ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শান্তিতে নোবেল জেতার পরই প্রকাশ্যে মারিয়া মাচাদোর ‘অন্ধকার দিক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম
মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ফাইল ছবি

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। আর নোবেল জেতার পরপরই পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।

শুধু তাই নয়; ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কট্টর বিরোধী এই রাজনীতিবিদ ইসরায়েল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একজন প্রকাশ্য সমর্থকও।

শনিবার (১১ অক্টোবর) জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তিতে নোবেল জয়ের পরপরই মাচাদোর একটি সাক্ষাৎকার ভাইরাল হয়েছে, যেটি তিনি এক ইসরায়েলি টিভিকে দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, আমি বিশ্বাস করি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, ইসরায়েলের সমর্থনে আমাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে।

এছাড়া, ২০১৮ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে একটি চিঠি লেখেন তিনি। ওই চিঠিতে নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাত করতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলকে আহ্বান জানান তিনি।

এমনকি গাজায় ইসরায়েল যে বর্বরতা চালিয়ে আসছে, সেটির পক্ষেও নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন ভেনেজুয়েলার এ নারী রাজনীতিবিদ।

সবশেষ নোবেল জয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাচাদো তার পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন।

আরও পড়ুন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ভেনেজুয়েলার এ নেত্রীর। তিনি আত্মগোপনে থেকে ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশি সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মারিয়ার প্রশংসা করে বলেছিলেন, মারিয়া হলেন স্থিতিস্থাপকতা, দৃঢ়তা এবং দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক।

২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এই মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে গ্রেপ্তার করেছিল মাদুরো সরকার। ওই সময় ট্রাম্প নিজে তার মুক্তির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।

এদিকে ‘গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচয় পাওয়া মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল পাওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় তার কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন ‘কোডপিংকের’ লাতিন আমেরিকা ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর ও জন্মসূত্রে ভেনেজুয়েলার নাগরিক মিচেল এলনার। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় এ কলামিস্ট লিখেছেন, ‘মারিয়ার মতো ডানপন্থিরা যখন নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতে তখন শান্তির আসলে কোনো অর্থ হয় না।’

সেই লেখায় মাচাদোর ‘কালো কীর্তির’ একটি বড় তালিকা দিয়েছেন এলনার। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন—

মারিয়া মাচাদো ২০০২ সালের ভেনেজুয়েলার সামরিক অভ্যুত্থানে সহায়তা করেছিলেন, যেটি স্বল্প সময়ের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল। এছাড়া, তিনি কারামোনা ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেটি রাতারাতি ভেনেজুয়েলার সংবিধান এবং সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল।

ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতে মাচাদো অনেকটা প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন। নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভেনেজুয়েলাকে ‘স্বাধীন’ করতে বিদেশি সেনাদের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন এবং সেটিকে উৎফুল্লভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন মারিয়া। এছাড়া, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েনকেও সমর্থন করেছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেও যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন মারিয়া মাচাদো, যদিও তিনি জানেন এ নিষেধাজ্ঞার ফল ভোগ করবে গরীব, অসুস্থ ও কর্মজীবী মানুষরা।

এমনকি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কথিত ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ও গঠন করেছিলেন মাচাদো এবং নিজেই নিজেকে সেই সরকারের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী এ নেত্রী জানিয়েছিলেন, কখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হলে তিনি দেশটির ইসরায়েলি দূতাবাস ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন। ফিলিস্তিনের গাজায় আগ্রাসনের ব্যাপারে দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে একাত্বতাও প্রকাশ করে তিনি।

আর এখন ভেনেজুয়েলার তেল, পানি এবং অবকাঠামো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছেন মাচাদো। ১৯৯০ সালের দিকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশের পরিস্থিতি শুধু খারাপই হয়েছিল।

এছাড়া ২০১৪ সালে ভেনেজুয়েলাজুড়ে ‘লা সালিদা’ নামে একটি আন্দোলন শুরু করেন এই মারিয়া করিনা মাচাদো। পশ্চিমা গণমাধ্যম আন্দোলনটিকে শান্তিপ্রিয় হিসেবে দেখালেও; প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল সহিংস।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক নিহত
পেরুর বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র মাচু পিচু যাওয়ার পথে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাচীন ইনকা নগরীর দিকে যাওয়ার পথে একক রেললাইনে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালক নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই রুটে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর বিবিসির। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার করে কুসকো শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পেরুতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। তবে পুলিশ এখনো হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করেনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। আরও পড়ুন পেরুতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত অন্তত ৩৭ মাচু পিচু যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার আগুয়াস কালিয়েন্তেস এবং অলানতায়তাম্বো স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পেরু২১ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দুর্গম পাহাড়ের খাঁজে এখনো শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ে আছেন। যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন দুটির একটি পরিচালনা করছিল পেরুরেইল এবং অন্যটি ইনকা রেল। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মাচু পিচুর যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবহন সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। মাচু পিচু যাওয়ার ট্রেন ও বাসের টিকিটের দাম অত্যধিক এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় এই ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবহন লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং মুনাফার নেশায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক যাতায়াত করেন। ১৫শ শতকে আন্দিজ পর্বতমালায় নির্মিত এই ইনকা নগরীটি বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। ২০১১ সাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করার নিয়ম থাকলেও পর্যটনের চাপে এই প্রাচীন স্থাপনা ও তার যাতায়াত পথ এখন ঝুঁকির মুখে।  আরটিভি/এআর
২ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক নিহত
ব্রাজিলে ইনফ্লুয়েন্সারের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার
ব্রাজিলের সাও পাওলোতে জনপ্রিয় অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার মারিয়া কাতিয়ানে গোমেস দা সিলভার(২৫) রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ১০ তলা ভবনের ব্যালকনি থেকে পড়ে মারিয়ার মৃত্যুর ১০ দিন পর তার স্বামী ব্যবসায়ী অ্যালেক্স লিয়েনড্রো বিস্পো দস সান্তোসকে(৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।  গত ২৯ নভেম্বর মারিয়ার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, স্বামী সান্তোস মারিয়ার মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। তখন তিনি দাবি করেছিলেন যে, দাম্পত্য কলহের জেরে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তকারীদের কাছে শুরু থেকেই বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। আরও পড়ুন বিশ্বে প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদন দিল ব্রাজিল তদন্ত চলাকালীন ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মোড় ঘুরে যায় পুরো ঘটনার। ব্রাজিলের গণমাধ্যম জি১ ও ও গ্লোবো জানায়, ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার দিন পার্কিং এলাকায় সান্তোস মারিয়াকে শারীরিক নির্যাতন করছেন।  অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লিফটের ভেতর দুজনের বাগবিতণ্ডার সময় সান্তোস মারিয়ার গলার দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে জোর করে টেনে বের করছেন। এর কিছুক্ষণ পরই সান্তোস একা লিফটে ফিরে আসেন। প্রতিবেশীরাও পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার ঠিক আগে ওই ফ্ল্যাট থেকে উচ্চস্বরে ঝগড়ার শব্দ শোনা গিয়েছিল। এরপরই ভবনের বাইরে বিকট শব্দে কিছু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ পাওয়া যায়। এই ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে ৯ ডিসেম্বর সান্তোসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রাজিলের গ্রামাঞ্চল ক্রাতেউস থেকে কাজের খোঁজে একসময় সাও পাওলোতে পাড়ি জমিয়েছিলেন মারিয়া। রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটে কাজ করার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে ভ্রমণ, রূপচর্চা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে তার পোস্টগুলো বিপুল জনপ্রিয় ছিল। হাজার হাজার অনুসারীর কাছে অনুপ্রেরণা হওয়া এই তরুণীর এমন করুণ পরিণতিতে স্তম্ভিত তার ভক্তরা। পুলিশ বর্তমানে সান্তোসকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই মামলাটি এখন ব্রাজিলের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরটিভি/এআর 
ব্রাজিলে ইনফ্লুয়েন্সারের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার
১১ মাস পর প্রকাশ্যে নোবেল বিজয়ী কোরিনা মাচাদো
প্রায় এগারো মাস ধরে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে প্রকাশ্যে দেখা দিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে নরওয়ের অসলো শহরের একটি হোটেলের বারান্দা থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। মাচাদোর জনসম্মুখে শেষ উপস্থিতি ছিল চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। ওইদিন তিনি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর তৃতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। আরও পড়ুন ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযানের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছর অক্টোবরে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই মাচাদো জানিয়েছিলেন, তিনি সশরীরে অসলোতে পুরস্কার গ্রহণ করতে চান। তবে মাদুরো সরকার মাচাদোর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দেন যে দেশত্যাগ করলে তাকে পলাতক গণ্য করা হবে। এই পুরস্কারের প্রতিক্রিয়ায় নরওয়েতে নিজেদের দূতাবাসও বন্ধ করে দেয় মাদুরো সরকার। সরকারি বিধিনিষেধ ও নজরদারি সত্ত্বেও মাচাদো গোপনে ভেনেজুয়েলা ছাড়তে সক্ষম হন। যদিও বুধবার (১০ ডিসেম্বর) অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। তার অনুপস্থিতিতেই পুরস্কার প্রদান সম্পন্ন হয়।  আরটিভি/এআর
১১ মাস পর প্রকাশ্যে নোবেল বিজয়ী কোরিনা মাচাদো
বিশ্বে প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদন দিল ব্রাজিল
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিশ্বের প্রথম এক-ডোজের ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দিয়েছে ব্রাজিল। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘আনভিসা’ সাও পাওলোর বুটান্টান ইনস্টিটিউটে তৈরি এই বুটান্টান-ডিভি টিকাটির ব্যবহারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এখন থেকে ১২ থেকে ৫৯ বছর বয়সীরা এই টিকা নিতে পারবেন। খবর এনডিটিভির। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে থাকা একমাত্র ডেঙ্গু টিকা টিএকে-০০৩ (TAK-003) নিতে হয় তিন মাস ব্যবধানে দুটি ডোজে। ফলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নতুন এই এক-ডোজ টিকাটি দ্রুত ও সহজ টিকাদান কর্মসূচি চালাতে বড় ধরনের সহায়তা করবে। আরও পড়ুন ব্রাজিলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলসোনারোকে ২৭ বছরের জেল, কারাভোগের নির্দেশ বুটান্টান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, আট বছর ধরে চলা গবেষণা এবং ১৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরিচালিত ট্রায়ালে এই টিকাটি গুরুতর ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। বুটান্টান ইনস্টিটিউটের পরিচালক এসপার ক্যালাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি ব্রাজিলের বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। যে রোগ আমাদের দশকের পর দশক কষ্ট দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে এখন শক্তিশালী অস্ত্র হাতে পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তির কারণে এটি হাড়ভাঙা জ্বর  নামেও পরিচিত। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ৪৬ লাখ ডেঙ্গু রোগী এবং প্রায় ১২ হাজার মৃত্যু রেকর্ড করেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এই মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটে ব্রাজিলে। গবেষকরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাড়তি তাপমাত্রা এডিস মশার বিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন এলাকাতেও ডেঙ্গুর দেখা মিলছে যেখানে আগে এ রোগ ছিল বিরল। মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও জোরদার করতে ব্রাজিল ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চীনা প্রতিষ্ঠান উক্সি বায়োলজিক্সের কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা আনার চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী আলেক্সান্দ্রে পাদিলিয়া। আরটিভি/এআর 
বিশ্বে প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদন দিল ব্রাজিল
ব্রাজিলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলসোনারোকে ২৭ বছরের জেল, কারাভোগের নির্দেশ
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চক্রান্ত করার দায়ে সুপ্রিম কোর্ট তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আদালত এই মামলার সব কার্যক্রম শেষ করে তার দণ্ডকে চূড়ান্ত হিসেবে ঘোষণা করেন। ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাকে বর্তমানে ব্রাসিলিয়ায় ফেডারেল পুলিশ সদর দপ্তরে সাজা ভোগ শুরু করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস বলসোনারোকে ফেডারেল পুলিশ সদর দপ্তরে তার সাজা ভোগ শুরু করতে নির্দেশ দেন। এর আগে গৃহবন্দী থাকাকালে '‘অ্যাংকল মনিটর’ নষ্ট করার অভিযোগে গত শনিবার থেকে তিনি সেখানেই আটক রয়েছেন। আরও পড়ুন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারো গ্রেপ্তার চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতা ধরে রাখতে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা, সশস্ত্র ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতিসাধনের অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কট্টর ডানপন্থি লিবারেল পার্টির (পিএল) সদস্য বলসোনারো ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে প্রায় ২৭ বছর তিনি ডেপুটিদের চেম্বারে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। তার সমালোচকরা অভিযোগ করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। ২০২২ সালের রানঅফ ভোটে তিনি অল্প ব্যবধানে বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে পরাজয় স্বীকার করেননি। পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে লুলা দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ পর। বলসোনারো তখন দেশ ছাড়েন, কিন্তু তার সমর্থকেরা ব্রাসিলিয়ার থ্রি পাওয়ারস প্লাজায় ঢুকে সরকারি ভবন ভাঙচুর করে। এই ঘটনার পর একাধিক ফেডারেল তদন্ত শুরু হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফেডারেল পুলিশ ৮৮৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বলসোনারো ও তার সহযোগীরা নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন হয়। তবে তার আইনজীবীরা বারবার দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বলসোনারোও নিজেকে নির্দোষ বলে আসছেন। আরটিভি/এআর 
ব্রাজিলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলসোনারোকে ২৭ বছরের জেল, কারাভোগের নির্দেশ
আরও পড়ুন
গণহত্যার পক্ষে দাঁড়ানো মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার, অ্যাসেঞ্জের মামলা
বিয়ে করেও ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না গায়ক নোবেল
শান্তিতে নোবেলজয়ী নারীকে গ্রেপ্তার করল ইরান
১১ মাস পর প্রকাশ্যে নোবেল বিজয়ী কোরিনা মাচাদো