ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের ওপর চরম ক্ষুব্ধ কানাডা, সমানে চলছে মার্কিন পণ্য বয়কট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে কানাডা। বাণিজ্য বিরোধ, মার্কিন শুল্কনীতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন কানাডার নাগরিকরা। ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে তাদের মধ্যে। এমনকি সমানতালে বাড়ছে মার্কিন পণ্য বয়কটের প্রবণতাও।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন পণ্য বয়কটের হিড়িক লেগে গেছে কানাডার বিভিন্ন শহরে। কানাডার অনেক ভোক্তাই এখন মার্কিন পণ্যের বদলে দেশে তৈরি পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। একইসঙ্গে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও মার্কিন সরবরাহকারীদের পরিবর্তে কানাডীয় ও অন্যান্য দেশের বিকল্প উৎস খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

একইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের এক জরিপে ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বহুদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন বড় ধরনের সংকটে পড়ে গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হঠকারী পদক্ষেপে। এরই মধ্যে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ।

কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে জনমতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিডের জরিপে মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ৪৮ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব আরও বেশি। জরিপে ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান তার প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বৈরিতা শুধু সাময়িক রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য, ভ্রমণ, ভোক্তাদের কেনাকাটা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও। ফলে কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে এখন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চার মাসের ক্ষুধার্ত শিশুকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করলেন নারী পুলিশ
হারিকেন ওটিসের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত মেক্সিকোর আকাপুলকোতে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গিয়ে চার মাস বয়সী এক ক্ষুধার্ত শিশুকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করেছিলেন এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তার সেই মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি।
চার মাসের ক্ষুধার্ত শিশুকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করলেন নারী পুলিশ
টরন্টোতে শেষ হলো ৪০তম ফোবানা
কানাডার হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির ভালোবাসা ও অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টরন্টোস্থ ৪০তম ফোবানা সম্মেলন।
টরন্টোতে শেষ হলো ৪০তম ফোবানা
বদলে গেল বিশ্বের মানচিত্র, ছোট-বড় হলো কয়েকটি মহাদেশ
বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন একটি মানচিত্রে বিশ্বের দেশ ও মহাদেশগুলোর আকার তুলনামূলকভাবে বাস্তবতার কাছাকাছি তুলে ধরা হয়েছে। এতে আগের মানচিত্রের তুলনায় আফ্রিকা মহাদেশকে বড় এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে কিছুটা ছোট দেখানো হয়েছে।
বদলে গেল বিশ্বের মানচিত্র, ছোট-বড় হলো কয়েকটি মহাদেশ
কানাডায় ২ শিশুকে ৯ মাস যৌন নিপীড়ন, আর্ট শিক্ষক ফারুক গ্রেপ্তার
অন্টারিওর পিকারিংয়ে দুই কন্যাশিশুকে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সী ফারুক দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে ডারহাম রিজিওনাল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মোট ২২টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
কানাডায় ২ শিশুকে ৯ মাস যৌন নিপীড়ন, আর্ট শিক্ষক ফারুক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কানাডার ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন শুল্কের জবাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডার কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি কানাডীয় ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যে নতুন শুল্ক বসানো হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকা। ইস্পাত, আসবাবপত্র, তাজা টুনা মাছ থেকে শুরু করে তুলার তৈরি পোশাক পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য এ তালিকায় রয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যেসব কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে, তার সঙ্গে মিল রেখে পাল্টা শুল্কের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের কারণে কানাডার শ্রমিক, ব্যবসা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর বাস্তব প্রভাব পড়বে। তাই কানাডাকে এর জবাব দিতে হচ্ছে। তার ভাষায়, কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ হবে অনুপাতভিত্তিক ও কৌশলগত। মার্কিন শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সহায়তায় অতিরিক্ত ৭৫০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটির সরকার। চাকরি হারানো কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখাই এই সহায়তার লক্ষ্য। আরও পড়ুন গোপনে রাশিয়া সফরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান যেসব মার্কিন পণ্যে শুল্ক কানাডা প্রায় ৯০০ ধরনের মার্কিন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে— ১. ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক;২. মধু, আসবাবপত্র, পোশাক, প্রসাধনী ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক;৩. ওয়াশিং মেশিন, বাসন ধোয়ার যন্ত্র, পনির, মাছ ও সামুদ্রিক খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক;৪. কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, যেমন পণ্য ওঠানামার যন্ত্র ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ১৫ শতাংশ শুল্ক। কানাডার কর্মকর্তারা বলেছেন, তালিকায় এমন পণ্য রাখা হয়েছে যেগুলো দেশটির ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অন্য দেশ থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে নিজেদের দেশের ওপর ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। বাণিজ্যযুদ্ধে বাড়ছে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উভয় পক্ষই আলোচনার শেষ মুহূর্তে একে ওপরের অযৌক্তিক দাবির অভিযোগ তুলেছে। কানাডার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস বলেছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক বাজারসুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। তবে কানাডা অযৌক্তিক দাবি ও আলোচনায় বারবার অবস্থান পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। অন্যদিকে ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঠকানোর’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি কানাডার অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর ১ জানুয়ারি থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার হুমকিও দিয়েছেন। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ধ্বংস করতে চাইছেন। তবে উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি করতে চান। এই পাল্টাপাল্টি শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুই দেশের সরবরাহব্যবস্থায় খরচ বাড়লে ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: বিবিসি আরটিভি/জেএমএ
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কানাডার ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক