ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

পুষ্টির সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরে আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী।

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ৬ কোটির বেশি ডিম।

এতে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টি। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচি থাকবে। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হবে।

৩০ বছরে বিশ্ব ডিম দিবস

১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

এবারের ৩০তম বার্ষিকীতে ‘এগউইন’ নামে একটি মাসকটও চালু করা হয়েছে। সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।

বিশ্ব ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যে ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশি গঠন, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সুস্থ বার্ধক্যে এই প্রোটিনের ভূমিকা তুলে ধরা হচ্ছে।

কম দামে পুষ্টির বড় উৎস
ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমে থাকা লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করার ওপরও এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিম বা মুরগি উৎপাদনে গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের ধারণাটি সঠিক নয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তারা দাবি করেছেন।

ডিমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশগত সুবিধা। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় ডিম উৎপাদনে কার্বন ফুটপ্রিন্ট ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কম। ফলে ডিমকে তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎপাদন বাড়লেও চাপে খামারিরা
দেশে ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও খামারিরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে খামার পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকছে।

এতে অনেক সময় ভোক্তাকে বেশি দামে ডিম কিনতে হলেও খামারিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ফলে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

স্কুল ফিডিংয়ে ডিম
শিশুদের অপুষ্টি ও খর্বকায়তা কমানো এবং মেধার বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতেও ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশ্বে চীন শীর্ষে, ব্যবহারে মেক্সিকো
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে চীন। দেশটিতে বছরে প্রায় ৬১৭ বিলিয়ন বা ৬১ হাজার ৭০০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

মাথাপিছু ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। দেশটিতে বছরে গড়ে একজন মানুষ ৪০৯টি ডিম খান। জাপানে এই সংখ্যা ৩৩৭টি। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের ব্যবহার গড়ে ২৭০ থেকে ৩০০টির মধ্যে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের ব্যবহার এখনো কম।

আয়োজকেরা বলছেন, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে দেশে ডিমের ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পোল্ট্রি খাতের খামারি ও উদ্যোক্তাদের আয়ও বাড়বে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪০০ কোটি বছরের রহস্যের সমাধান করলেন দুই বিজ্ঞানী
প্রকৃতিতে একই অণুর দুটি দর্পণ-প্রতিবিম্ব রূপ থাকতে পারে। দেখতে প্রায় একই হলেও একটিকে আরেকটির ওপর পুরোপুরি মেলানো যায় না। রসায়নে এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় কাইরালিটি।
৪০০ কোটি বছরের রহস্যের সমাধান করলেন দুই বিজ্ঞানী
মাটির ৪০০ ফুট গভীরে থিম পার্ক!
মাটির প্রায় ৪০০ ফুট গভীরে তৈরি হয়েছে এক অভিনব থিম পার্ক। রোমানিয়ার প্রাচীন লবণ খনি স্যালিনা তুরদাকে রূপ দেওয়া হয়েছে নজরকাড়া এক ভূগর্ভস্থ বিনোদনকেন্দ্রে। ইতিহাস ও বিনোদনের মেলবন্ধনে তৈরি এই জায়গা দেখতে প্রতিবছর ছুটে আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী।
মাটির ৪০০ ফুট গভীরে থিম পার্ক!
শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় সম্ভাব্য যারা
এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে তুমুল জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন। এ বছর পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলোর অনেকটাই মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এবারের সবচেয়ে চমকপ্রদ সম্ভাবনার একটি হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পূর্বাভাসদাতাদের কেউ কেউ আইএসএসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখছেন। শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলভ এই সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার মতে, বিভিন্ন দেশের মানুষ ও প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করার বিরল প্রতীক হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মহাকাশ স্টেশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত এমন উদ্যোগ বিবেচনায় নেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি তৈরি করে, দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে। পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত ও ফ্রান্সেসকা আলবানিজ রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক। অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ট্রাম্পের নামও আলোচনায় এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে নোবেল কমিটি কোনো নির্দিষ্ট মনোনয়নের বিষয় নিশ্চিত করে না। এপি বলছে, ট্রাম্পের প্রার্থিতা বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শন ডেভিসও ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সুদানের স্বেচ্ছাসেবকেরাও আলোচনায় আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ রয়েছে। ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করেছে। পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সিপিজে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)। পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে। আলোচনায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্নি আলোচনায় এসেছেন।তবে কানাডার সাবেক অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যান মনে করেন, কার্নি পুরস্কার পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, পুরস্কার যেই পান না কেন, ট্রাম্প তাতে খুশি না-ও হতে পারেন। আরটিভি/টিআর
শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় সম্ভাব্য যারা
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
রসায়নের অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের অঁরি বি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই।  সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার (৭ অক্টোবর) এই বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি এবং মানবদেহের জন্য কার্যকরী রাসায়নিক কণা তৈরিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিজয়ীরা সনদ ও মেডেলের পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থ পাবেন, যা তাদের মধ্যে সমবণ্টন করা হবে। ১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রসায়নে নোবেল পুরস্কার মোট ১১৮ বার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ কিছু বছর এই বিভাগে পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের নতুন ২ জন বিজ্ঞানীসহ এ পর্যন্ত রসায়নে মোট নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে মাত্র ২ জন বিজ্ঞানী রসায়নে দুইবার করে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন, ফ্রেডরিক সেঙ্গার (১৯৫৮ ও ১৯৮০) এবং কে. ব্যারি শার্পলেস (২০০১ ও ২০২২)। এছাড়া কিংবদন্তি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরি দুই ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন, ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে। নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ ১৯০১ সালে রসায়নে প্রথম নোবেল পান। রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং দ্রবণের অসমোটিক চাপ আবিষ্কারের মাধ্যমে রসায়নের ভিত্তি গড়ার জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। ২০২৫ সালে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্য/অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং জর্ডান/যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা ধাতব-জৈব কাঠামো তৈরির যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে তারা এই পুরস্কার পান। রসায়নে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি তার স্ত্রী ইরেন জোলিও-ক্যুরির সাথে যৌথভাবে নোবেল পান। কেবল রসায়নেই নয়, নোবেলের পুরো ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়ার অনন্য রেকর্ড বিজ্ঞানী জন বি. গুডএনাফের। ২০১৯ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির নেপথ্য অবদানের জন্য যখন তিনি নোবেল পান, তখন তার বয়স ছিল ৯৭ বছর। নারী বিজয়ী: রসায়নে এ পর্যন্ত মোট ৮ জন নারী নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম নামটি বিজ্ঞানী মেরি কুরির (১৯১১)। রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের রসায়নের এই দুই নতুন নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন হালজেন। বেলজিয়ামের কে ইউ লিউভেন থেকে ১৯৬৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন এই বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে হালজেনকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হালজেন। তার এই চিন্তাই পরবর্তী সময়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ তৈরির ভিত্তি তৈরি করে।  প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বিশাল বরফস্তরের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এসব যন্ত্রের সাহায্যে মহাবিশ্বের দূরবর্তী শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা সামনে আনেন হালজেন। কোনো নিউট্রিনো যখন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেখানে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ মেরুর স্বচ্ছ ও গভীর বরফে স্থাপিত সংবেদনশীল সেন্সরের সাহায্যে সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণার জন্য দক্ষিণ মেরুর বরফকে উপযোগী করে তোলে এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাইরের নানা ধরনের প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত এই বিশাল বরফস্তর এবং ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা গবেষণার জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে। হালজেনের ধারণা তাই পরবর্তী সময়ে অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং দক্ষিণ মেরুতে সেন্সর স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই বিভাগে ১১৯ বার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার পেয়েছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী আর্থার আসকিন। ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
আরও পড়ুন
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
ডিম ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা 
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ বাংলাদেশেও, তবে চাইলেই কি করা যায়?
এসএসসি পাসেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চাকরি, নিয়োগ ৫৩৮ জন