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্প সমর্থিত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আফসুরা হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থিত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাসরি আফসুরা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হন্ডুরাসে গত ৩০ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছ। এর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজধানী তেগুসিগালপার সাবেক মেয়র আসফুরাকে ট্রাম্প নির্বাচনের আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘হন্ডুরাসে স্বাধীনতার একমাত্র প্রকৃত বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন এবং জনগণকে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, আসফুরা জয়ী না হলে হন্ডুরাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আসফুরার ন্যাশনাল পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় ৪৫ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন।

ভোট গণনায় বিলম্বের মধ্যে ট্রাম্প আবারও নির্বাচনে হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্য করেন বলে দাবি করেছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থাকা আসফুরার অবস্থান বদলানো হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আসফুরার প্রতি ট্রাম্পের এই সমর্থন লাতিন আমেরিকায় একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এই বলয়ের মধ্যে এল সালভাদরের নায়িব বুকেলে থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মাইলেই পর্যন্ত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

এদিকে, বিরোধী প্রার্থী সালভাদর নাসরাল্লা ও ক্ষমতাসীন লিব্রে দল ট্রাম্পের মন্তব্যকে সরাসরি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ডিসেম্বরের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসরাল্লা বলেন, শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ তার জয়ের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সব পক্ষকে ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত আসফুরাকে অভিনন্দন জানায় এবং সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে তার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) মহাসচিব আলবার্ট রামদিন বলেন, সংস্থাটি নির্বাচনের ফলাফল ‘নোট করেছে’ এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রকাশ করবে। তিনি স্বীকার করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা ছিল এবং এখনো সব ভোটের পূর্ণ পুনর্গণনা শেষ হয়নি।

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মেক্সিকোতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০
বড়দিনের উৎসবের আমেজ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলীয় ভেরাক্রুজ রাজ্যে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উৎসবের ভোরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও ৩২ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। মেক্সিকো সিটি থেকে চিকোন্তেপেক গ্রামের দিকে যাওয়ার পথে পাহাড়ি এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।  আরও পড়ুন বাসে আগুন, প্রাণ গেল ১০ জনের ভেরাক্রুজ রাজ্যের জোন্তেকোমাতলান পৌর মেয়রের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নয়জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে আহত ৩২ জনের তালিকা এবং তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালকের বেপরোয়া গতি কিংবা বাসের কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে পরিবহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকায় অনেক সময় ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো হয়, যা এমন প্রাণহানির অন্যতম কারণ। দেশটিতে গত কয়েক মাসে সড়ক দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরের শেষ দিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় মিচোয়াকান রাজ্যে একই ধরনের একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিলেন। বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।  আরটিভি/এআর 
মেক্সিকোতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০
মার্কিন উপকূলে মেক্সিকান নৌবাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
চিকিৎসা সেবা স্থানান্তরের একটি মানবিক মিশনে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলবর্তী জলসীমায় মেক্সিকান নৌবাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মেক্সিকোর নৌবাহিনী এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। বিমানটিতে মোট আটজন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর আলজাজিরার।  মেক্সিকান নৌবাহিনী সচিবালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিবহণ মিশনে নিয়োজিত ওই বিমানটিতে চারজন যাত্রী এবং চারজন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি পাঁচজন প্রাণ হারান। আরও পড়ুন পাকিস্তানে পুলিশের গাড়িতে অতর্কিত হামলা, নিহত ৫ ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি মেক্সিকোর ইউকাটান অঙ্গরাজ্যের মেরিদা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। টেক্সাসের গ্যালভেস্টনের কাছে পৌঁছানোর সময় এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে আছড়ে পড়ে। মিশনটি মূলত গুরুতর দগ্ধ শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য কাজ করা একটি মেক্সিকান ফাউন্ডেশনের সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই মার্কিন ও মেক্সিকান উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আরটিভি/এআর 
মার্কিন উপকূলে মেক্সিকান নৌবাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
বকেয়া বেতনের দাবিতে ককপিটে যে কাণ্ড ঘটালেন পাইলট
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির বেনিটো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে একজন পাইলট বিমান উড্ডয়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেকে ককপিটে আটকে রাখেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) কানকুনগামী একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিফর্মা সংবাদপত্রসহ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পাইলট ককপিট থেকে যাত্রীদের উদ্দেশে বলছেন, ‘যতক্ষণ আমাদের পাওনা পরিশোধ না করা হবে, এই বিমান এখান থেকে নড়বে না।’  আরও পড়ুন হাতাহাতিতে জড়ালেন আইনপ্রণেতারা, ভিডিও ভাইরাল তিন সন্তানের জনক ওই পাইলট দাবি করেন, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি কোনো বেতন পাচ্ছেন না এবং তার ভ্রমণ খরচও বকেয়া রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত তিন বছর ধরে এই সংস্থায় কর্মরত থাকলেও কোনোদিন তার ফ্লাইটে দেরি হয়নি বা তিনি কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হননি। এই ঘটনার ফলে কানকুনগামী নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাতিল হয়ে যায়। বিমানবন্দরের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মেক্সিকান গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর নিরাপত্তা কর্মীরা বিমান থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আনেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই পাইলটকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কর্মকর্তারা এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করলেও তারা স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। আরটিভি/এআর 
বকেয়া বেতনের দাবিতে ককপিটে যে কাণ্ড ঘটালেন পাইলট
হাতাহাতিতে জড়ালেন আইনপ্রণেতারা, ভিডিও ভাইরাল
মেক্সিকোর পার্লামেন্টে এক উত্তপ্ত বিতর্কের সময় নজিরবিহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার(১৫ ডিসেম্বর) শহরের স্বচ্ছতা রক্ষা বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করা নিয়ে আয়োজিত এই অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা একে অপরের চুল টানা, ঘুষি বিনিময় এবং ডায়াসের ওপর ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। বিরোধী দলের প্রতিবাদের মুখে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো সংসদ ভবন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর রয়টার্সের।   চেম্বার অফ ডেপুটিজের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিবাদটি শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়। মেক্সিকো সিটির স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক চলার সময় এই মারামারি শুরু হয়। আরও পড়ুন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা, অতঃপর... সংঘাতের শুরুটা ছিল নাটকীয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী আইনপ্রণেতা অন্য একজনের হাত চেপে ধরলে দ্বিতীয়জন ক্ষিপ্ত হয়ে সজোরে হাত ছাড়িয়ে নেন এবং প্রথমজনের পেটে কনুই দিয়ে আঘাত করেন। এরপরই দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নারী সদস্য একে অপরকে ধাক্কা দেওয়া ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। আশপাশে থাকা অন্য সদস্যরা তখন আতঙ্কিত হয়ে বা অবাক হয়ে মোবাইল ফোনে এই দৃশ্য ধারণ করতে থাকেন।  ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বিরোধী দল ন্যাশনাল অ্যাকশন পার্টির সদস্যরা বিতর্কিত ওই বিলের প্রতিবাদে স্পিকারের ডায়াস বা পোডিয়াম দখল করে নেন। বিরোধী দলের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল মোরেনা একটি নতুন স্বচ্ছতা সংস্থা গঠনের আগের চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এই চুক্তি ভঙ্গের প্রতিবাদে তারা পোডিয়ামে অবস্থান নিলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। Lawmakers clashed in Mexico City's congress as the opposition National Action Party protested a proposal to dissolve the city's transparency institute pic.twitter.com/a4IQEoAR9z — Reuters (@Reuters) December 16, 2025 অধিবেশন জুড়ে চিৎকার ও গালিগালাজ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো পুরো চেম্বারজুড়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, স্পিকার অধিবেশন স্থগিত করতে বাধ্য হন।  স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়লে অধিবেশনটি স্থগিত করা হয়। পরে আইনপ্রণেতারা অন্য একটি নিরাপদ ভেন্যুতে স্থানান্তরিত হন যাতে করে তারা সেখানে পুনরায় আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। মেক্সিকোর রাজনৈতিক ইতিহাসে আইনপ্রণেতাদের এই ধরনের শারীরিক সংঘাতের ঘটনা দেশজুড়ে চরম সমালোচনা ও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। বিশেষ করে নারী সদস্যদের একে অপরের চুল টানা ও পেটে আঘাত করার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ভাইরাল। আরটিভি/এআর 
হাতাহাতিতে জড়ালেন আইনপ্রণেতারা, ভিডিও ভাইরাল
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো
মাদক কার্টেলদের লাগামহীন সহিংসতা এবং এই অপরাধ দমনে সরকারের ব্যর্থতা—এই দুইয়ে মিলে এখন অস্থির মেক্সিকো। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, বিশেষত জেন-জি'র নেতৃত্বে পদযাত্রা করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০০ জনই পুলিশ কর্মকর্তা।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ রোববার (১৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল সম্প্রতি মেয়র কার্লোস মানজোর হত্যাকাণ্ড। মানজো তার শহরে মাদক পাচারকারী গ্যাং এবং কার্টেল সহিংসতা সম্পর্কে খোলাখুলিভাবে কথা বলার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং দেশের সশস্ত্র কার্টেল সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মানজো ১ নভেম্বর ডে অব দ্য ডেড উৎসবে অংশগ্রহণকালে গুলিবিদ্ধ হন। বিক্ষোভকারীরা আমরা সবাই কার্লোস মানজো লেখা ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন এবং প্রয়াত মেয়রকে সম্মান জানাতে অনেকেই কাউবয় হ্যাট পরেছিলেন। আরও পড়ুন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা, অতঃপর... মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রদর্শনকারীরা জাতীয় প্রাসাদের (যেখানে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বাস করেন) সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে একদল ব্যক্তি সহিংসতা শুরু করলে প্রাসাদ রক্ষাকারী পুলিশ ক্ষুব্ধ জনতার ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।  তিনি আরও জানান, বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে এবং ২০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন। এমনকি একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিকের ওপরও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসময় ডাকাতি এবং হামলার মতো অপরাধের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।  এদিকে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম দাবি করেছেন, অন্যান্য শহরেও যে পদযাত্রা হয়েছে, তা তার সরকারের বিরোধী ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তরুণদের দাবি থাকে, আমরা মত প্রকাশ এবং বিক্ষোভের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, কিন্তু এই বিক্ষোভকে কে প্রচার করছে, মানুষকে তা জানা উচিত। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন শেইনবাউম। তিনি ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে ৭০ শতাংশের ওপরে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হন। কিন্তু বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের কারণে তার নিরাপত্তা নীতি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। আরটিভি/এআর     
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো
আরও পড়ুন
নিজ বাসভবনে হামলার খবর পুতিনই ফোনালাপে জানিয়েছেন: ট্রাম্প
ইউক্রেনকে ১৫ বছরের ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টি’ ট্রাম্পের
ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড লাগবে: ট্রাম্প